হিলিতে বিজিবির অভিযানে মাদকসহ বাবা ও দুই ছেলেসহ গ্রেপ্তার ৪
দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী হাকিমপুর (হিলি) উপজেলায় মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে চারজন চিহ্নিত মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। চাঞ্চল্যকর এই মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একই পরিবারের বাবা এবং তাঁর আপন দুই ছেলে রয়েছেন। শনিবার দিবাগত গভীর রাতে পরিচালিত এই আকস্মিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের হাকিমপুর থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয় এবং পুলিশ কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করেছে। সীমান্ত এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন ধারাবাহিক অভিযান স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
বিজিবির দায়িত্বশীল সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক দুইটার দিকে হাকিমপুর উপজেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল ধরন্দা এবং মুহাড়াপাড়া এলাকায় মাদক চোরাচালানের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়। রাতের নিস্তব্ধতাকে কাজে লাগিয়ে চোরাকারবারিরা যখন মাদকের চালান হাতবদলের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক সেই মুহূর্তেই বিজিবির একটি চৌকস আভিযানিক দল সেখানে অতর্কিতে হানা দেয়। ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে অবৈধভাবে বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুত রাখা ৭১১ পিস নেশাজাতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট এবং ১২ বোতল ফেনসিডিল জব্দ করতে সক্ষম হন বিজিবি সদস্যরা। সীমান্ত গলে আসা এসব মাদকদ্রব্য যুবসমাজের হাতে পৌঁছানোর আগেই তা উদ্ধার করা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই মাদকবিরোধী অভিযানে হাতেনাতে গ্রেপ্তার হওয়া চারজন মাদক কারবারির পরিচয় নিশ্চিত করেছে প্রশাসন। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন হলেন ধরন্দা গ্রামের মৃত রেজাউল মণ্ডলের ছেলে বেলাল হোসেন। অন্যদিকে, একই অভিযানে মহেরাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মাহে আলম এবং তার দুই ছেলে রেজওয়ান প্রধান রিমন ও শাহরিয়ার প্রধান রিফাতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাবা ও ছেলেদের একসঙ্গে এমন জঘন্য মাদক ব্যবসায় সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়টি স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পারিবারিক পরিমণ্ডলে এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিস্তার সামাজিক অবক্ষয়ের এক ভয়াবহ চিত্রকেই জনসমক্ষে উন্মোচিত করেছে।
হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সংবাদমাধ্যমকে এই সফল অভিযান ও গ্রেপ্তারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিজিবির পক্ষ থেকে আটককৃত আসামিদের থানায় হস্তান্তরের পর তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি সুনির্দিষ্ট মামলা রুজু করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশ ও বিজিবি সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে রোববার সকালে গ্রেপ্তারকৃত চার আসামিকে অত্যন্ত কড়া পুলিশি পাহারায় দিনাজপুরের আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে জানা গেছে।
মাদকের ভয়াল থাবা থেকে সমাজকে রক্ষা করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন কঠোর ও আপসহীন অভিযান সত্যিই প্রশংসনীয়। বাবা ও ছেলেদের মতো একই পরিবারের সদস্যদের মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ার ঘটনা প্রমাণ করে যে, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এখন কতটা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। দেশের যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে এবং সীমান্ত অঞ্চলে চোরাচালান সম্পূর্ণ নির্মূল করতে বিজিবি ও পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ নাগরিকদেরও ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে।

