শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
শিরোনাম:
উখিয়া সীমান্তে বিজিবির ঝটিকা অভিযান: ৪০ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক ১উখিয়ায় পিস্তল ও গুলিসহ আরসার সক্রিয় সন্ত্রাসী জহির গ্রেফতারশাহপরীর দ্বীপে কোটি টাকার আইসের চালান জব্দ করল র‍্যাব-১৫বাংলাদেশ প্রেসক্লাব গাজীপুর মহানগর শাখার উদ্যোগে আনন্দঘন পরিবেশে নৌকা ভ্রমণ-২০২৬ অনুষ্ঠিতহিলিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনহিলিতে নানা আয়োজনে সীমান্ত ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিতহিলি কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নবনির্বাচিত কমিটির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিতউখিয়ায় ‘দক্ষিণ থাইংখালী পুঁটিবনিয়া প্রবাসী কল্যাণ সমবায় সমিতি’ গঠিত: মিলাদ ও দোয়ার মাধ্যমে যাত্রা শুরুউখিয়ায় বিজিবির চার সফল অভিযান: ২ লাখ ৯৪ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক ২, জিপ ও নৌকা জব্দউখিয়ায় জেলের ছদ্মবেশে ইয়াবা পাচারকালে ৫০ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক ১উখিয়া সীমান্তে মিয়ানমারে পাচারের সময় বিপুল সার ও তেলসহ আটক ১রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বর্জ্যের দৃশ্যমান স্তূপ: হুমকির মুখে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য।‎নাফ নদীতে মাইন বিস্ফোরণে পা হারানো বদিউল আলম দীর্ঘ ২৩ দিন চিকিৎসা শেষে বাসায় আসলেন।টেকনাফে ৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার।কক্সবাজারের চাঞ্চল্যকর জাহাঙ্গীর হ/ত্যা মামলার প্রধান আসামি চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার।

নরসিংদীর ভেলানগরে মাদক সম্রাট সমীর মিয়ার অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী, দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি

তৌহিদুল ইসলাম প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ১২:০৯ অপরাহ্ণ
নরসিংদীর ভেলানগরে মাদক সম্রাট সমীর মিয়ার অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী, দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি
৩৬৮

নরসিংদীর ভেলানগর এলাকায় চিহ্নিত মাদকসেবী ও কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী মোঃ সমীর মিয়া (৪০)-এর চরম উৎপাত, অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং ক্রমাগত যন্ত্রণায় সাধারণ এলাকাবাসী চরম অতিষ্ঠ ও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় সমাজ ও যুব সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে ভেলানগরের সর্বস্তরের মানুষ এখন এই মাদক কারবারির হাত থেকে মুক্তি চান। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাদক ব্যবসার মাধ্যমে এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারকারী এই অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন নরসিংদী ভেলানগর এলাকার মৃত মোঃ শব্দর আলীর ছেলে মোঃ সমীর মিয়া।

স্থানীয় ভেলানগর এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী বাসিন্দা অত্যন্ত ক্ষোভ ও আক্ষেপের সাথে জানান, সমীর মিয়া দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অবাধে নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য বিক্রি করে আসছেন। তিনি শুধু মাদক বিক্রিই করেন না, বরং নিজে একজন নিয়মিত উগ্র মাদকসেবী হিসেবেও এলাকায় পরিচিত। এলাকার কোনো সচেতন নাগরিক বা মুরুব্বি যদি কখনো তাঁর এই সমাজবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে যান কিংবা কোনো কিছু বলতে চান, তবে সমীর মিয়া ও তাঁর সহযোগীরা তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের সাথে অত্যন্ত নোংরা ও খারাপ ব্যবহার করে। শুধু তাই নয়, প্রতিবাদকারীদের নানা ধরনের হুমকি-ধমকিও প্রদান করা হয়। ফলে তাঁর এমন উগ্র মেজাজ ও সন্ত্রাসী আচরণের ভয়ে সাধারণ এলাকাবাসী মুখ খুলে সরাসরি কিছু বলতে সাহস পান না।

এলাকার সচেতন সুধী সমাজ ও শিক্ষাবিদেরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ভেলানগরসহ নরসিংদীর এই অঞ্চলে মাদকের এই মরণছোবল দ্রুত ও কঠোরভাবে বন্ধ করতে হবে। কারণ, মাদকের সহজলভ্যতার কারণে আমাদের তরুণ ও যুব সমাজ আজ সম্পূর্ণ ধ্বংসের পথে এসে দাঁড়িয়েছে। এলাকার কিশোর ও যুবকেরা যেভাবে দিন দিন মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে, তাতে সামাজিক অবক্ষয় ও অপরাধ প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই ভেলানগরের সামাজিক পরিবেশ রক্ষা করতে সমীর মিয়ার মতো চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের সমাজ থেকে দ্রুত নির্মূল করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

অনুসন্ধানে এবং স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যে আরও জানা গেছে যে, মোঃ সমীর মিয়া কোনো নতুন অপরাধী নন; বরং এর আগেও মাদকসহ হাতেনাতে ধরা পড়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করা হয়েছিল। উক্ত মামলায় বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত হয়ে তিনি কিছুদিন আগে কারাদণ্ডও ভোগ করেছেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠ থেকে জামিনে বা সাজা খেটে বের হয়ে আসার পর তিনি তাঁর পুরোনো অপরাধের পথ পরিহার করেননি। বরং কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফিরে এসে দ্বিগুণ উৎসাহে আবারও সেই নিষিদ্ধ মাদক ব্যবসা ও সিন্ডিকেট পুরোদমে সচল করেছেন। সমীর মিয়ার এমন দুঃসাহসিক ও বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে ভেলানগরের শান্তিপ্রিয় মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। বর্তমান উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণ ও সুধী সমাজ পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সুদৃষ্টি কামনা করছেন। সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ীকে যেন অতি দ্রুত পুনরায় আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়, প্রশাসনের নিকট এই জোর দাবি জানিয়েছেন ভেলানগরবাসী।

জেল থেকে বের হয়ে আবারও মাদক ব্যবসায় লিপ্ত হওয়া প্রমাণ করে যে, মোঃ সমীর মিয়ার মতো অপরাধীরা সমাজ ও আইনের প্রতি কতটা শ্রদ্ধাহীন। নরসিংদীর ভেলানগরের যুব সমাজকে রক্ষা করতে এবং এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এই চিহ্নিত মাদক কারবারিকে অতি দ্রুত গ্রেপ্তার করা প্রশাসনের জন্য এখন সময়ের দাবি।

Download Photocard

Polls

আজকের প্রশ্ন

আপনি বাংলা নিউজ টিভির পেইজে লাইক ফলো দিয়েছেন কি?

View Results

Loading ... Loading ...

উখিয়া সীমান্তে বিজিবির ঝটিকা অভিযান: ৪০ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক ১

মোঃ হারুন অর রশিদ, উখিয়া প্রতিনিধি (কক্সবাজার) প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:১৬ অপরাহ্ণ
উখিয়া সীমান্তে বিজিবির ঝটিকা অভিযান: ৪০ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক ১

কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্তে অপরাধ দমন ও মাদকবিরোধী জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে এক সফল অভিযান পরিচালনা করে ৪০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মোঃ কামাল (৩৩) নামের এক চিহ্নিত মাদক কারবারিকে হাতেনাতে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৬৪ বিজিবি)। বিজিবির আভিযানিক দলের বিচক্ষণতা ও সতর্ক অবস্থানের কারণে সীমান্ত পারাপারের এই বড় ধরনের মাদক চোরাচালানের চেষ্টা সম্পূর্ণ ভেস্তে গেছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) গভীর রাতে উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধীনস্থ বালুখালী বিওপির একটি বিশেষ আভিযানিক টহল দল সীমান্ত সংলগ্ন কাটাপাহাড় এলাকার শাহজাহানের ঘের নামক স্থানে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এই ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে। বিজিবি সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, আটককৃত মোঃ কামাল উখিয়া থানাধীন বালুখালী জমিদারপাড়া গ্রামের অধিবাসী কবির আহমেদের ছেলে।

ঘটনার বিশদ বিবরণ প্রদান করে বিজিবি সূত্র জানায়, মিয়ানমার সীমান্ত অঞ্চল থেকে একদল চোরাকারবারি বিপুল পরিমাণ মাদকের চালান নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছে—এমন একটি সুনির্দিষ্ট ও গোপন গোয়েন্দা তথ্য পান বালুখালী বিওপির টহল দলের সদস্যরা। উক্ত খবরের ভিত্তিতে বিজিবি সদস্যরা কালবিলম্ব না করে উখিয়ার কাটাপাহাড় শাহজাহানের ঘের এলাকায় আড়াল নিয়ে কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে রাত আনুমানিক ৮টার দিকে মায়ানমার সীমান্ত এলাকা অতিক্রম করে এক ব্যক্তিকে চরম সতর্কতার সাথে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেখেন বিজিবি সদস্যরা।

সন্দেহভাজন ব্যক্তিটি কাছাকাছি পৌঁছালে বিজিবির চৌকস দল তাকে লক্ষ্য করে থামার জন্য চ্যালেঞ্জ জানায়। তবে বিজিবির স্বশরীরে উপস্থিতি টের পেয়ে উক্ত ব্যক্তি সাথে থাকা মালামালসহ দ্রুত কৌশলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। সে সময় বিজিবি সদস্যরা তাকে চারদিক থেকে ধাওয়া দিয়ে ঘটনাস্থল থেকেই জাপটে ধরে আটক করতে সক্ষম হন। আটক করার পর উপস্থিত সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তার দেহ ও সঙ্গে থাকা মালামাল তল্লাশি করা হয়। তল্লাশিকালে তার হাতে থাকা একটি কালো পলিথিনে মোড়ানো খাকী প্যাকেটের ভেতর থেকে বিশেষ কৌশলে রাখা নীল রঙের ৪টি প্যাকেটে মোট ৪০,০০০ (চল্লিশ হাজার) পিস ক্ষতিকারক ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার ও আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়।

আটককৃত মোঃ কামালকে ঘটনার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে বিজিবির কাছে সরাসরি স্বীকার করেছে যে, সীমান্ত পার হয়ে মায়ানমার এলাকা থেকে অত্যন্ত কম মূল্যে এই বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট ক্রয় করে সংগ্রহ করেছিল। পরবর্তীতে দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা মাদক কারবারিদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করে অবৈধ মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যেই সে এগুলো বহন করছিল।

এই সফল অভিযান ও বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দের সত্যতা সুনিশ্চিত করে উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক জানান, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি যেকোনো ধরনের মাদকদ্রব্য অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান সম্পূর্ণ নির্মূল করতে বিজিবির প্রতিটি সদস্য সর্বোচ্চ সতর্ক ও কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই চালানের পেছনের মূল সরবরাহকারী, অর্থদাতা ও নেপথ্যের কারবারীদের সঠিকভাবে সনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য সীমান্ত জুড়ে বিজিবির নিজস্ব গোয়েন্দা নজরদারি ব্যাপকভাবে জোরদার করা হয়েছে। আটককৃত আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রক্রিয়া বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সীমান্ত দিয়ে ক্ষতিকর ইয়াবা ও মাদকের অনুপ্রবেশ বন্ধে ৬৪ বিজিবির এই সময়োপযোগী ও জোরালো অভিযান অত্যন্ত প্রশংসনীয়। সীমান্ত রক্ষীদের এমন কঠোর ও নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি অব্যাহত থাকলে দেশের যুবসমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।

উখিয়ায় পিস্তল ও গুলিসহ আরসার সক্রিয় সন্ত্রাসী জহির গ্রেফতার

মোঃ হারুন অর রশিদ, উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:১১ অপরাহ্ণ
উখিয়ায় পিস্তল ও গুলিসহ আরসার সক্রিয় সন্ত্রাসী জহির গ্রেফতার

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মিয়ানমারের সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) এক সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১৫)। এই উদ্ধার অভিযানে সন্ত্রাসী সদস্যটির কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং চার রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এহেন সফল অভিযানে ক্যাম্প এলাকার সাধারণ বাসিন্দাদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

র‌্যাব সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, শনিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ১২টা ২০ মিনিটের দিকে উখিয়া থানাধীন ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মরাগাছতলা এলাকার মাল্টিপারপাস কমিউনিটি অ্যান্ড সার্ভিস সেন্টারের সামনের পাকা রাস্তার ওপর চেকপোস্ট স্থাপন করে এই ঝটিকা অভিযানটি চালানো হয়। গ্রেফতারকৃত সন্ত্রাসীর নাম মোহাম্মদ জহির (১৯)। সে উখিয়ার ময়নারঘোনা ১২ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের (ব্লক-০২)-এর স্থায়ী বাসিন্দা রশিদ আহম্মদের ছেলে।

অভিযানের বিষদ বিবরণ দিয়ে র‌্যাব-১৫ জানায়, গোপন সংবাদের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সিপিসি-২ (হোয়াইক্যং ক্যাম্প)-এর একটি চৌকস আভিযানিক দল মরাগাছতলা সাকিনস্থ ইট সলিং রাস্তার ওপর বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি কার্যক্রম শুরু করে। ওই সময় পথচারীদের চলাচলের মাঝে যুবক জহিরের গতিবিধি ও উপস্থিতি অত্যন্ত সন্দেহজনক মনে হলে র‌্যাব সদস্যরা তাকে থামার সংকেত দেন এবং আটক করেন। পরবর্তীতে স্থানীয় নিরপেক্ষ সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তার দেহ তল্লাশি করে পরিহিত পোশাকের ভেতর থেকে একটি বিদেশি তৈরি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও চার রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার ও জব্দ করা হয়।

গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত তরুণ সন্ত্রাসী জহির স্বীকার করেছে যে, সে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠন আরসার (ARSA) একজন সক্রিয় ও তালিকাভুক্ত সদস্য। সে দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অভ্যন্তরে বেআইনি অস্ত্র বহন, সাধারণ রোহিঙ্গাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নানাবিধ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল।

ঘটনার সত্যতা ও আইনানুগ ব্যবস্থার বিষয়ে নিশ্চিত করে র‌্যাব-১৫-এর সহকারী পরিচালক (ল’ অ্যান্ড মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক জানান, আটককৃত জহিরের বিরুদ্ধে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি নিজ হেফাজতে রাখার অপরাধে ১৮৭৮ সালের প্রচলিত অস্ত্র আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধারকৃত অবৈধ আলামতসহ তাকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় র‌্যাবের এই মাদক ও অস্ত্রবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে বিভিন্ন সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তৎপরতা রোধে র‌্যাবের এমন ধারাবাহিক ও সফল অভিযান অত্যন্ত সময়োপযোগী। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার মাধ্যমে ক্যাম্প ও স্থানীয় সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার হবে।

শাহপরীর দ্বীপে কোটি টাকার আইসের চালান জব্দ করল র‍্যাব-১৫

মোঃ হারুন অর রশিদ, উখিয়া প্রতিনিধি (কক্সবাজার) প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৪ অপরাহ্ণ
শাহপরীর দ্বীপে কোটি টাকার আইসের চালান জব্দ করল র‍্যাব-১৫

কক্সবাজারের সীমান্তবেষ্টিত টেকনাফ উপজেলায় এক বিশেষ ও সাহসিক অভিযান পরিচালনা করে আনুমানিক কয়েক কোটি টাকা মূল্যমানের ৩ কেজি ক্রিস্টাল মেথ (আইস) উদ্ধার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-১৫)। সীমান্ত পার হয়ে আসা ভয়াল এই মাদকের চালান জব্ধ করার বিষয়টি শনিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সরকারি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন র‍্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক (ল’ অ্যান্ড মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক।

র‍্যাবের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সুনির্দিষ্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত শুক্রবার (০৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে র‍্যাব-১৫, সিপিসি-১ (টেকনাফ ক্যাম্প)-এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল একটি তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য পায়। আভিযানিক দলটি জানতে পারে যে, টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত শাহপরীর দ্বীপ মাঝের ডেইল এলাকায় জনৈক খামিন মাঝির বসতবাড়ির পাশে কতিপয় মাদক কারবারি বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য কেনাবেচার উদ্দেশ্যে গোপন অবস্থান গ্রহণ করেছে।

প্রাপ্ত সুনির্দিষ্ট খবরের ভিত্তিতে গভীর রাতে আনুমানিক ১টা ১০ মিনিটে র‍্যাবের চৌকস দল উক্ত স্থানে অভিযান চালাতে পৌঁছায়। এ সময় এলাকাটিতে র‍্যাব সদস্যদের উপস্থিতি ও কৌশলগত অবস্থান টের পেয়ে ধূর্ত মাদক ব্যবসায়ীরা একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ ফেলে রেখেই রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে র‍্যাব সদস্যরা স্থানীয় নিরপেক্ষ সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত প্লাস্টিকের ব্যাগটি নিয়ম অনুযায়ী তল্লাশি করেন। ব্যাগটির ভেতর থেকে ১ কেজি করে মোট ৩টি অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। চায়ের প্যাকেটের আদলে তৈরি প্যাকেটগুলোর গায়ে “GUANYINWANG” লেখা ছিল এবং সেগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে নিখাদ ৩ কেজি ক্রিস্টাল মেথ (আইস) জব্দ করা হয়।

অভিযান শেষে র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক তথ্যে উঠে এসেছে যে একটি সুচিহ্নিত ও সংগঠিত মাদক কারবারি চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী মায়ানমার সীমান্ত ব্যবহার করে অত্যন্ত গোপনে এই মারাত্মক ও নতুন প্রযুক্তির মাদক দেশে নিয়ে আসছিল। পরবর্তীতে এসব চালান কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তরুণ সমাজের হাতে ছড়িয়ে দেওয়া হতো। উদ্ধারকৃত কোটি টাকার এই আইসের চালান পরবর্তী আইনি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সাথে এই ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত ও পলাতক আসামিদের দ্রুত সনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে র‍্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিশেষ চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদকের প্রবেশের বিরুদ্ধে র‍্যাবের এই ধরনের কঠোর ও ধারাবাহিক অভিযান দেশের যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রশংসনীয়। টেকনাফ ও সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা গেলে এমন ভয়াল আইস চোরাচালান সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব হবে।