উখিয়ায় র্যাব ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযান: বিদেশি পিস্তলসহ রোহিঙ্গা আটক
কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্তে যৌথ বাহিনীর এক দুঃসাহসিক অভিযানে বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও তাজা গুলিসহ হাফেজ শফিক (১৯) নামের এক অস্ত্রধারী রোহিঙ্গা তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। র্যাব-১৫ এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত এক যৌথ আভিযানিক দল গভীর রাতে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তাঁকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সমর্থ হয়। উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে একটি প্রফেশনাল বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং তাতে লোড করা তিন রাউন্ড গুলি। এ ঘটনায় সীমান্ত ও স্থানীয় রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুসংহত রাখা সহ সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ, অবৈধ অস্ত্র বিস্তার, মাদক চোরাচালান এবং নানা ধরনের সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় সীমান্ত এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে র্যাব-১৫ নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি ও ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে আসছে। সম্প্রতি উখিয়া সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অস্ত্রের উপস্থিতি সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এই যৌথ অভিযানের পরিকল্পনা ও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত সোমবার (০৩ আগস্ট ২০২৬) রাত আনুমানিক ৩টা ২০ মিনিটের দিকে র্যাব-১৫ এর সিপিসি-২ এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি যৌথ দল কক্সবাজার জেলার উখিয়া থানাধীন পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী এলাকার ময়নার ঘোনার মরাগাছতলা বাজারে অবস্থান নেয়। সেখানে কামালের মুদি দোকানের সামনে যৌথ বাহিনীর টহল দল বিশেষ অভিযান পরিচালনা শুরু করে। যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি ও সশস্রে অবস্থান টের পেয়ে উপস্থিত এক তরুণ কৌশলে দ্রুত সটকে পড়ার চেষ্টা চালায়। পরিস্থিতি অনুধাবন করে আভিযানিক দল তাকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে এবং তাৎক্ষণিকভাবে আটক করতে সক্ষম হয়।
পরবর্তীতে উপস্থিত লোকজনের সামনে আটককৃত তরুণের দেহ নিবিড়ভাবে তল্লাশি করা হয়। তল্লাশিকালে তার পরিহিত লুঙ্গির ডান পাশের কোমরে অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে গুঁজে রাখা অবস্থায় একটি মানসম্মত বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, ম্যাগাজিনে থাকা মোট তিন রাউন্ড গুলি (যার মধ্যে দুটি সম্পূর্ণ তাজা ও একটি আঘাতপ্রাপ্ত) এবং একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত তরুণ হাফেজ শফিক (১৯) উখিয়ার ক্যাম্প-১১-এর ব্লক-এ/৬-এর বাসিন্দা ফারুক আহমেদ ও লায়লা বেগমের ছেলে। তার এফসিএন নম্বর ১৭২৬১৪।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত রোহিঙ্গা হাফেজ শফিক অবৈধ অস্ত্র বহনের বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট বা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা প্রদান করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত অস্ত্র আইনে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেপ্তারকৃত আসামি, জব্ধকৃত বিদেশি পিস্তল, গুলি ও অন্যান্য আলামত সহ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অস্ত্রের অপব্যবহার রোধ, সন্ত্রাস দমন এবং সাধারণ মানুষের সার্বিক জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে এ ধরনের যৌথ অভিযান ভবিষ্যতেও নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত থাকবে বলে যৌথ বাহিনীর পক্ষ থেকে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে।
উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও তৎসংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অস্ত্রের অনুপ্রবেশ ও অপরাধমূলক তৎপরতা বন্ধে র্যাব ও সেনাবাহিনীর এই যৌথ সাফল্য অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এ ধরনের কঠোর ও সময়োপযোগী তদারকি সীমান্ত এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।







