বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫২ অপরাহ্ন

জলঢাকা থানার ভিতরে পতিত জমিতে সবজি চাষ।
মশিয়ার রহমান, নীলফামারী প্রতিনিধিঃ / ২১০ বার দেখা হয়েছে
আপডেট শুক্রবার, ১ মার্চ, ২০২৪

Views: 3

নীলফামারীর জলঢাকা থানার পতিত জমিতে নিজের পকেটের টাকা খরচ করে বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজির আবাদ করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুক্তারুল আলম ।

পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সবজির বাগান করে প্রশংসিত হচ্ছেন তিনি। তার এই উদ্যেগের ফলে থানায় কাজ করা পুলিশ সদস্যদের খাবারের চাহিদা অনেকাংশে পূরণ হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্যবহার না থাকায় ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছিল থানা এলাকার ফাঁকা জায়গা গুলো । ওসি মুক্তারুল আলম এই থানায় যোগদানের পর থেকে দৃশ্যপট পরিবর্তন হতে শুরু করে। নিজের পকেটের টাকা ও সহকর্মীদের সহায়তায় পতিত ওই জমিতে বিভিন্ন  ধরনের শাক-সবজি চাষ করেন।

এই জমির সবজি থানায় কর্মরত পুলিশ সদস্য ছাড়াও স্থানীয়দের খাবারের চাহিদা পূরণ করছে। একইসঙ্গে থানায় সেবা নিতে আসা মানুষজনও নিজেদের বাড়ির আঙ্গিনায় সবজি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরিচর্যায় এক সময়ে পতিত জমিটি সবুজে পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এ বাগানে কাঁচা মরিচ, পিয়াজ, রসুন, বেগুন, ফুলকপি, বাধাকপি, টমেটো, শিম, পেঁপে,মিষ্টি কুমড়ার মতো সবজির চাষ হচ্ছে।শাকের মধ্যে রয়েছে লাল শাক, পুঁইশাক, ডাটাশাক ও লাউ চাষ হচ্ছে। থানায় অভিযোগ করতে আসা আমিনুর রহমান বলেন, থানার জায়গা একসময় আর্বজনার ভাগাড় ছিল। কিন্তু সেই জায়গায় সবজি বাগান করার কারণে থানার রূপ বদলে গেছে। আমাদের বাড়ির পাশে অনেক পতিত জমি রয়েছে।

আমি সেই জায়গায় সবজি ও ফুলের বাগান করবো বলে চিন্তা করছি। সবজি বাগান পরিচর্যার দায়িত্বে থাকা কনস্টেবল রেজওয়ানুল হক বলেন, থানায় ডিউটি শেষে অবসর সময়ে সবজি বাগান পরিচর্যার কাজ করি। এতে অনেক ভালো লাগে। বর্তমানে আমাদের শাক-সবজি কিনতে হয় না।

বিষমুক্ত সবজি আমাদের খাদ্য ও ভিটামিনের চাহিদা পূরণ করছে। ওসি মুক্তারুল আলম জানান  আমি এই থানায় যোগদানের পর দেখতে পাই,থানা চত্বরের পতিত জমি প্রায়  ময়লস আর্বজনা ও গর্ত ছিল। এই জমিতে মানুষজন ময়লা-আবর্জনা ফেলতেন।

বর্ষা মৌসুমে এই জায়গায় অনেক পানি জমে থাকতো। মাঝে মধ্যে প্রচুর দুর্গন্ধ  থানার ভেতরেও চলে আসতো। ফলে থানার কার্যক্রম পরিচালনায় বেগ পেতে হতো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দেয়ার পর তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে থানার জমিতে সবজির চাষ শুরু করি। পরে থাকা পতিত জমিতে বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি লাগিয়ে চাষ করছি। আর এ কাজে আমার সহকর্মীরা সহায়তা করছেন।

তিনি আরও বলেন, ফরমালিন ও কীটনাশক মুক্ত এই সবজি থানার পুলিশ সদস্যদের খাদ্যের চাহিদা মেটাতে ভূমিকা রাখছে। এতে পুলিশ সদস্যদের কিছুটা হলেও অর্থের সাশ্রয় হচ্ছে।এছাড়াও থানা চত্বরের বাউন্ডারি ওয়ালের পাশদিয়ে চতুরদিকে সুপারি গাছ ও নারিকেল গাছ রোপন কাজ চলমান আছে।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সুমন আহম্মেদ বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনাবাদী জমিতে সবজি চাষ করতে হবে। সে লক্ষে কৃষি বিভাগ কাজ করছে। থানা চত্বরে সবজি চাষ, এটা খুবই ভালো উদ্যোগ। কৃষি বিভাগ থেকে তাদেরকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। এছাড়াও বিভিন্ন সরকারি অফিস প্রাঙ্গণ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আঙ্গিণায় সবজি চাষাবাদের জন্য কৃষি বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও
Popular Post
Last Update