শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০২ অপরাহ্ন

ইসরাইল-লেবানন ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর
আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ১ বার দেখা হয়েছে
আপডেট শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬
হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্প, বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং লেবাননের পতাকার সমন্বয়ে একটি যুদ্ধবিরতির সংবাদ চিত্র।
হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্প, বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং লেবাননের পতাকার সমন্বয়ে একটি যুদ্ধবিরতির সংবাদ চিত্র।

Views: 2

দীর্ঘ সংঘাতের পর অবশেষে এক স্বস্তির খবর এলো মধ্যপ্রাচ্য থেকে। ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার অবসান ঘটাতে ১০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে। এই যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি আরও বড় খবর হলো, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে প্রথমবারের মতো একটি ঐতিহাসিক বৈঠকের উদ্যোগ নিচ্ছেন। বিশ্ব সংবাদ সংস্থা এএফপি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্টের মধ্যস্থতায় এই চুক্তিটি সম্পন্ন হয়েছে, যা পুরো অঞ্চলে শান্তির নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, গ্রিনিচ মান সময় ২১টা থেকে এই যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছে। তিনি তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ উল্লেখ করেন যে, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে অত্যন্ত ইতিবাচক ফোনালাপের পর এই সমঝোতা সম্ভব হয়েছে। ট্রাম্প আরও জানান, আগামী চার বা পাঁচ দিনের মধ্যে হোয়াইট হাউসে দুই নেতার একটি শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। উল্লেখ্য যে, এটি হবে ইসরাইল ও লেবাননের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বের মধ্যে প্রথম কোনো আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ। ওয়াশিংটন যখন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াচ্ছে, ঠিক তখনই এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলো। তেহরান আগে থেকেই শর্ত দিয়েছিল যে লেবাননে শান্তি স্থাপন যেকোনো চুক্তির অংশ হতে হবে।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ২ মার্চ সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরাইলে রকেট হামলা চালালে লেবানন এই সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। গত কয়েক মাসের এই সংঘাতে লেবাননে দুই হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ইসরাইলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের ভেতরেও প্রবেশ করেছিল। তবে যুদ্ধবিরতির কয়েক ঘণ্টা আগেও সংঘাতের খবর পাওয়া গেছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের গাজিয়া শহরে ইসরাইলি হামলায় সাতজন নিহত এবং ৩৩ জন আহত হয়েছে। অন্যদিকে, ইসরাইলের একটি হাসপাতালের তথ্যমতে, যুদ্ধবিরতি শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে রকেট হামলায় তিনজন আহত হয়েছেন।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এই যুদ্ধবিরতিকে বৈরুতের সঙ্গে একটি ‘ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তির’ সুযোগ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ হবে এই শান্তির মূল পূর্বশর্ত। তিনি আরও জানান, ইসরাইলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের সীমান্তে ১০ কিলোমিটার বিস্তৃত একটি ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ বজায় রাখবে। অন্যদিকে, হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যদি ইসরাইল হামলা বন্ধ রাখে তবে তারাও সতর্কতার সঙ্গে এই যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে। লেবাননের সাধারণ মানুষ এই খবরকে স্বাগত জানিয়েছে। বৈরুতের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তারা দীর্ঘদিনের সংঘাত ও অস্থিতিশীলতায় ক্লান্ত এবং এখন কেবল নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান।

ইসরাইল ও লেবাননের এই সাময়িক যুদ্ধবিরতি মধ্যপ্রাচ্যের জটিল রাজনৈতিক সমীকরণে এক নতুন মোড় নিয়ে এসেছে। হোয়াইট হাউসে আসন্ন বৈঠকটি যদি সফল হয়, তবে তা কেবল দুই দেশের সম্পর্কের উন্নয়ন নয়, বরং পুরো অঞ্চলের অস্থিতিশীলতা নিরসনে এক যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

আরও পড়ুন

ইসরাইল-লেবানন ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ও জাতিসংঘের অবস্থান

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও
Popular Post
Last Update