শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০২:২৮ অপরাহ্ন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষ: আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দেরিতে আসায় ক্ষোভ, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি
মোসাঃ মুন্নি আক্তার, মহানগর প্রতিনিধি: / ১৮৯ বার দেখা হয়েছে
আপডেট সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

Views: 0

৪৮

মোসাঃ মুন্নি আক্তার, মহানগর প্রতিনিধি:

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ছাত্রলীগের বগিভিত্তিক দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে ক্যাম্পাসজুড়ে চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সংঘর্ষের খবর পেয়েও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেরিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে। এ ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং অবিলম্বে ক্যাম্পাসে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেনের বগিভিত্তিক সংগঠন ‘ভার্সিটি এক্সপ্রেস’ (ভিএক্স) ও ‘একাকার’ গ্রুপের কর্মীদের মধ্যে এই সংঘর্ষ শুরু হয়। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়, যা একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। উভয় পক্ষ একে অপরের ওপর হামলা চালায়, এতে ক্যাম্পাসের শহীদ মিনার, কলা অনুষদ ও বিজ্ঞান অনুষদ সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ শিক্ষার্থীরা দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বেশ দেরি করেন। এই দেরির কারণে সংঘর্ষ দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “যখন মারামারি শুরু হয়, তখন আমরা ভীষণ ভয় পেয়ে যাই। প্রক্টরিয়াল বডি এবং পুলিশকে বারবার ফোন করা হলেও তারা আসতে অনেক সময় নেয়। যদি তারা দ্রুত আসত, তাহলে এত বড় ঘটনা ঘটত না।”

সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় এখন আর নিরাপদ নয়। ক্লাস, লাইব্রেরি বা হলে যাওয়াও তাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অনেকে এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা এখানে পড়ালেখা করতে এসেছি, মারামারি দেখতে নয়। প্রশাসনের উচিত দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। শুধু আশ্বাস দিয়ে লাভ নেই, আমরা কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চাই।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. নূরুল আজিম বলেন, “সংঘর্ষের খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছি। পুলিশকে খবর দেওয়া হয়েছে এবং উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। যারা এই ঘটনার জন্য দায়ী, তাদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে।” তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ক্যাম্পাসে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর।”

তবে প্রক্টরের এই বক্তব্যেও শিক্ষার্থীরা পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারেননি। তারা বলছেন, অতীতের অনেক ঘটনার মতোই এবারও শুধু আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। তারা চান, প্রশাসন যেন শিক্ষার্থীবান্ধব ও শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও
Popular Post
Last Update
PhotoCard Icon
Create PhotoCard