বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন

রুমার ম্রো বাজারে চাঁদাবাজির সময় সেনার হানা, সশস্ত্র সন্ত্রাসী নি/হ/ত
রুমা প্রতিনিধি: / ৯ বার দেখা হয়েছে
আপডেট সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬
বান্দরবানের রুমায় সেনাবাহিনীর অভিযানের পর উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের দৃশ্য
বান্দরবানের রুমায় সেনাবাহিনীর অভিযানের পর উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের দৃশ্য

Views: 7

৩৫

বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলার ম্রো বাজার এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি সফল অভিযানে আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠী জেএসএস (মূল)-এর এক সক্রিয় সদস্য নিহত হয়েছে। গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পরিচালিত এই অভিযানে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত একটি সাব-মেশিনগানসহ (এসএমজি) বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। পাহাড়ের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সেনাবাহিনীর এই ঝটিকা অভিযান ওই এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সেনাবাহিনী সূত্রে জানা যায়, রুমার প্রধান সড়ক রোয়াংছড়ি উপজেলার ম্রো বাজার এলাকায় জেএসএস (মূল)-এর একটি সশস্ত্র দল অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করছে—এমন সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার বিকেল আনুমানিক ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। সেনা সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা অবৈধভাবে অর্থ আদায়কালে হাতেনাতে শনাক্ত হয়। সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা পালানোর চেষ্টা করে এবং একপর্যায়ে টহল দলের ওপর অতর্কিত গুলিবর্ষণ শুরু করে। জানমাল রক্ষার্থে এবং আত্মরক্ষার্থে সেনা সদস্যরাও পাল্টা গুলি চালালে উভয়পক্ষের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ ব্যাপক গোলাগুলি চলে।

বন্দুকযুদ্ধের একপর্যায়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা নিকটবর্তী একটি স্কুলঘরে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করে এবং পরে এলাকা ত্যাগ করতে মরিয়া হয়ে ওঠে। তবে সেনাবাহিনীর সদস্যরা অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে এলাকাটি চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেন। গোলাগুলি থেমে যাওয়ার পর ঘটনাস্থল থেকে ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় হ্লা মং মারমা (২৬) নামে জেএসএস (মূল)-এর এক সশস্ত্র সদস্যকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাকে দ্রুত পুলিশি সহায়তায় বান্দরবান জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত হ্লা মং মারমা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় সশস্ত্র কার্যক্রমের সাথে জড়িত ছিল বলে জানা গেছে।

অভিযানস্থল থেকে একটি অত্যাধুনিক সাব-মেশিনগান (এসএমজি), ২টি ম্যাগাজিন, ১৪৩ রাউন্ড এসএমজি অ্যামোনিশন, ১৪ রাউন্ড পিস্তলের অ্যামোনিশন, ৫ রাউন্ড ব্ল্যাঙ্ক অ্যামোনিশন, একটি পিস্তল পোচ এবং একটি রাউটার উদ্ধার করা হয়। এছাড়া সেখানে এসএমজির খালি খোসা ও ভারতীয় রুপিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম পাওয়া গেছে, যা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সকল জাতিগোষ্ঠীর জানমাল রক্ষায় এবং সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পাহাড়ে শান্তি বিনষ্টকারী যেকোনো সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর এই ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। অবৈধ অস্ত্র ও চাঁদাবাজমুক্ত পাহাড় গড়তে সরকারের এই জিরো টলারেন্স নীতি ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও
Popular Post
Last Update
PhotoCard Icon
Create PhotoCard