Views: 8
গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানাধীন কলম্বিয়া এলাকায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মিল্টন খান ফিরোজ নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। আজ সোমবার (২ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক পারাপারের সময় দ্রুতগামী একটি পণ্যবাহী ট্রাক তাকে সজোরে ধাক্কা দিলে তিনি ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা আর্তচিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে নিকটস্থ বিসমিল্লাহ ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকলে চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ট্রাকটি ছিল অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এবং চালকের বেপরোয়া মনোভাবের কারণে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঢাকা মেট্রো-ড ১২৬২৩৭ নম্বরযুক্ত গাজীপুর থেকে ঢাকাগামী ওই ট্রাকটি মিল্টন খান ফিরোজকে ধাক্কা দেওয়ার পরপরই উত্তেজিত জনতা ধাওয়া করে ট্রাকটি আটক করতে সক্ষম হয়। তবে জনতার উপস্থিতি টের পেয়ে ঘাতক ট্রাকের চালক এবং তার সহযোগী দ্রুত গাড়ি ফেলে কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। দুর্ঘটনার পর ওই এলাকায় ক্ষণিক সময়ের জন্য যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয় এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা মহাসড়কে গতিরোধক স্থাপন এবং বেপরোয়া চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানান।
ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে। উত্তেজিত জনতা ঘাতক ট্রাকটিকে কলম্বিয়া এলাকায় আটকে রেখে পুলিশের জিম্মায় দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ট্রাক চালক যদি সতর্কতার সাথে গাড়ি চালাতেন তবে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো। মহাসড়কের এই গুরুত্বপূর্ণ অংশে নিয়মিত গতিরোধক তদারকি না থাকায় প্রায়ই এমন দুর্ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। আহত মিল্টন খান ফিরোজের পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে ভিড় করেছেন এবং তার সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন।
গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনুর রশিদ দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, তারা ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত আছেন। তিনি বলেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশের একটি টিম সেখানে পাঠানো হয়েছে। ঘাতক ট্রাকটি স্থানীয়দের সহায়তায় বর্তমানে জব্দ অবস্থায় রয়েছে। পলাতক চালক ও সহযোগীকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে কলম্বিয়া এলাকার পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।
মহাসড়কে বেপরোয়া গতির কারণে প্রতিনিয়ত এমন প্রাণহানি ও আহতের ঘটনা বাড়ছে। চালকদের সচেতনতা এবং কঠোর আইন প্রয়োগই পারে এমন দুর্ঘটনা রোধ করতে। মিল্টন খান ফিরোজের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছে স্থানীয় জনসাধারণ।