Views: 16
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ইউনাইটেড স্ট্যান্ডার্ড স্কুলের মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম থেকে চুরি হওয়া তিনটি ৪০ ইঞ্চি স্মার্ট টেলিভিশন উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই চুরির ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত মূল হোতা এবং চুরিকৃত মালামাল ক্রয় করার অপরাধে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) সুকমল চন্দ্র দেবনাথ গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশি অভিযানে চুরিকৃত মালামাল উদ্ধার হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে গত ১৭ মার্চ ২০২৬ তারিখ থেকে স্কুলটি ছুটি ছিল। এই সুযোগে অজ্ঞাতনামা চোরচক্র স্কুলের তৃতীয় তলায় অবস্থিত মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। চোরেরা সেখান থেকে তিনটি ৪০ ইঞ্চি দামী স্মার্ট টেলিভিশন, একটি আইপিএস মেশিন ও তার ব্যাটারিসহ বেশ কিছু মূল্যবান ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে চম্পট দেয়। এছাড়া স্কুলের অফিস রুমের বিভিন্ন সরঞ্জামাদি ভাঙচুর করে প্রায় ৬০ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতিসাধন করে তারা। এই ঘটনায় ইউনাইটেড স্ট্যান্ডার্ড স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ হাফিজউদ্দিন বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় একটি চুরির মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই পলাশ অধিকারীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল অভিযানে নামে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৩০ মার্চ রাতে শহরের বাতেন খাঁ মোড়ে অভিযান চালিয়ে চুরির সাথে জড়িত সন্দেহে মোঃ আব্দুল্লাহকে (২৯) গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আব্দুল্লাহ চুরির কথা স্বীকার করে এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শহরের আরামবাগ এলাকার রহিম আলীর বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকেই চুরিকৃত তিনটি টেলিভিশন উদ্ধার করে পুলিশ। চুরির মালামাল জেনেও তা ক্রয় করার অপরাধে রহিম আলীকেও (৪৫) পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলো—চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার রামকৃষ্টপুর বানিপাড়া এলাকার মোঃ ইয়াকুব আলীর ছেলে মোঃ আব্দুল্লাহ এবং একই থানার আরামবাগ মাদ্রাসাপাড়া এলাকার মোঃ এলাম হোসেনের ছেলে মোঃ রহিম আলী। এসআই পলাশ অধিকারী জানিয়েছেন, চুরিকৃত তিনটি টেলিভিশন ইতোমধ্যে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে আইপিএস মেশিন ও ব্যাটারিসহ বাকি মালামালগুলো উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যেই বাকি মালামাল উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের চুরি ও ভাঙচুরের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তবে সদর মডেল থানা পুলিশের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ এবং দক্ষতা চোরচক্রকে শনাক্ত করতে বড় ভূমিকা রেখেছে। চুরিকৃত বাকি সরঞ্জামাদি উদ্ধারে পুলিশের চলমান তৎপরতা প্রশংসার দাবি রাখে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ জাতীয় ঘটনা রোধ করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।