বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন

গাকৃবির নতুন চমক: উচ্চ ফলনশীল ‘জিএইউ ধান ৪’ উদ্ভাবন
নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর: / ১৪ বার দেখা হয়েছে
আপডেট শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬
গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দল উদ্ভাবিত জিএইউ ধান ৪ এর নমুনা প্রদর্শন করছেন।
গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দল উদ্ভাবিত জিএইউ ধান ৪ এর নমুনা প্রদর্শন করছেন।

Views: 10

বাংলাদেশের কৃষি গবেষণায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (গাকৃবি)। বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত্ব বিভাগের দুই প্রখ্যাত বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. এম. ময়নুল হক এবং প্রফেসর ড. মোঃ মসিউল ইসলামের এক দশকের নিরলস গবেষণার ফলে উদ্ভাবিত হয়েছে স্বল্পমেয়াদী ও উচ্চ ফলনশীল চিকন আউশ ধানের জাত ‘জিএইউ ধান ৪’। এই প্রিমিয়াম কোয়ালিটির ধান উদ্ভাবনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট উদ্ভাবিত ফসলের জাতের সংখ্যা এখন ৯৫টিতে উন্নীত হলো, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে এক অনন্য মাইলফলক।

সাধারণত বাংলাদেশের আউশ মৌসুমে ধানের ফলন আমন ও বোরোর তুলনায় কম হলেও ‘জিএইউ ধান ৪’ এক্ষেত্রে এক উজ্জ্বল ব্যতিক্রম। এই জাতটি অত্যন্ত দ্রুত পরিপক্ক হয়, ফলে কৃষকরা অল্প সময়েই ফসল সংগ্রহ করে একই জমিতে বছরে তিন থেকে চারটি ফসল উৎপাদনের সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চলের মঙ্গাপীড়িত এলাকায় নিবিড় ফসল বিন্যাসের মাধ্যমে কৃষকদের ভাগ্য বদলে দিতে এই জাতটি বিশেষ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া তুলনামূলক কম পানিতে চাষযোগ্য হওয়ায় এটি জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অত্যন্ত কার্যকর।

আরও পড়ুন: কিউএস সাবজেক্ট র‍্যাঙ্কিং ২০২৬: আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গাকৃবির ঐতিহাসিক মাইলফলক

গবেষকদ্বয় জানান, দেশের বাজারে চিকন চালের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা মাথায় রেখে প্রচলিত আউশ জাত ‘পারিজা’র সঙ্গে উচ্চ ফলনশীল চিকন জাত ‘বিইউ ধান ২’-এর সংকরায়ন ঘটিয়ে এই নতুন লাইনটি তৈরি করা হয়েছে। ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশের ১০টি অঞ্চলে মাঠ পর্যায়ে মূল্যায়নের পর গত ৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় বীজ বোর্ডের ১১৫তম সভায় জাতটি চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। এই ধানের চালে প্রায় ২৪.৫৮ শতাংশ অ্যামাইলেজ এবং ৮.৩৮ শতাংশ প্রোটিন রয়েছে, যা মানুষের হজম প্রক্রিয়া ও শারীরিক বৃদ্ধিতে সহায়ক।

প্রযুক্তিগত দিক থেকে ‘জিএইউ ধান ৪’ অত্যন্ত লাভজনক। বীজ বপনের মাত্র ১০০ থেকে ১১০ দিনের মধ্যেই হেক্টর প্রতি ৫ থেকে ৫.৫ টন ফলন পাওয়া সম্ভব। রোগবালাই প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন হওয়ায় এটি সাধারণ জাতের চেয়ে ১০-১৫ শতাংশ বেশি ফলন দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান এই সাফল্যে গবেষকদ্বয়কে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এই উদ্ভাবন কৃষকের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রাখবে।

‘জিএইউ ধান ৪’ উদ্ভাবনের মাধ্যমে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রমাণ করল যে, সঠিক গবেষণা ও মেধার সমন্বয় ঘটলে দেশের কৃষি ব্যবস্থায় বিপ্লব আনা সম্ভব। এই জাতটি দ্রুত সারা দেশের কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারলে চালের বাজারে আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং পুষ্টির চাহিদা পূরণ হবে।

 

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও
Popular Post
Last Update