Views: 12
গাজীপুরের শ্রীপুরে রেললাইনে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে মিতি রানী দাস (৩৮) ও তাঁর তিন বছরের শিশুপুত্র রুদ্র চন্দ্র দাসের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৪ এপ্রিল ২০২৬) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চিনাশুমানিয়া এলাকায় এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনাটি ঘটে। মুহূর্তের অসতর্কতায় একটি সাজানো পরিবার ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, দ্রুতগামী ট্রেনের প্রচণ্ড আঘাতে মা ও শিশু ছিটকে পড়লে ঘটনাস্থলেই মায়ের মৃত্যু হয়।
নিহত মিতি রানী দাস চিনাশুমানিয়া এলাকার বাসিন্দা শ্রী বৃন্দাবন চন্দ্র দাস ও শুভা রানী দাসের কন্যা এবং হরে কৃষ্ণ চন্দ্র দাসের স্ত্রী। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে আদরের সন্তান রুদ্রকে নিয়ে বাড়ির পাশের রেললাইনের ধারে অবস্থান করছিলেন মিতি রানী। এ সময় আচমকা ধেয়ে আসা একটি ট্রেনের নিচে তাঁরা চাপা পড়েন। রেললাইনের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা জীবনের গল্পগুলো মুহূর্তেই এক অপ্রতিরোধ্য গতির ঝোড়ো শব্দে চিরতরে থেমে যায়। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, ট্রেনের গতিবেগ বেশি থাকায় তাঁরা সরে যাওয়ার পর্যাপ্ত সময় পাননি।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে জয়দেবপুর রেলওয়ে থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মিতি রানী দাসের নিথর দেহ উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। অন্যদিকে, তিন বছরের শিশু রুদ্র চন্দ্র দাসকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা আপ্রাণ চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। বর্তমানে শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। একটি ফুটফুটে শিশু পৃথিবীর আলো পুরোপুরি দেখার আগেই এভাবে ঝরে পড়ায় স্বজনদের আহাজারিতে হাসপাতালের বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে।
শ্রীপুরের এই ট্র্যাজেডি কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়, এটি রেললাইনের পাশে বসবাসকারী ও চলাচলকারী মানুষের জীবনের চরম ঝুঁকির এক নিঃশব্দ আর্তনাদ। জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এই ঘটনায় নিহতের পরিবারে এখন চলছে শোকের মাতম। এলাকাবাসী রেললাইনের ধারে চলাচলের ক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্কতা অবলম্বন করার দাবি জানিয়েছেন যাতে ভবিষ্যতে এমন অকাল মৃত্যু আর কাউকে দেখতে না হয়।
অসাবধানতা ও দ্রুতগামী ট্রেনের কবলে পড়ে মা ও সন্তানের এই অকাল প্রয়াণ শ্রীপুরবাসীকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। রেলওয়ে নিরাপত্তা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি না পেলে এমন ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তি রোধ করা কঠিন হবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
আরও পড়ুন: পদুয়ার বাজারে মেইল ট্রেনের ধাক্কায় দুমড়েমুচড়ে গেল বাস, নিহত ১২