বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৩০ পূর্বাহ্ন

কালীগঞ্জে প্লট রেজিস্ট্রি চাওয়ায় প্রবাসীকে অপহরণ মামলায় ফাঁাসানোর অভিযোগ
মোঃ মেহেদী হাসান সোহাগ, গাজীপুর: / ১২ বার দেখা হয়েছে
আপডেট রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬
টঙ্গীতে সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন ভুক্তভোগী প্রবাসী জুয়েল মিয়া।
টঙ্গীতে সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন ভুক্তভোগী প্রবাসী জুয়েল মিয়া।

Views: 12

গাজীপুরের কালীগঞ্জে ক্রয়কৃত জমির প্লট রেজিস্ট্রি নিতে চাওয়ায় এক দুবাই প্রবাসীকে অপহরণ মামলায় ফাঁসিয়ে এলাকাছাড়া করার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী প্রবাসী জুয়েল মিয়া ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং মিথ্যা মামলা থেকে মুক্তির দাবিতে শনিবার (৪ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে টঙ্গী স্টেশন রোড এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী জুয়েল মিয়া জানান, মিনারা বেগম গংদের কাছ থেকে পূর্বাচলের ১৫ ও ২৮ নম্বর সেক্টরে দুটি প্লট ১ কোটি ৭ লাখ টাকায় বায়না করেন তিনি। কিন্তু এখন জমি রেজিস্ট্রি চাইলে উল্টো তাঁকে হয়রানি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জুয়েল মিয়া অভিযোগ করেন, প্রবাস জীবনের উপার্জিত সমুদয় অর্থ দিয়ে তিনি কালীগঞ্জের পাড়াবর্তা এলাকার মিনারা বেগমের কাছ থেকে জমি কেনেন। বায়না দলিল সম্পন্ন হওয়ার পর যখনই তিনি জমিটি নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে দিতে বলেন, তখন থেকেই মিনারা বেগমের ছেলে শরীফ মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। শরীফ মিয়া নিজেকে রাজনৈতিক প্রভাবশালী পরিচয় দিয়ে ওই প্লট দুটি নিজের নামে হাতিয়ে নেওয়ার পাঁয়তারা শুরু করেন। এক পর্যায়ে জুয়েল মিয়াকে এলাকা ছাড়া করতে কালীগঞ্জ থানায় একটি সাজানো ও বানোয়াট অপহরণ মামলা দায়ের করেন শরীফ। বর্তমানে সন্ত্রাসীদের অব্যাহত হুমকিতে জুয়েল মিয়া সপরিবারে টঙ্গীর আরিচপুর এলাকায় আত্মগোপন করে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

ভুক্তভোগী প্রবাসী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার কোটি টাকা আত্মসাৎ করার জন্যই মিনারা বেগমের ছেলেরা সন্ত্রাসী কায়দায় আমাকে এলাকা ছাড়া করেছে। কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং উপ-পরিদর্শক জামাল কেন কোনো ধরণের প্রাথমিক তদন্ত ছাড়াই এই মিথ্যা অপহরণ মামলা আমলে নিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তিনি দাবি করেন, এই মামলাটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তাঁকে বিনিয়োগকৃত টাকা থেকে বঞ্চিত করার একটি নীল নকশা মাত্র। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে তিনি ইতিমধ্যে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসীর পরিবারের সদস্য ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় এলাকাবাসী আরিফ হোসেন, মাহবুব, মীম আক্তার, রাবেয়া খাতুনসহ আরও অনেকে। তাঁরা দাবি করেন, জুয়েল মিয়ার ওপর যে জুলুম করা হচ্ছে তা অমানবিক। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে প্রবাসীকে হয়রানি থেকে মুক্তির জন্য তাঁরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অন্যথায় একজন প্রবাসী তাঁর শেষ সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাবেন বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন তাঁরা।

একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধার বিনিয়োগ করা অর্থ আত্মসাতের এই অপচেষ্টা সমাজের জন্য একটি নেতিবাচক বার্তা। প্রশাসন যদি দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, তবে প্রবাসীরা দেশে বিনিয়োগ করতে সাহস হারাবেন।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও
Popular Post
Last Update