Views: 9
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নে কৃষি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (৬ এপ্রিল) গভীর রাতে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে মাটি কাটার সরঞ্জামসহ বড় ধরনের এই সাফল্য অর্জন করা হয়। অভিযানে মাটি পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত দুটি ট্রাক্টর এবং মাটি কাটার একটি এস্কেভেটর (ভেকু) জব্দ করা হয়েছে। এই ঘটনার পর স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং সাধারণ কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত সাড়ে তিনটার দিকে সদর উপজেলার হোসেন ড্যাং এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের এসআই পলাশ চন্দ্র চৌধুরী এবং সদর মডেল থানার এসআই শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বে একটি চৌকস দল অভিযান পরিচালনা করে। রাতের আঁধারে একদল অসাধু চক্র কৃষি জমির উপরিভাগের মাটি (টপ সয়েল) কেটে নিয়ে যাচ্ছিল। পুলিশ হাতেনাতে মাটি কাটার সময় দুইজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার ১নং ওয়ার্ডের কল্যাণপুরের মৃত শুকুরুদ্দীনের ছেলে রমজান আলী (৪০) এবং নয়াগোলা হাটপাড়ার মৃত মজিবর রহমানের ছেলে মোঃ হানিফ আলী (৩২)।
স্থানীয়দের অভিযোগ অত্যন্ত দীর্ঘদিনের। তারা জানান, হোসেন ড্যাং এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে একটি সংঘবদ্ধ চক্র ফসলি জমি কেটে পুকুর খনন করছে এবং সেই মাটি চড়া দামে ইটভাটাসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্থানে সরবরাহ করছে। এর ফলে কেবল জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে না, বরং সামগ্রিক পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য চরম হুমকির মুখে পড়ছে। বিশেষ করে মাটিবাহী ভারী ট্রলি ও ট্রাক্টরগুলো গ্রামীণ পাকা সড়ক দিয়ে চলাচলের কারণে রাস্তাগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। সাধারণ মানুষ এই অবৈধ কারবার বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করে আসছিলেন।
সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মারুফ আফজাল রাজন এই অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, কৃষি জমি ও পরিবেশ রক্ষায় উপজেলা প্রশাসন কোনো প্রকার আপস করবে না এবং সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন, অবৈধভাবে মাটি কাটা কেবল বর্তমান কৃষির ক্ষতি করে না, বরং এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি। জনস্বার্থে এবং আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের নিয়মিত মোবাইল কোর্ট ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এই ঘটনায় ডিবি পুলিশের এসআই সাজ্জাদ হোসেন বাদী হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের নেপথ্যে থাকা অন্যান্য মদদদাতাদের খুঁজে বের করতে তদন্ত কাজ চলমান রয়েছে। কৃষি জমি রক্ষায় পুলিশের এই অগ্রণী ভূমিকা স্থানীয় সচেতন মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।
কৃষি প্রধান বাংলাদেশের প্রাণ হলো মাটি। সেই মাটি যখন ব্যক্তিগত মুনাফার লোভে পাচার করা হয়, তখন তা দেশের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের এই অভিযান অবৈধ মাটি ব্যবসায়ীদের জন্য একটি কড়া বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আরও পড়ুন
চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্কুলের চুরি হওয়া ৩টি স্মার্ট টিভি উদ্ধার, গ্রেফতার ২