Views: 4
বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে খুলনায় বর্ণাঢ্য ও আনন্দঘন পরিবেশে মঙ্গল শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’—এই বিশেষ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে খুলনা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রোদ ঝলমলে সকালে খুলনার রাজপথ উৎসবের রঙে রঙিন হয়ে ওঠে। পহেলা বৈশাখের এই শুভলগ্নে খুলনার সাধারণ মানুষ মেতে ওঠে অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক মহান মিলনমেলায়।
বর্ষবরণের মূল আকর্ষণ ছিল বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা। সকালে খুলনা রেলওয়ে স্টেশন প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণিল এই শোভাযাত্রাটি শুরু হয়। ঢাক-ঢোলের শব্দ আর একতারা-দোতারার সুরে মুখরিত শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ঐতিহাসিক শহীদ হাদিস পার্কে গিয়ে সমাপ্ত হয়। শোভাযাত্রায় ঐতিহ্যবাহী পালকি, গরুর গাড়ি এবং বাঙালির লোকজ সংস্কৃতির বিভিন্ন অনুষঙ্গ তুলে ধরা হয়। এতে অংশ নেন খুলনার ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার জনাব নাজমুল হক এবং অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) জনাব আবু সায়েদ মোঃ মঞ্জুর আলম। এছাড়াও খুলনার সম্মানিত জেলা প্রশাসক মিজ্ হুরে জান্নাত-এর নেতৃত্বে বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ প্রাণের এই উৎসবে যোগ দেন।
শহীদ হাদিস পার্কে শোভাযাত্রা পরবর্তী এক আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বিভাগীয় কমিশনার এবং সভাপতি হিসেবে জেলা প্রশাসক উপস্থিত সকলকে বাংলা নববর্ষের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। বক্তারা তাদের বক্তব্যে বাঙালির শাশ্বত সংস্কৃতিকে ধারণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। জেলা প্রশাসক মিজ্ হুরে জান্নাত বলেন, নববর্ষের এই উৎসব কেবল বিনোদন নয়, বরং এটি আমাদের জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। নতুন বছরের নতুন আলোয় জাতিগত ভেদাভেদ ভুলে দেশ গড়ায় আত্মনিয়োগ করতে হবে।
পরবর্তীতে স্থানীয় ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিল্পীদের সমন্বয়ে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। মঞ্চে পরিবেশিত হয় সমবেত সঙ্গীত, লোকনৃত্য, কবিতা আবৃত্তি এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী নাচ। রঙিন পোশাকে শিল্পীদের এই সাবলীল পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, খুলনা জেলা শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পরিশেষে জেলা প্রশাসকের সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে নববর্ষ বরণের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। উৎসবমুখর এই আয়োজনে খুলনাবাসীর মাঝে এক নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়।
খুলনায় জেলা প্রশাসনের এই সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর আয়োজন বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যকে আরও একবার সমুন্নত করল। এই ঐকতান ও সংহতির মধ্য দিয়ে নতুন বছর সবার জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল সুখ ও সমৃদ্ধি—এমনই প্রত্যাশা খুলনাবাসীর।
আরও পড়ুন