Views: 2
বাঙালির চিরায়ত লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মধ্য দিয়ে সারা দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদ্যাপন করেছে গাজীপুর জেলা পরিষদ। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) পহেলা বৈশাখ সকালে জেলা পরিষদ কার্যালয় প্রাঙ্গণে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নববর্ষের এই বিশেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে জেলা পরিষদ ভবন ও এর আশপাশের এলাকা গ্রামীণ ঐতিহ্যের হারিয়ে যাওয়া বিভিন্ন হস্তশিল্প এবং মৃৎশিল্পের কারুকার্য দিয়ে সুনিপুণভাবে সাজানো হয়। ভোরের আলো ফুটতেই জেলা পরিষদের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও আমন্ত্রিত অতিথিদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ।
নববর্ষ বরণ অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন করেন গাজীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার ইশরাক আহমেদ চৌধুরী। উদ্বোধন শেষে তিনি মেলায় প্রদর্শিত বিভিন্ন মুখরোচক খাবারের স্টল ঘুরে দেখেন এবং আগত দর্শনার্থীদের সাথে কুশল বিনিময় করেন। পরবর্তীতে তিনি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। অনুষ্ঠানে তার সাথে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম। উৎসবের এই আবহে জেলা পরিষদের আঙিনায় এক টুকরো গ্রামীণ বাংলা যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে, যা উপস্থিত সকলকে মুগ্ধ করে।
সাংবাদিকদের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে প্রশাসক ব্যারিস্টার ইশরাক আহমেদ চৌধুরী গাজীপুরবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতিসত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই উৎসব আমাদের নতুন করে দেশ গড়ার প্রেরণা দেয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা পরিষদের সকল চলমান উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ও জনহিতকর কাজগুলো অচিরেই সুচারুভাবে সম্পন্ন করা হবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে জেলা পরিষদকে একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের আপ্যায়নে ছিল পুরোপুরি বাঙালিয়ানা স্বাদ। সকালের নাস্তায় পরিবেশন করা হয় ঐতিহ্যবাহী মুড়ি-মোয়া, মুরলি এবং বিভিন্ন ধরণের দেশি মিষ্টান্ন। দুপুরে মধ্যাহ্নভোজের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ছিল পহেলা বৈশাখের অবিচ্ছেদ্য অংশ পান্তা-ইলিশ। খাবারের পাশাপাশি দিনভর চলে বর্ণিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে স্থানীয় শিল্পীরা সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন। এছাড়া অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘লাকি কুপন’ ড্র, যা উপস্থিত দর্শকদের মাঝে বাড়তি উদ্দীপনার সৃষ্টি করে। অংশগ্রহণকারী অতিথিরা জেলা পরিষদের এমন চমৎকার ও সুশৃঙ্খল আয়োজনে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।
গাজীপুর জেলা পরিষদের এই আয়োজন বাঙালির লোকজ ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। সম্প্রীতি ও মৈত্রীর এই বন্ধন নতুন বছরে গাজীপুরবাসীর জন্য বয়ে আনুক অনাবিল সুখ ও সমৃদ্ধি।
আরও পড়ুন
গাজীপুরে ভূমি সেবা ক্যাম্প পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক নুরুল করিম ভূঁইয়া