Views: 39
নেই কোনো নামী তারকা, নেই বড় প্রযোজনা সংস্থার জৌলুস। এমনকি মুক্তির শুরুতে জোটেনি পর্যাপ্ত সিনেমা হল। তবুও দীর্ঘ লড়াই, অবহেলা আর হাজারো প্রতিকূলতা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত জাতীয় স্বীকৃতির শীর্ষে উঠে এল স্বাধীন ধারার চলচ্চিত্র ‘সাঁতাও’। ২০২৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছে এই ছবি।
শুধু শ্রেষ্ঠ সিনেমাই নয়, এই ছবির মাধ্যমে শ্রেষ্ঠ পরিচালক হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছেন নির্মাতা খন্দকার সুমন। একই সঙ্গে ‘সাঁতাও’-তে এক সাধারণ নারীর অসাধারণ জীবনের প্রতিচ্ছবি হয়ে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতে নিয়েছেন আইনুন পুতুল। এটি তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। লালমনিরহাটের সন্তান খন্দকার সুমন ২০১৬ সালে যখন রংপুর অঞ্চলের প্রান্তিক মানুষের জীবন ও সংকটের গল্প নিয়ে ‘সাঁতাও’ নির্মাণের পরিকল্পনা করেন, তখন থেকেই তাঁকে পদে পদে বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। পরিচিত মুখ ছাড়া এমন বাস্তবধর্মী সিনেমা কেউ প্রযোজনা করতে রাজি হয়নি।
নির্মাতা দমে না গিয়ে মানুষের কাছেই সিনেমার গল্প তুলে ধরেন। ১০০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা—যে যেভাবে পেরেছেন, সেই গণ-অর্থায়নেই (ক্রাউড ফান্ডিং) ধীরে ধীরে প্রাণ পায় ‘সাঁতাও’। শুটিং শেষ করে সেন্সর ছাড়পত্র পেতেও নির্মাতাকে যেতে হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যন্ত। এরপর মুক্তির সময় বড় তারকা না থাকায় হল মালিকরা মুখ ফিরিয়ে নিলেও ঢাকার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা সিনেমার পুরস্কার জেতার পর পাল্টাতে থাকে প্রেক্ষাপট। প্রচারণার জন্য নির্মাতা ও শিল্পীরা নিজেরাই রাতভর ঢাকার দেয়ালে পোস্টার সেঁটেছেন, রংপুর অঞ্চলে করেছেন মাইকিং।
রংপুর অঞ্চলে টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণকে স্থানীয় ভাষায় বলা হয় ‘সাঁতাও’। সিনেমার গল্পে আবর্তিত হয়েছে কৃষকের জীবনসংগ্রাম, নারীর মাতৃত্বের গভীর অনুভব এবং নদীমাতৃক প্রান্তিক মানুষের সুখ-দুঃখের উপাখ্যান। শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে এই ছবির স্বীকৃতি কেবল একটি পুরস্কার নয়, বরং স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতাদের লড়াইয়ের এক অনন্য জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। পুরস্কার ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলচ্চিত্র প্রেমীদের মাঝে বইছে আনন্দের জোয়ার।