শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৪ পূর্বাহ্ন

গাংনীতে স্বামীর যৌতুকের নির্মম বলি গৃহবধূ নাসিমা
স্টাফ রিপোর্টার / ৪৮৯ বার দেখা হয়েছে
আপডেট রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০

Views: 0

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

মেহেরপুর জেলার গাংনীতে স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় ষোলটাকা ইউনিয়নের চেংগাড়া গ্রামের নিজ ঘর থেকে গৃহবধূ নাসিমা খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। যৌতুকের টাকা না পেয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ স্বজনদের।

নিহত গৃহবধূ নাসিমা খাতুন চেংগাড়া গ্রামের হারুন অর রশিদ বাবুর মেয়ে ও একই পাড়ার শাকিল আহমেদের স্ত্রী।

নাসিমা খাতুনের মা বিলকিছ খাতুন জানান, এক বছর পুর্বে চেংগাড়া গ্রামের শাকিলের সাথে তার মেয়ে নাসিমার বিয়ে হয়। বিয়ে হওয়ার পর থেকে যৌতুকের জন্য মেয়ের উপর অমানবিক নির্যাতন করে আসছিলো। যৌতুকের টাকা না পেয়ে ও শাকিলের পরকিয়া প্রেমে বাধা দেওয়ার কারণেই তার মেয়েকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।

নিহতের স্বজনরা জানান, চেংগাড়া গ্রামের শাকিলের সাথে নাসিমা খাতুনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। সম্পর্কের কারণে উভয় পরিবারের সম্মতিতে দুজনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর কিছুদিন সংসার ঠিকঠাক চললেও যৌতুকের হিসেবে পাখিভ্যান ও নগদ টাকা দাবি করে শাকিল আহমেদ। পাখিভ্যান ও নগদ টাকা দিতে না পারার কারণে এ নিয়ে প্রায় প্রতিনিয়ন নির্যাতনের শিকার হতো স্ত্রী নাসিমা খাতুন।

নাসিমার বড় বোন নাসরিন জাহান জানান, সম্প্রতি চিৎলা নিত্যনন্দনপুর গ্রামের জনৈক এক মহিলার সাথে শাকিল প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। ঐ মহিলার কাছে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে স্থানীয়রা শাকিলকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করলে ধারদেনা করে জরিমানার টাকা পরিশোধ করলে সেখান থেকে মুক্ত হয় সে। তারপর থেকে আবারো সংসারে অশান্তির সৃষ্টি হয়। গত তিন দিন যাবৎ যৌতুকের জন্য চলে অমানবিক নির্যাতন। নির্যাতনের এক পর্যায় রোববার সকালে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় নাসিমাকে।

স্থানীয়রা জানান, তিন ভাই-বোন আর তার মাকে নিয়ে ছিল নাসিমা খাতুনদের সংসার। খুব ছোটকাল থেকে তাদের বাবা ছেড়ে চলে গেছেন। কোন খোঁজখবরও রাখেননি তিনি। তাদের বাবা জীবিত না মৃত তাও জানে না তারা। তাদের মা বিলকিছ খাতুন বিভিন্ন জনের বাড়িতে কাজ-কর্ম করে সংসার চালাতেন। বর্তমানে তিনি চেংগাড়া বাজারে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ করে কোন রকম জীবন জীবিকা নির্বাহ করে। নিজের কোন জমি জমা না থাকায় অন্য’র বাড়িতে বসবাস করেন তারা। মেয়ের মৃত্যু’র শোকে পাগলপ্রায় মা-ভাই-বোন সহ স্বজনরা।

প্রতিবেশিরা জানান, শাকিল আহমেদের বাবা মারা যাওয়ার পর তার মা ঐ গ্রামের জনৈক আক্তার হোসেনের সাথে দ্বিতীয়বার বিয়ে করে সংসার করেন। তাদের সংসারেও রয়েছে অভাব অনটন। শাকিলের মা দুরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত হয়ে বাড়ি পড়ে রয়েছেন।

শাকিল ও নাসিমা পৃথক বাড়িতে বসবাস করে। শাকিল তেমন কোন কাজকর্ম না করার কারণে সংসারে অভাব অনটনের কারনে তাদের দুজনের মধ্যে প্রায় প্রতিনিয়ত ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকতো। নাসিমা খাতুনের ঠিকমত তিনবেলা খাবারও জুটতো না। অনাহারে অর্ধাহারে থেকে মানবেতর স্বামীর নির্যাতন সইতে হতো।

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওবাইদুর রহমান জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে সংবাদ পেয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে নেয়া হয়েছে। পারিবারিক কলহের জেরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করতে পারে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে। তবে ময়না তদন্তের প্রতিবেদন আসলে কিভাবে তার মৃত্যু হয়েছে এটা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পূর্বেই নাসিমার স্বামী শাকিল পালিয়ে গেছে। তবে তাকে আটকের চেষ্টা চলছে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও
Popular Post
Last Update