Views: 4
গাজীপুর, ৯ ডিসেম্বর: শিল্পায়ন এবং অবাধে মাছের খামার নির্মাণের গ্রাসে প্রাকৃতিক জলাশয়গুলো বিলীন হয়ে যাওয়ায় গাজীপুরে পরিযায়ী পাখি শামুকখোলের (Asian Openbill) অস্তিত্ব মারাত্মক সংকটে পড়েছে। জলাভূমির অস্তিত্ব সংকট এবং প্রধান খাদ্য শামুকের অভাবে প্রতি বছর শীতকালে আসা এই অতিথি পাখিদের আনাগোনা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে, যা পরিবেশবিদদের কাছে পরিবেশের ভারসাম্যের জন্য অশনি সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
একসময় শীতকালে গাজীপুরের কালিয়াকৈর, কাপাসিয়া ও কালিগঞ্জ উপজেলার চানপাত্তা বিল, মকস বিল, অলুয়া বিল ও বেলাই বিলসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চল বিপুল সংখ্যক শামুকখোলের কলরবে মুখর থাকত। তারা দিনের বেলা জলাশয়ের কাদামাটি থেকে শামুক কুড়িয়ে খেত।
বিচরণক্ষেত্রের পরিবর্তন: স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত দুই বছর ধরে কালিয়াকৈর উপজেলার খালপাড়, দিঘিবাড়ী ও বলিয়াদি জমিদারবাড়ির মতো পরিচিত বিচরণক্ষেত্রগুলোতে এখন শামুকখোলদের আর চোখে পড়ছে না।
খাদ্যের সংকট: পাখি গবেষক আমিনুল ইসলাম বলেন, “এ বছর শামুকখোলদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এতে স্পষ্ট যে, এ অঞ্চলের প্রকৃতিতে খাদ্যের মারাত্মক সংকট তৈরি হয়েছে।”
উপজেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলার বেশিরভাগ প্রাকৃতিক জলাশয় ভরাট হওয়ার মূল কারণ হলো শিল্প-কারখানা স্থাপন এবং মাছের খামার নির্মাণ। এই কারণে শামুকখোলের প্রধান খাদ্য শামুকের অভাব দেখা দিয়েছে। শামুকখোলের পাশাপাশি বালিহাস, চকাচখি, গুলিন্দা ও গাংচিলের মতো অন্যান্য পরিযায়ী পাখির আগমনও কমে গেছে।
কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বিশেষত পাখি শিকার বন্ধ করা এবং কৃষিজমি ও জলাশয়ে বিষাক্ত কীটনাশকের ব্যবহার বন্ধের বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিবেশের এই ভারসাম্যহীনতা রোধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। জলাশয় ভরাট বন্ধ করা, মাছের খামার নির্মাণে পরিবেশগত বিধিনিষেধ আরোপ করা এবং শামুকসহ জলজ প্রাণীর বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে গাজীপুর অঞ্চল পরিযায়ী পাখির জন্য সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে উঠবে।