বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ন

ড্রিলিং ফগ কী? কেন বৃষ্টির মতো কুয়াশা পড়ছে সারা দেশে—জানুন বিস্তারিত
মো. সোহেল মিয়া, নিজস্ব প্রতিবেদক: / ১৮৭ বার দেখা হয়েছে
আপডেট সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫

Views: 53

পৌষের হাড়কাঁপানো শীতের মধ্যে গত কয়েকদিন ধরে রাজধানীসহ সারা দেশে এক অদ্ভুত আবহাওয়া পরিলক্ষিত হচ্ছে। আকাশে বৃষ্টির মেঘ নেই, নেই কোনো নিম্নচাপের পূর্বাভাস, তবুও দিনভর ঝিরিঝিরি বৃষ্টির মতো পানি পড়ছে। বিশেষ করে রাতে বা ভোরে যারা রাস্তায় বের হচ্ছেন, তারা পুরোপুরি ভিজে যাচ্ছেন। আবহাওয়াবিদদের ভাষায় কুয়াশার এই বিশেষ রূপটিকে বলা হয় ‘ড্রিলিং ফগ’ (Drizzling Fog) বা বাংলায় ‘কুয়াশা-বৃষ্টি’

ড্রিলিং ফগ আসলে কী?

আবহাওয়াবিজ্ঞানীদের মতে, যখন বাতাসের আর্দ্রতা ১০০ শতাংশে পৌঁছে যায় এবং ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি থাকা বায়ু অনেক বেশি ঠান্ডা থাকে, তখন কুয়াশার ছোট ছোট কণাগুলো একত্রিত হয়ে কিছুটা বড় ও ভারী হয়ে যায়। এই ভারী জলকণাগুলো যখন বাতাসে ভেসে থাকতে পারে না, তখন সেগুলো বৃষ্টির ফোঁটার মতো ঝিরঝির করে নিচে পড়তে থাকে। এটি সাধারণ বৃষ্টির মতো মেঘ থেকে আসে না, বরং মাটির কাছাকাছি থাকা কুয়াশার স্তর থেকেই তৈরি হয়।

কেন বৃষ্টির মতো কুয়াশা পড়ছে?

চলতি বছর বঙ্গোপসাগর থেকে আসা জলীয় বাষ্প এবং হিমালয় থেকে আসা অতিরিক্ত ঠান্ডা বাতাসের মিলনে কুয়াশার ঘনত্ব অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। বাতাসের গতিবেগ কম থাকায় এই ঘন কুয়াশা সরতে পারছে না। ফলে দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় জমে থাকা এই ঘন কুয়াশার কণাগুলো ঘনীভূত হয়ে পানির দানায় পরিণত হচ্ছে। দ্রুতগামী যানবাহন বা মোটরসাইকেলের সামনে এটি অবিকল গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মতো আছড়ে পড়ছে।

জনজীবনে প্রভাব ও স্বাস্থ্যঝুঁকি

এই ‘ড্রিলিং ফগ’ বা কুয়াশা-বৃষ্টি সাধারণ শীতের চেয়ে অনেক বেশি বিপদজনক। কারণ এতে ভিজে গেলে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত কমে যায়, যা থেকে তীব্র জ্বর, সর্দি, কাশি এবং নিউমোনিয়া হতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য এই আবহাওয়া মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া রাস্তায় চলাচলের সময় গাড়ির গ্লাসে কুয়াশা-বৃষ্টির পানি জমে দৃষ্টিসীমা কমিয়ে দিচ্ছে, যার ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উত্তর দিক থেকে আসা হিমেল হাওয়ার প্রবাহ না কমা পর্যন্ত এই ‘ড্রিলিং ফগ’ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। কুয়াশা-বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে মোটরসাইকেল চালক ও পথচারীদের ওয়াটারপ্রুফ জ্যাকেট বা রেইনকোট ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও
Popular Post
Last Update