Views: 4
দেশের উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা এবং পরিবেশ আইনকে উপেক্ষা করে বান্দরবানের থানচি উপজেলায় এসবিএম (সাঙ্গু ব্রিক ম্যানুফ্যাকচারিং) অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃতিনির্ভর এই এলাকার জীবন-জীবিকা ও পরিবেশগত ভারসাম্য এখন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ না হলে এলাকায় মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে নির্বিচারে বনের কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। এর ফলে একদিকে যেমন বন উজাড় হচ্ছে, অন্যদিকে পাহাড়ি এলাকার জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখে পড়ছে। পাহাড় কাটার কারণে ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ছে এবং বৃষ্টির সময় মাটি ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে, ফসলি জমি ও নদীভূমিতে পলি পড়ায় কৃষিকাজও ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দিনের বেলায় লোকচক্ষুর আড়ালে ইট তৈরির বিভিন্ন প্রস্তুতিমূলক কাজ চালানো হলেও রাতের আঁধারে পাহাড় থেকে মাটি ও বন থেকে কাঠ এনে ইটভাটায় মজুত করা হচ্ছে। ভাটা থেকে নির্গত কালো ধোঁয়ায় চারপাশের বাতাস দূষিত হচ্ছে এবং বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইডসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর গ্যাস ছড়িয়ে পড়ছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, এর ফলে শিশু, নারী ও বয়স্কদের মধ্যে শ্বাসযন্ত্রজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে।
ইটভাটা নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৩ অনুযায়ী, আবাসিক এলাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয় এবং কৃষিজমির পাশে ইটভাটা স্থাপন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পাশাপাশি পাহাড় কেটে মাটি সংগ্রহ ও বনজ কাঠ ব্যবহারও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তবে অভিযোগ উঠেছে, মাঠপর্যায়ে এসব আইন কার্যকর হচ্ছে না।
থানচি সাঙ্গু ইটভাটার (এসবিএম) মালিক আনিসুর রহমান সুজনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে ইটভাটায় দায়িত্বরত ম্যানেজার মো. সরোয়ারের কাছে কার্যক্রম পুনরায় চালুর বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করে ফোন কেটে দেন।