বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩৪ পূর্বাহ্ন

বগুড়ায় তিন বোনের বিয়ে-তালাক ও প’র’কী’য়া এবং বিয়ে প্রতারনা খেলায় তোলপাড় সৃষ্টি করছে
নাজমুল হাসান নাজির  / ১৪৭ বার দেখা হয়েছে
আপডেট বুধবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

Views: 1

বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার নশরৎপুর ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামের তিন বোনের অনৈতিক কাজে স্থানীয় সমাজ কলুষিত হয়ে পড়ছে। তিন বোন হলেন যথাক্রমে- এলমা খাতুন (৩০), নিলুফা ইয়াসমিন (২৬) এবং রওফা খাতুন ওরফে নুপুর (২৪)। তাদের পিতার নাম- মো. রেজাউল করিম ও মাতা- আলতাফুন্নেসা। তিনবোনের মূল কাজ হলো বিয়ে করে স্বামীর অর্থ সম্পদ হাতিয়ে নিয়ে স্বামীকে তালাক দেওয়া। তিনবোনের কারণে প্রায় ছয়জন ভুক্তভোগী সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব অবস্থায় দিনাতিপাত করছে। বড় বোন এলমা খাতুন বিয়ে করেছেন তিনটি। ১ম স্বামী মোয়াজ্জেমকে ০৪ বছর বয়সী মনিকা নামে এক কন্যা সন্তান রেখে তালাক দিয়েছেন। মনিকা মাত্র ১৩ বছর বয়সে নানা-নানীর বাড়িতে থাকা অবস্থায় এলাকার এক মাদক কারবারীর সাথে পালিয়ে বিয়ে করে। পরবর্তীতে এলমা খাতুন দ্বিতীয় বিয়ে করেন নাসির খানকে। তাকেও তালাক দিয়ে বর্তমানে তৃতীয় বিয়ে করে ফারুক হোসেনের সাথে বসবাস করছে। প্রথম ও দ্বিতীয় স্বামীকে তালাক দেওয়ার আগে তাদের টাকা ও সম্পদ হাতিয়ে নিয়েছে। স্বামীদের অভিযোগ, উক্ত তিনবোন চরিত্রহীনা। তাদেরকে ব্লাকমেইল করে বিয়ে করতে বাধ্য করেছিল। পরে তালাক দেওয়ার আগে অর্থ সম্পদ হাতিয়ে নিয়েছে।
মেজবোন নিলুফা ইয়াসমিন ইতিমধ্যে ২টি বিয়ে করেছে। প্রথম স্বামী জাকারিয়া হোসেন ছিলেন প্রবাসী। তাদের জাকিয়া নামে এক কন্যা রয়েছে। জাকিয়া মাত্র ১৪ বছর বয়সে নানা- নানীর বাড়িতে থাকাবস্থায় পাশের গ্রামের এক ছেলের সাথে পালিয়ে বিয়ে করে। নিলুফা ইয়াসমিনের স্বামী বিদেশ থাকার কারণে সে একাধিক ছেলের সাথে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন করে। ভুক্তভোগী জাকারিয়াকে তালাকের আগে তার অনেক টাকা পয়সা হাতিয়ে নিয়েছে। বর্তমানে নিলুফা দ্বিতীয় বিয়ে করে আবু রায়হানকে। বর্তমানে বাবা-মার সাথে অবস্থান করছে। তৃতীয় মেয়ে রওফা খাতুন সম্প্রতি তার স্বামীকে তালাক দিয়েছে। তাদের ঘরে দুই সন্তান রয়েছে। বর্তমানে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছে। এর আগে বাবার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে বাবা-মায়ের সহযোগিতায় বার বার সে এরকম অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে। স্বামীর আদেশ অমান্য করে বাবা-মার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় পরপুরুষ নিয়ে রাত কাটায়। স্বামী এসব জেনে যাওয়ার কারণে জোরপূর্বক স্বামীকে তালাক দিয়ে দুই সন্তানকে আটকে রেখেছে। এছাড়া খায়ের, নওগাঁ,  নামে বিবাহিত এক ছেলের সাথে প্রেমের অভিনয় করে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। একই কায়দায় মিনহাজ নামের বীরগ্রাম, খরনা, শাজাহাপুর এক ছেলের নিকট থেকে হাতিয়ে নিয়েছে দুই লক্ষাধিক টাকা। উল্লেখ্য মিনহাজ ইতিপূর্বে দুটি বিবাহ করেছে প্রথম স্ত্রী হত্যার দায়ে জেল খেটেছে এবং দ্বিতীয় স্ত্রী দুই বাচ্চা সহ ডির্ভোস দিয়েছে।
রওফা ওরফে নুপুর এর পরকীয়ার বিষয়টি স্বামীর কাছে দুইবার ধরাও পড়ে। রওফা গত ২৫-১২-২০২৪ইং তারিখে ঢাকা থেকে বগুড়ায় প্রথম স্বামীর বড়বোনের বাসায় বেড়াতে গিয়ে সেখানে তিনদিন অবস্থান করে বাবা-মার বাসায় যাবার আগে শাশুড়ির প্রায় সাতভরি স্বর্নালংকার নিয়ে যায়। উল্লেখিত বিষয়ে গত ১৪-০১-২০২৫ ইং স্থানীয় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে, যা তদন্তাধীন। বর্তমানে রেজাউল- আলতাফুন্নেসা দম্পতির মেয়েদের এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে ইতিপূর্বে সমাজপতিরা তাদরকে একঘরে করেছিলেন। তবুও তাদের এহেন কাজ বন্ধ হয়নি। বরং আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এলমা, নিলুফা ও রওফা ওরফে নুপুর তিন বোনই বাবা-মায়ের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় বিভিন্ন ছেলের সাথে মোবাইলে প্রেম করে বিপুল অংকের টাকা পয়সা হাতিয়ে নিচ্ছে। এলাকার উঠতি বয়সী যুব সমাজ উক্ত তিন বোনের কারণে তাদের নৈতিক ও চারিত্রিক অবক্ষয়ে মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।  উল্লেখিত বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন ও এলাকার সুষ্ঠু সামাজিক অবস্থা অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থে এবং জনকল্যাণের স্বার্থে উল্লেখিত তিনবোন ও তাদের পিতা-মাতার বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এলাকাবাসীর দাবী।
আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও
Popular Post
Last Update