বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩৫ পূর্বাহ্ন

বগুড়া ধুনটে রাতের আঁধারে নিম্নমানের কার্পেটিং: ভান্ডারবাড়ি-মরিচতলা হাট সড়কের কাজ নিয়ে এলাকাবাসীর ক্ষোভ
নাজমুল হাসান স্টাফ রিপোর্টার / ১১৩ বার দেখা হয়েছে
আপডেট রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫

Views: 0

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় ভান্ডারবাড়ি-মরিচতলা হাট সড়কে তড়িঘড়ি করে রাতের আঁধারে নিম্নমানের কার্পেটিং করার অভিযোগ উঠেছে মেসার্স অন্তরা কনস্ট্রাকশন নামের এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। দায়সারাভাবে কাজ করার ফলে পরদিন সকালেই সড়কের কার্পেটিং জুতার সঙ্গে উঠে যাচ্ছে। এই ঘটনায় স্থানীয়রা চরম দুর্ভোগের শিকার হলেও প্রতিকার না মেলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

গতকাল শুক্রবার সকালে সরেজমিনে অনুসন্ধানে নিম্নমানের কাজের এই অভিযোগের সত্যতা মিলেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির নির্মাণ কাজ শুরু থেকেই নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে করা হচ্ছিল। এলাকাবাসী বাধা দিলেও ঠিকাদার তাতে কর্ণপাত করেননি। কার্পেটিংয়ের জন্য নির্ধারিত পুরুত্ব রক্ষা করা হয়নি এবং বিটুমিনের পরিমাণও কম ব্যবহার করা হয়েছে।

স্থানীয় যুবক জাহিদ হাসান সাগর বলেন, “এই রাস্তার কাজে শুরু থেকেই ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি হয়ে আসছে। কার্পেটিংয়ে নিম্নমানের বিটুমিন ব্যবহার করায় হাত দিলেই তা উঠে যাচ্ছে। আমরা ঠিকাদারকে ভালোভাবে কাজ করতে বললেও তিনি কোনো কথা শোনেননি।”

এলাকার লোকজন সড়কের বিভিন্ন স্থান থেকে হাত দিয়ে টেনে কার্পেটিং উঠে যাওয়ার দৃশ্য সাংবাদিকদের দেখান, যা নিম্নমানের কাজের স্পষ্ট প্রমাণ দেয়।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ভান্ডারবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশ থেকে মরিচতলা হাট সড়কের ৪৪৫ মিটার অংশ পাকা করার এই কাজটি এলজিইডি হাতে নেয়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩৭ লাখ ৭৩ হাজার ৬০৯ টাকার চুক্তিমূল্যে কাজটি পায় মেসার্স অন্তরা কনস্ট্রাকশন।

চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৩ মে কাজ শুরু করে ১০ নভেম্বরের মধ্যে তা শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু কাজের নির্ধারিত মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে যায়। এরপর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি অবশেষে গত সোমবার রাতের আঁধারে তড়িঘড়ি করে কার্পেটিংয়ের কাজটি শেষ করে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, ধুনট উপজেলা প্রকৌশলী বখতিয়ার হোসেন কাজের ত্রুটির বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, “রাস্তার কয়েকটি স্থানে কার্পেটিংয়ের পর তা উঠে যাওয়ার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। নির্মাণ সামগ্রীর মিশ্রণে ত্রুটি থাকায় এই সমস্যা হয়েছে।” তিনি আরও জানান যে ঠিকাদারের সঙ্গে কথা হয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে ঠিকাদার নতুন করে কার্পেটিং করে দিবেন।

নিম্নমানের কাজের কারণে যানবাহন ও পথচারীদের যে ভোগান্তি হচ্ছে, স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত এর প্রতিকার করবে বলে এলাকাবাসী প্রত্যাশা করছেন।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও
Popular Post
Last Update