নিহত আশরাফুল ইসলাম (৩০) দিনাজপুর জেলার হাকিমপুর উপজেলার পলিবটতলী গ্রামের আব্দুল ওয়াহাব এর ছেলে। তিনি ওই গ্রামের এসএস ফ্যাশন নামক একটি কারখানা পরিচালক। আহত তাসলিমা খাতুন (২৮) ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলার বালিপাড়া গ্রামের আজিজুল হক এর স্ত্রী। তিনি আশরাফুলের পরিচালিত কারখানায় শ্রমিকের কাজ করেন।
অভিযুক্ত আজিজুল হক (৩০) ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলার বালিপাড়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন নির্মান শ্রমিক। তিনি শ্রীপুর পৌরসভার চন্নাপাড়া গ্রামে জমি কিনে নিজ বাড়িতে স্ত্রীকে নিয়ে বাস করতেন।
স্থানীয়রা জানান, আশরাফুলের কারখানায় চাকুরী করেন তাসলিমা। তার স্বামী আজিজুল পেশায় নির্মাণ শ্রমিক। প্রতিদিন সকালে কাজে চলে যান আজিজ। ফেরেন বিকেলে বা রাতে। একই কারখানায় চাকুরী করায় আশরাফুল ও তাসলিমার মধ্যে পরকিয়ার সম্পর্ক ছিলো। সোমবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে আজিজুল কাজে চলে যান। বিশেষ প্রয়োজনে ঘন্টা খানেক পর বাসায় ফেরেন। এসে বসত ঘর ভেতর থেকে দরজা বন্ধ দেখতে পান। অনেক ডাকা ডাকির পর দরজা খুললেন তাসলিমা। অস্বাভাবিক অবস্তায় দেখতে পান আশরাফুর ও তাসলিমাকে। উত্তেজিত হয়ে আজিজ ধারলো বটি দিয়ে দু’জনকে এলোপাথারী কোপান। ডাক চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে রক্তাক্ত অবস্থায় আজিজ পালিয়ে যান।
স্থানীয়রা মুমর্ষ অবস্থায় তাসলিমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। পরে পুলিশে খবরদেন তারা। খবর পেয়ে দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। এলাকা বাসীর ধারণা পরকিয়ার কারণে আজিজ ওই দুই জনকে কোপায়। এতে এক জনের মৃত্যু হয়।
নিহতের শ্যালক আশরাফুল আলম বলেন, দুলাভাই সাত বছর ধরে ওই কারখানা পরিচালনা করে আসছেন। তাদের দাম্পত্য জীবনে এক কন্যা সন্তান রয়েছে। সকাল থেকে দুলাভাইয়ের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। কারখানায় গিয়ে তাকে পাইনি। দুপুরে স্থানীয়রা ফোন করে একটি হত্যা কান্ডে খবর দেয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই বাড়ির উত্তর ভিটির ঘরের মেঝে দুলাভাইয়ের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পাই। কি কারণে দুলাভাইকে কোপিয়ে খুন করা হলো তা জানান নেই।
শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (ওসি) জয়নাল আবেদীন মন্ডল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে নিহতের ,মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের শরীরে একাধিক স্থানে কোপানোর ক্ষত রয়েছে। তার অন্ডকোষ ও পুরুষাঙ্গ বেশিরভাগ কাটা ছিলো। ঘটনাস্থল থেকে আলামত হিসেবে একটি ধারালো বটি উদ্ধার করা হয়। ঘাতক আজিজুল পলাতক রয়েছে। এবিষয়ে পরবর্তি আইনগত ব্যবস্থা প্রকৃয়াধিন আছে।