বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ন

রুমা-চিম্বুক সড়কে বৃষ্টির মতো ঝরছে কুয়াশা: তীব্র শৈত্যপ্রবাহে বিপন্ন জনজীবন
মথি ত্রিপুরা, রুমা (বান্দরবান) প্রতিনিধি: / ২১৮ বার দেখা হয়েছে
আপডেট সোমবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬

Views: 66

বান্দরবানের রুমা উপজেলার প্রধান সড়ক সংলগ্ন চিম্বুক এলাকার ১২ মাইল ওয়াই জংশন বাজারে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত কয়েকদিন ধরে এই অঞ্চলে কুয়াশার মাত্রা এতটাই বেড়েছে যে, স্থানীয়দের মতে তা বৃষ্টির মতো ঝরছে। আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল গড়িয়ে দুপুর হতে চললেও ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকছে চারপাশ, দেখা মিলছে না সূর্যের। এই হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিশু, বৃদ্ধ ও নিম্ন আয়ের পাহাড়ী মানুষ। বিশেষ করে কুয়াশা আর কনকনে শীতের কারণে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন শ্বাসকষ্টজনিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও পেটের দায়ে অনেক নারীকে কোলে শিশু নিয়ে বাজারে সবজি ও ফলমূল বিক্রি করতে দেখা গেছে, যা পথচারীদের মনে করুণ রসের উদ্রেক করছে।

তীব্র এই শীতে বিপাকে পড়েছেন পরিবহন চালকরাও। ঘন কুয়াশার কারণে সড়ক দৃশ্যমান না হওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করছে, এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার শঙ্কা বাড়ছে। দিনমজুর ও শ্রমিক শ্রেণির মানুষরা জানান, কনকনে ঠান্ডায় হাত-পা অবশ হয়ে আসলেও পরিবারের আহার জোগাতে তারা কাজে বের হতে বাধ্য হচ্ছেন। অথচ এমন চরম সংকটেও ১২ মাইল ওয়াই জংশন বাজারে সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। বাজারবাসীদের দাবি, আশপাশের গ্রামগুলোতে কম্বল দেওয়া হলেও বাজারের ব্যবসায়ীরা তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বাসিন্দা আক্ষেপ করে বলেন, গতবারও বাজারস্থলে কম্বল বিতরণ করা হলেও এখানকার বাসিন্দারা কিছুই পাননি।

এ বিষয়ে ১২ মাইল ওয়াই জংশন বাজারের নবনির্বাচিত বাজার উন্নয়ন কমিটির সভাপতি সাংখাম ম্রো জানান, বাজারের বাসিন্দারা মূলত বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন থেকে ব্যবসার প্রয়োজনে এখানে এসেছেন এবং তারা এখানকার স্থায়ী ভোটার নন। ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় মূলত আশপাশের গ্রামগুলোতে কম্বল বিতরণ করা হলেও বাজারবাসীরা তা পাননি। তবে ভবিষ্যতে প্রশাসন বা কোনো সংস্থা থেকে সহযোগিতা আসলে বাজারের বাসিন্দাদের মাঝে তা পৌঁছে দেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। বর্তমানে এই দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষেরা হাড়কাঁপানো শীতের হাত থেকে বাঁচতে প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর জরুরি হস্তক্ষেপ ও শীতবস্ত্র সহায়তার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও
Popular Post
Last Update