রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩
রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩
শিরোনাম:
ফুলবাড়ীতে বিয়ের প্রলোভনে তরুণীকে ধ/র্ষ/ণ: যুবক গ্রেপ্তারগুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে জেঁকে বসছে আগাম শীতের আমেজহিলিতে কাঁচামরিচের বাম্পার ফলন: চড়া দামে কৃষকের মুখে হাসিহিলিতে অসময়ে মাচায় তরমুজ চাষ: প্রথমবারেই লাখপতি কৃষক আতিয়ারগাজীপুরে শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ উপলক্ষে প্রশাসনের প্রস্তুতিমূলক সভাবড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ: উত্তরাঞ্চলে তীব্র লোডশেডিংহিলিতে শিয়ালের কামড়ে নারী, শিশুসহ আহত ৮প্রিজন ভ্যান থেকে ‘পিচ্চি রাজা’ পালানোর ঘটনায় বোনসহ গ্রেফতার ৩‎টেকনাফে মাদরাসা ও ওয়াকফ এস্টেটের সাইনবোর্ড উপড়ে জমি দখলের চেষ্টা, থানায় অভিযোগ। ‎ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণে তোড়জোড়: শীর্ষ পদে আলোচনায় যারাপৃষ্ঠপোষকতার অভাবে অস্তিত্ব সংকটে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী হাডুডুগাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন: ৩৮ নং ওয়ার্ডে সৎ নেতৃত্ব ও উন্নয়নের প্রত্যয়ে এগিয়ে চলেছেন মোঃ কামরুজ্জামান (কামরুল)কিশোরগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে বসতবাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ​গাজীপুরে ঠিকাদার রানা মিয়াকে ঘিরে ষড়যন্ত্র: মিথ্যা মামলা নাকি ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব?নরসিংদী ডিসি রোডে পৌরসভার জায়গা নিয়ে কথা

অতীতের ১২ সংসদ, কারা কারা করেছিল সরকার গঠন

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৬:২৬ অপরাহ্ণ
অতীতের ১২ সংসদ, কারা কারা করেছিল সরকার গঠন
৫৮

টানা ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এখন নির্বাচনের দিকে মোড় নিয়েছে। গত বছরের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার সরকারের ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে যাওয়ার পর, ৫ আগস্ট তিনি দেশ ত্যাগ করেন। এই পটভূমিতে, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক দ্বাদশ সংসদ বিলুপ্ত করার পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাচন আয়োজন করতে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।

একাধিক সূত্রে জানা যায়, এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে, ছয়বার সরকার গঠন করা আওয়ামী লীগসহ বেশ কয়েকটি বড় দলের নির্বাচন বর্জন করার সম্ভাবনা রয়েছে।

স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কারণে সরকারপ্রধানদের পতন হয়েছে। সর্বশেষ আওয়ামী লীগের টানা ১৬ বছরের ক্ষমতার অবসান ঘটে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। বিগত ১২টি সংসদ নির্বাচনের মধ্যে সাতটি সংসদ নানা আন্দোলন ও গণ-অসন্তোষের মুখে ভেঙে পুনরায় নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়েছিল। শেষ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংসদ কার্যকর ছিল মাত্র ছয় মাসের মতো। রাষ্ট্রপতি দ্বাদশ সংসদ বিলুপ্ত করার পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করেন।

বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে রাষ্ট্র পরিচালিত হলেও একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে সরকার। যদিও ছয়বার সরকার গঠন করা আওয়ামী লীগসহ বেশ কয়েকটি দল এবার নির্বাচনের বাইরে থাকতে পারে।

রোজার সপ্তাহখানেক আগেই ভোটের পরিকল্পনা ইসির

নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানায়, নির্বাচনের পর পবিত্র রমজান শুরুর আগে তারা অন্তত এক সপ্তাহ সময় হাতে রাখতে চায়। কারণ, ভোটের দিন অনিয়ম, মারামারি বা হানাহানির কারণে যেসব কেন্দ্রে বা আসনে ভোট বন্ধ বা স্থগিত হবে, সেসব কেন্দ্র বা আসনে এক সপ্তাহের মধ্যে পুনরায় ভোটগ্রহণ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে নাসির উদ্দিন কমিশনের। এই ভোট যেন রমজানে শুরু হওয়ার পর না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে চায় কমিশন।

এছাড়া, নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের পর যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে, তাদের সরকার গঠন করতেও সপ্তাহখানেক সময় লাগতে পারে। সেই প্রক্রিয়াটিও যেন রমজান শুরুর আগে সম্পন্ন করা যায়, সেই সুযোগ রাখতে চায় ইসি।

হিসাব অনুযায়ী, আগামী বছর পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে পারে ১৮ অথবা ১৯ ফেব্রুয়ারি। নির্বাচন কমিশন যদি এক সপ্তাহ সময় হাতে রাখতে চায়, তবে ১২ তারিখের মধ্যে ভোট সম্পন্ন করতে হবে।

এদিকে শবে বরাতের সম্ভাব্য তারিখ ৪ ফেব্রুয়ারি। ইসি এর আগে জানিয়েছিল, শবে বরাতের পর থেকে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধের মধ্যে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা হবে। যদি ৫ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার শবে বরাতের কারণে সরকারি ছুটি থাকে, তবে ইসি ৮ অথবা ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের তারিখ নিয়ে ভাবছিল।

কোন কোন দিনে কতটি সংসদ নির্বাচন হয়েছিল

বর্তমান নির্বাচন কমিশন আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণের ক্ষেত্রে আগের ১২টি সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দিনকে আমলে নিয়েছে।

বিগত ১২টি নির্বাচনের মধ্যে চারটি হয়েছে রোববার, চারটি বুধবার, দুটি সোমবার ও দুটি বৃহস্পতিবারে। শুক্র, শনি ও সোমবার কোনো নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়নি। আগামী বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি রোববার, ১০ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারি বুধবার এবং ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার। এই তারিখগুলোর মধ্যে ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবারকে ভোটগ্রহণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত বলে মনে করেছে ইসি।

ছয়বার আওয়ামী লীগ, চারবার বিএনপি ও দুবার জাতীয় পার্টি

স্বাধীনতার পর দেশে এখন পর্যন্ত ১২টি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৬ বার, বিএনপি চারবার ও জাতীয় পার্টি দুবার জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। আওয়ামী লীগ প্রথম, সপ্তম, নবম, দশম, একাদশ ও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে সরকার গঠন করে।

বিএনপি দ্বিতীয়, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও অষ্টম সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের মধ্যদিয়ে সরকার গঠন করে। জাতীয় পার্টি তৃতীয় ও চতুর্থ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকারে আসে। সংসদের মেয়াদ পাঁচ বছর হলেও রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ নানা কারণে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও দ্বাদশ সংসদ মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেনি। তবে পঞ্চম, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম ও একাদশ সংসদ তাদের মেয়াদকাল পূরণ করেছে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনগুলোর মধ্যে ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ৮৭ শতাংশ ভোট পড়েছিল। অন্যদিকে, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে কম ২৬.৫ শতাংশ ভোট পড়ে।

মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেনি যে যে সংসদ

প্রথম সংসদ নির্বাচনের পর ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৫ সালের মধ্যে অর্থাৎ মাত্র দুই বছরের মাথায় রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক পরিবর্তনের ফলে (একদলীয় শাসন ব্যবস্থার প্রবর্তন) সংসদ ভেঙে যায়। এরপর দ্বিতীয় সংসদ ১৯৭৭ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার পর সামরিক অভ্যুত্থান এবং সামরিক আইন জারির মাধ্যমে তা ভেঙে যায়।

তৃতীয় সংসদ ১৯৮৬ সাল থেকে ১৯৮৭ পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের পর সরকার বিরোধী আন্দোলনের মুখে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়। চতুর্থ সংসদ ১৯৮৮ সাল থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার পর ব্যাপক গণঅভ্যুত্থানের মুখে তা-ও রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ভেঙে দেওয়া হয়।

পঞ্চম সংসদ ১৯৯১ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির দাবিতে বিরোধী দলের সংসদ বর্জন ও আন্দোলনের মুখে ১৯৯৫ সালের ২৪ নভেম্বর এ সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়। এছাড়া ষষ্ঠ সংসদ ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ১৯৯৬ সালের মার্চ পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। এরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিল পাস করার পরই ব্যাপক আন্দোলনের মুখে তা-ও ভেঙে দেওয়া হয়। মাত্র ১২ কার্যদিবসের সংসদ ছিল এটি।

সর্বশেষ দ্বাদশ সংসদ ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে একই বছরের আগস্ট পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন সরকার প্রধানের পদত্যাগের পর রাষ্ট্রপতি সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন।

প্রথম সংসদ নির্বাচন

১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ স্বাধীন দেশে সর্বপ্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৩টি আসন পেয়ে জয়ী হয় আওয়ামী লীগ। ১৪টি রাজনৈতিক দল এ নির্বাচনে অংশ নেয়। বিরোধীদের মধ্যে জাতীয় লীগ ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) একজন করে এবং স্বতন্ত্র পাঁচজন প্রার্থী বিজয়ী হন। এ নির্বাচনে ভোট পড়ে ৫৫ দশমিক ৬১ শতাংশ। এ সংসদের মেয়াদ ছিল দুই বছর ছয় মাস।

দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচন

১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ২৯টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। নির্বাচনে ভোট পড়ে ৫১ দশমিক ২৯ শতাংশ। এতে বিএনপি ২০৭টি আসন পেয়ে জয়লাভ করে। অন্য দলগুলো পায় ৭৭টি আসন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ (মালেক) ৩৯টি, জাতীয় লীগ দুটি, আওয়ামী লীগ (মিজান) দুটি, জাসদ ৮টি, মুসলিম ও ডেমোক্রেটিক লীগ ২০টি, ন্যাপ একটি, বাংলাদেশ গণফ্রন্ট দুটি, বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল একটি, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক দল একটি ও জাতীয় একতা পার্টি একটি আসন পায়। নির্বাচিত বাকি ১৬ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এ সংসদের মেয়াদ ছিল ৩ বছর।

তৃতীয় সংসদ নির্বাচন

১৯৮৬ সালের ৭ মে তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ১৫৩টি আসন পেয়ে জয় লাভ করে। ভোটের হার ছিল ৬৬ দশমিক ৩১ শতাংশ। বিএনপি এ নির্বাচন বর্জন করে। অংশ নেয় মোট ২৮টি রাজনৈতিক দল।

জাতীয় পার্টি বাদে অন্য দলগুলো পায় ১১৫ আসন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ ৭৬টি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) পাঁচটি, ন্যাপ (মোজাফফর) দুটি, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি পাঁচটি, বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) তিনটি, জাসদ (রব) চারটি, জাসদ (সিরাজ) তিনটি, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ ১০টি, মুসলিম লীগ চারটি ও ওয়ার্কার্স পার্টি তিনটি আসন পায়। বাকি ৩২ আসনে নির্বাচিত হন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এ সংসদের মেয়াদ ছিল ১৭ মাস।

চতুর্থ সংসদ নির্বাচন

১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল এ নির্বাচন বর্জন করে। নির্বাচনে ভোট পড়ে ৫১ দশমিক ৮১ শতাংশ। জাতীয় পার্টি ২৫১টি আসন পেয়ে জয় লাভ করে।

নির্বাচনে আটটি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। ১৯টি আসন পেয়ে সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসে সম্মিলিত বিরোধী দল। এছাড়া, স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৫টি, জাসদ (সিরাজ) তিনটি ও ফ্রিডম পার্টি দুটি আসন লাভ করে। এ সংসদের মেয়াদ ছিল দুই বছর সাত মাস।

পঞ্চম সংসদ নির্বাচন

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে দুটি প্রধান দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ ৭৫টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। এ নির্বাচনে ভোট পড়ে ৫৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ। আর বিএনপি ১৪০টি আসন পেয়ে জয় লাভ করে।

অপরদিকে আওয়ামী লীগ ৮৮টি, জাতীয় পার্টি ৩৫টি, বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) পাঁচটি, জাসদ (সিরাজ) একটি, ইসলামী ঐক্যজোট একটি, জামায়াতে ইসলামী ১৮টি, সিপিবি পাঁচটি, ওয়ার্কার্স পার্টি একটি, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) একটি, গণতন্ত্রী পার্টি একটি ও ন্যাপ (মোজাফফর) একটি আসন পায়। তিনটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয় লাভ করেন। সংসদের মেয়াদ ছিল চার বছর আট মাস।

ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচন

১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দলীয় সরকারের অধীনে হওয়া এ নির্বাচন আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামীসহ অনেকগুলো দল বর্জন করে। ৪১টি রাজনৈতিক দল এ নির্বাচনে অংশ নেয়। বিএনপি ২৭৮টি আসন পেয়ে জয় লাভ করে। এর মধ্যে ৪৯টি আসনে বিএনপি প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। নির্বাচনে ফ্রিডম পার্টি একটি আসন পায়। বাকি ১০ আসনে জয় লাভ করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী।

এছাড়া, ১০টি আসনে ফলাফল অসমাপ্ত ছিল এবং একটি আসনের নির্বাচন আদালতের আদেশে স্থগিত করা হয়। এ নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ২৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ। এ সংসদের মেয়াদ ছিল মাত্র ১২ দিন।

সপ্তম সংসদ নির্বাচন

১৯৯৬ সালের ১২ জুন সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৪৬টি আসনে জয় লাভ করে। নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৭৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ। এটি ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

৮১ রাজনৈতিক দল এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। অন্য দলগুলোর মধ্যে বিএনপি ১১৬টি, জাতীয় পার্টি ৩২টি, জামায়াতে ইসলামী তিনটি, ইসলামী ঐক্যজোট একটি ও জাসদ একটি আসন পায়। স্বতন্ত্র প্রার্থী জয় লাভ করেন একটি আসনে। সংসদের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর।

অষ্টম সংসদ নির্বাচন

২০০১ সালের ১ অক্টোবর অষ্টম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিএনপি ১৯৩টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করে। ৫৪টি রাজনৈতিক দল এ নির্বাচনে অংশ নেয়।

বিএনপি বাদে অন্য দলগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগ ৬২টি, জামায়াতে ইসলামী ১৭টি, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ১৪টি, জাতীয় পার্টি (না-ফি) চারটি, জাতীয় পার্টি (মঞ্জু) একটি, ইসলামিক ঐক্যজোট দুটি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ একটি আসন পায়। বাকি ছয় আসনে জয়লাভ করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। সংসদের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর। নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৭৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

নবম সংসদ নির্বাচন

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত এটি সর্বশেষ ভোট। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৩০টি আসন পেয়ে জয় লাভ করে। রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন পদ্ধতি চালু হওয়ার পর এটি প্রথম ভোট। এতে ৩৮টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়।

আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য দলগুলোর মধ্যে বিএনপি ৩০টি, জাতীয় পার্টি ২৭টি, জাসদ তিনটি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি দুটি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) একটি, জামায়াতে ইসলামী দুটি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) একটি আসন পায়। স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হয় চার আসনে। নির্বাচনে ভোট পড়ে ৮৭ দশমিক ১৩ শতাংশ।

দশম সংসদ নির্বাচন

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পায় আওয়ামী লীগ ও এর শরিক দলগুলো। ফলে ১৪৭টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়। পরে বিএনপি ও এর নেতৃত্বাধীন জোট নির্বাচন বর্জন করে।

এ নির্বাচনে মোট ১২টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। আওয়ামী লীগ একাই ২৩৪টি আসন পায়। জাতীয় পার্টি ৩৪টি, ওয়ার্কার্স পার্টি ৬টি, জাসদ (ইনু) পাঁচটি, তরীকত ফেডারেশন দুটি, জাতীয় পার্টি (জেপি) দুটি, বিএনএফ একটি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১৬টি আসনে জয়লাভ করে। নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৪০ দশমিক ০৪ শতাংশ।

একাদশ সংসদ নির্বাচন

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৩৯টি নিবন্ধিত দলের সবাই অংশ নেয়। মোট প্রার্থী ছিলেন এক হাজার ৮৬৫ জন। এ নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৮০ দশমিক ২০ শতাংশ। এতে আওয়ামী লীগ এককভাবে ২৫৮টি আসন পায়। জাতীয় পার্টি ২২টি এবং মহাজোটভুক্ত অন্য দলগুলো ৮টি আসনে জয়ী হয়।

অপরদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টভুক্ত বিএনপি ৬টি, গণফোরাম দুটি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা তিনটি আসনে জয়ী হন।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এতে দেশের ৪৪টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ২৮টি দল অংশ নেয়। নির্বাচন বর্জন করে বিএনপিসহ ১৬টি নিবন্ধিত দল। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২২২, জাতীয় পার্টি ১১, ওয়ার্কার্স পার্টি এক, জাসদ এক, কল্যাণ পার্টি এক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৬২ আসনে বিজয়ী হন। এই সংসদ স্থায়ী হয়েছিল ৬ মাস ৭ দিন।

Download Photocard

Polls

আজকের প্রশ্ন

আপনি বাংলা নিউজ টিভির পেইজে লাইক ফলো দিয়েছেন কি?

View Results

Loading ... Loading ...

ফুলবাড়ীতে বিয়ের প্রলোভনে তরুণীকে ধ/র্ষ/ণ: যুবক গ্রেপ্তার

প্রতিবেদক: নুরুজ্জামান হোসেন, হিলি (দিনাজপুর) প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৬ অপরাহ্ণ
ফুলবাড়ীতে বিয়ের প্রলোভনে তরুণীকে ধ/র্ষ/ণ: যুবক গ্রেপ্তার

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে বিয়ের মিথ্যা আশ্বাস ও প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগে ইফতিয়ার আহমেদ জোবায়ের (২২) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী তরুণীর দায়ের করা সুনির্দিষ্ট মামলার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে অভিযুক্ত যুবককে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে বিজ্ঞ বিচারকের আদেশে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম।

দায়েরকৃত মামলার এজাহারের বিবরণী থেকে জানা যায়, পার্শ্ববর্তী হাকিমপুর উপজেলার বাসিন্দা ওই তরুণীর সঙ্গে প্রায় ছয় মাস পূর্বে অভিযুক্ত জোবায়েরের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সম্পর্কের সূত্র ধরে জোবায়ের তরুণীকে বিভিন্ন সময়ে আশ্বস্ত করেন যে, তাদের এই পরিণয়ে তার পরিবারের পূর্ণ সম্মতি রয়েছে এবং খুব শিগগিরই তারা সামাজিকভাবে বিয়ের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করছেন। যুবকের এমন আশ্বাসে তরুণী সরল বিশ্বাসে সম্পর্কের গভীরতায় জড়ান।

অভিযোগে প্রকাশ, গত ৫ অক্টোবর বিকেলে জোবায়ের তার বাবা-মাকে সঙ্গে নিয়ে কৌশলে ওই তরুণীকে ফুলবাড়ী উপজেলার রাজারামপুর চৌধুরীপাড়ায় তাদের নিজ বসতবাড়িতে নিয়ে যান। বাড়িতে উপস্থিত সকলের সামনেই বিয়ের অনুকূল পরিবেশ তৈরির ভান করা হয়। এরপর সেখানে অবস্থান ও রাতযাপনের একপর্যায়ে তরুণীর অনিচ্ছা সত্ত্বেও বিয়ের চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতি দিয়ে জোবায়ের জোরপূর্বক তার সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন।

ঘটনার পরদিন অর্থাৎ ৬ অক্টোবর সকালে ভুক্তভোগী তরুণী বিষয়টি জোবায়েরের পিতা-মাতার নজরে আনেন এবং তাদের আশু পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেন। এ সময় জোবায়েরের অভিভাবকরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বিয়ের সামাজিক ব্যবস্থা সম্পন্ন করার মৌখিক আশ্বাস প্রদান করেন। এরপর জোবায়ের নিজে গিয়ে তরুণীকে তার নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেন। কিন্তু বাড়ি ফিরে যাওয়ার কিছু সময় পরই যুবকের মনোভাব সম্পূর্ণ বদলে যায় এবং তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, ওই তরুণীকে কোনো অবস্থাতেই তিনি বিয়ে করবেন না।

যুবকের এমন আকস্মিক অস্বীকৃতির কারণ জানতে চাইলে জোবায়ের উল্টো তরুণীকে নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দিতে থাকেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে তরুণীর পরিবারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও জোবায়েরের পরিবারের সদস্যরাও তাকে পুত্রবধূ হিসেবে ঘরে তুলতে অস্বীকৃতি জানান। চরম প্রতারণা, অপমান ও সামাজিক অবক্ষয়ের মুখে পড়ে ভুক্তভোগী তরুণী কোনো উপায় না দেখে অবশেষে সুবিচারের আশায় ফুলবাড়ী থানায় উপস্থিত হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করেন।

মামলা নথিভুক্ত হওয়ার পরপরই ফুলবাড়ী থানা পুলিশের একটি চৌকস দল সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্ত জোবায়েরকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার যথাযথ পুলিশি পাহারায় তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারিক প্রক্রিয়ায় আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, তরুণীর সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়ে অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় তাকে দিনাজপুর জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

বিয়ের প্রলোভনে তরুণীদের ফাঁদে ফেলে শারীরিক সম্পর্কের পর অস্বীকার করার মতো সামাজিক অপরাধ তরুণ সমাজ ও পারিবারিক নিরাপত্তাকে প্রতিনিয়ত চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। সমাজে আস্থা ও মানবিক মূল্যবোধ ধরে রাখতে হলে এ ধরনের বিশ্বাসভঙ্গকারী ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা অপরিহার্য। আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং সামাজিক সচেতনতাই পারে অসহায় নারীদের সম্মান ও অধিকার সমুন্নত রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে।

গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে জেঁকে বসছে আগাম শীতের আমেজ

প্রতিবেদক: নুরুজ্জামান হোসেন, হিলি (দিনাজপুর) প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১০ অপরাহ্ণ
গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে জেঁকে বসছে আগাম শীতের আমেজ

দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী হাকিমপুর উপজেলার হিলিতে আশ্বিনের বিদায়লগ্নে আকস্মিক গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ও উত্তরের হিমেল হাওয়ায় প্রকৃতিতে আগাম শীতের পদধ্বনি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল থেকে বিরতিহীনভাবে আকাশ ভেঙে থেমে থেমে ঝরছে এই হালকা বৃষ্টিপাত। অঝোর ধারার বদলে থেমে থেমে চলা এই বৃষ্টি এবং তার সঙ্গে মিশে থাকা শীতল বাতাসের দোলায় গোটা জনপদে এক ধরনের স্নিগ্ধ শীতের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রকৃতির এমন অকস্মাৎ পরিবর্তনের ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার স্বাভাবিক গতিপ্রবাহে বেশ কিছুটা স্থবিরতা ও ভিন্নতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

ভোরের আলো ফোটার পর থেকেই পুরো হিলি অঞ্চলের আকাশ ঘন মেঘের চাদরে ঢাকা পড়ে থাকে, যার ফলে সারাদিনেও সূর্যের সোনালী রোদের দেখা মেলেনি। মেঘাচ্ছন্ন বৈরী আবহাওয়া এবং অবিরাম জলকণার উপস্থিতির কারণে বায়ুমণ্ডলের স্বাভাবিক তাপমাত্রা লক্ষণীয় মাত্রায় নিচে নেমে গেছে। পারদ এভাবে দ্রুত কমে আসার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্পষ্ট ঠান্ডার অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে পরিবারগুলোর শিশু ও বয়োবৃদ্ধ সদস্যদের ক্ষেত্রে এই হঠাৎ শৈত্যপ্রবাহের অনুভূতি অনেক বেশি প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে। ঘরের বাইরে বের হওয়া বহু মানুষকে ইতিমধ্যে শীত নিবারণের জন্য হালকা ধরনের গরম কাপড় পরিধান করতে দেখা গেছে।

সকালের এই বৃষ্টি ও শীতল বাতাসের কারণে হিলি বাজারের প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা এবং আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে সাধারণ মানুষের পদচারণা অন্যান্য সাধারণ দিনের তুলনায় বেশ সীমিত হয়ে পড়েছে। স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্যে কিছুটা ভাটা পড়লেও জীবিকা কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় জরুরি কাজে যাদের ঘরের বাইরে আসতে হয়েছে, তারা ছাতা মাথায় দিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরা করছেন। সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল তুলনামূলকভাবে ধীরগতির রূপ নিয়েছে এবং পথচারীদের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় বাজার এলাকায় এক শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে।

এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিগত কয়েক দিন ধরেই শেষ রাতের প্রহরে এবং প্রত্যুষে বাতাসে হালকা ঠান্ডা বা শীতের আমেজ অনুভব করা যাচ্ছিল। তবে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে শুরু হওয়া এই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি এবং হিমেল বাতাসের যৌথ প্রভাবে সেই শীতের অনুভূতি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। অগ্রহায়ণের অনেক আগেই আশ্বিনের মেঘলা দিনে এমন শীতের আগমনী বার্তা পুরো সীমান্তবর্তী জনপদের আবহে এক অন্যরকম ঋতু পরিবর্তনের দোলা এনে দিয়েছে।

কার্তিকের শুরুতেই এমন আকস্মিক বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রার নিম্নগতি উত্তরাঞ্চলের সীমান্ত জনপদে যেন আগাম শীতের আগমনী বার্তাকে নিশ্চিত করে তুলেছে। তবে হঠাৎ করে আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে তাপমাত্রা নেমে যাওয়ায় সর্দি, কাশি কিংবা ঠান্ডাজনিত নানা মৌসুমি শারীরিক জটিলতা বৃদ্ধি পাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এই সময়ে বিশেষ করে শিশু এবং বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি বাড়তি পারিবারিক যত্ন ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি, যাতে হঠাৎ নেমে আসা এই শীতের আবহ তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় কোনো ধরনের ভোগান্তি বয়ে না আনে।

হিলিতে কাঁচামরিচের বাম্পার ফলন: চড়া দামে কৃষকের মুখে হাসি

প্রতিবেদক: নুরুজ্জামান হোসেন, হিলি (দিনাজপুর) প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০২ অপরাহ্ণ
হিলিতে কাঁচামরিচের বাম্পার ফলন: চড়া দামে কৃষকের মুখে হাসি

দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী হাকিমপুর উপজেলার হিলিতে অর্থকরী ফসল হিসেবে কাঁচামরিচের বাণিজ্যিক চাষাবাদে বৈপ্লবিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তুলনামূলকভাবে স্বল্প উৎপাদন ব্যয়, সহজ ও নির্বিঘ্ন পরিচর্যা পদ্ধতি এবং বর্তমান খোলা বাজারে আকর্ষণীয় ও স্থিতিশীল মূল্যের কারণে সনাতনী ধানসহ অন্যান্য প্রথাগত ফসলের পরিবর্তে কৃষকরা এখন ব্যাপকভাবে কাঁচামরিচ আবাদের দিকে ঝুঁকছেন। অনুকূল আবহাওয়া ও স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ধারাবাহিক পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত দিকনির্দেশনায় চলতি মৌসুমে ফসলের আশাতীত বাম্পার ফলন অর্জিত হয়েছে। বাজারে কাঁচামরিচের সন্তোষজনক ও চড়া পাইকারি দর বজায় থাকায় চাষিরা অত্যন্ত প্রফুল্ল চিত্তে ফসল সংগ্রহ ও বিক্রির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

সরেজমিনে হাকিমপুর উপজেলার ডাঙ্গাপাড়া, বোয়ালদার, খাট্টামাধবপাড়া এবং আলীহাট এলাকার প্রত্যন্ত মেঠোপথ ও ফসলি মাঠগুলো ঘুরে দেখা গেছে নয়নাভিরাম ও কর্মচঞ্চল এক দৃশ্য। বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠজুড়ে বাণিজ্যিকভাবে গড়ে তোলা হয়েছে সবুজ কাঁচামরিচের ক্ষেত। প্রতিটি গাছের ডালপালায় থোকায় থোকায় ঝুলছে সতেজ ও চকচকে কাঁচা মরিচ। সকালের মিষ্টি রোদ ওঠার সাথে সাথেই কৃষকদের ব্যস্ততা শুরু হয়ে যায়; মাঠে কেউ নিপুণ হাতে গাছ থেকে মরিচ তুলছেন, আবার কেউ তা ওজন করে বস্তাবন্দী করছেন পাইকারদের কাছে হস্তান্তরের জন্য।

চলতি মৌসুমে এই অঞ্চলের কৃষকরা মূলত রোগবালাই প্রতিরোধী ও উচ্চফলনশীল জাত হিসেবে পরিচিত ‘মিসাইল’ জাতের মরিচ চাষে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। স্থানীয় কৃষিজীবীদের অভিমত অনুযায়ী, ধান বা অন্যান্য প্রচলিত দানাদার শস্যের আবাদে যেখানে প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা দামের অনিশ্চয়তার ঝুঁকি বেশি থাকে, সেখানে মরিচ চাষে ঝুঁকি অনেক কম কিন্তু মুনাফার পরিমাণ বহুগুণ বেশি। এই চাষের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, জমিতে মাত্র একবার স্বাস্থ্যকর চারা রোপণ করলে একটানা কয়েক মাস ধরে পর্যায়ক্রমে ফলন সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। একই জমি থেকে বারবার মরিচ তুলে বাজারে বিক্রির এই সুযোগ কৃষকদের আর্থিক সচ্ছলতা নিশ্চিত করছে, যার ফলেই প্রতিবছরই এই অর্থকরী ফসলের চাষের পরিধি জ্যামিতিক হারে বাড়ছে।

মাঠে কর্মরত কৃষক ইয়ানুল ইসলাম ও মাজেদুল হক সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, চলতি বছর আবহাওয়া পুরোপুরি অনুকূলে থাকায় মরিচের ফলন যেমন চমৎকার হয়েছে, তেমনি বাজারদরও গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে স্থানীয় পাইকারি বাজারগুলোতে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ একশত থেকে একশত বিশ টাকা পর্যন্ত পাইকারি দরে বিক্রি হচ্ছে। জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ ও আনুষঙ্গিক যাবতীয় উৎপাদন ব্যয় বাদ দেওয়ার পরও তাদের হাতে বেশ ভালো অঙ্কের নিট মুনাফা থাকছে। বাজারে এমন অনুকূল পরিবেশ ও ন্যায্যমূল্য বজায় থাকলে আগামী মৌসুমে আরও বর্ধিত জমিতে মরিচ চাষের দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেন তারা।

হিলির উৎপাদিত কাঁচামরিচের গুণগত মান, অনন্য ঝাঁঝ ও সতেজতা উন্নতমানের হওয়ায় তা শুধু স্থানীয় বাজারের চাহিদাই মেটাচ্ছে না, বরং প্রতিদিন ট্রাকে করে রাজধানী ঢাকা, বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন বড় বড় বিভাগীয় ও জেলা শহরের পাইকারি আড়তগুলোতে নিয়মিত সরবরাহ করা হচ্ছে। দূরদূরান্তে পণ্য সরবরাহের এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্থানীয় চাষিদের অর্থনৈতিক লাভের পাশাপাশি পরিবহন খাত, মরিচ তোলা, গ্রেডিং বা বাছাইকরণ এবং লোড-আনলোডের সঙ্গে জড়িত বহু প্রান্তিক দিনমজুর ও শ্রমজীবী মানুষের জন্য সৃষ্টি হয়েছে নির্ভরযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ।

হাকিমপুর উপজেলা কৃষি অফিসের দেওয়া আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, মাত্র দুই বছর আগেও এই উপজেলায় নামমাত্র দুই হেক্টর জমিতে কাঁচামরিচ আবাদ করা হতো। তবে লাভজনক হওয়ায় মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে চলতি মৌসুমে সেই আবাদের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে আট হেক্টরে, যা শতকরা হিসেবে চার গুণ বৃদ্ধির এক অনন্য রেকর্ড।

এ বিষয়ে হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. আরজেনা বেগম জানান, চলতি মৌসুমে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেশি জমিতে কৃষকরা মরিচ চাষ করেছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাষিদের মানসম্পন্ন বীজ নির্বাচন, সঠিক মাত্রায় সুষম সারের ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব উপায়ে পোকা ও রোগবালাই দমনে সার্বক্ষণিক পরামর্শ ও আধুনিক প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। আবহাওয়া অত্যন্ত সহায়ক থাকায় ফলনের মান যেমন চমৎকার হয়েছে, তেমনি কৃষকরাও তাদের কাঙ্ক্ষিত ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন, যা আগামীতে এই অঞ্চলে মরিচ চাষের ব্যাপ্তি আরও বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে ফসলের বহুমুখীকরণ ও কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে উচ্চমূল্যের অর্থকরী ফসল কাঁচামরিচ এক অপার সম্ভাবনাময় দিগন্ত উন্মোচন করেছে। বাজারে যদি বর্তমানের মতো ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত থাকে, তবে আগামী দিনগুলোতে এই অঞ্চলে মরিচের বাণিজ্যিক আবাদ আরও নতুন মাত্রা পাবে। সঠিক বাজার ব্যবস্থাপনা, নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ব্যবস্থা এবং স্থানীয় কৃষি প্রশাসনের সার্বিক তদারকি বজায় থাকলে কাঁচামরিচ চাষ কেবল কৃষকের ঘরেই সচ্ছলতা আনবে না, বরং তা জাতীয় গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও গতিশীল ও সমৃদ্ধ করতে এক অনন্য ভূমিকা পালন করবে।