বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শিরোনাম:
কক্সবাজারে স্কুলছাত্রীকে ধ/র্ষ/ণে/র অভিযোগে মূলহোতা আরফাত গ্রেপ্তার, ভিকটিম ২৮ সপ্তাহের গর্ভবতীউখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন আরএমও হিসেবে ডা. নুরুল হাসানের দায়িত্ব গ্রহণপটিয়ার মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি রুবেল টেকনাফে র‌্যাবের খাঁচায় আটকনরসিংদীর ভেলানগরে মাদক সম্রাট সমীর মিয়ার অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী, দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিপটিয়ায় মিনি স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকচট্টগ্রামে লোকনাথ মন্দির দখল নিয়ে ইসকন ও সাধারণ হিন্দুদের সংঘর্ষ, কক্ষ ভাঙচুরচট্টগ্রামে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে চসিকের মেগা অপারেশনউখিয়া থেকে অপহৃত তরুণকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার করলো র‌্যাব-১৫গাজীপুরে পুলিশ বক্সে ঢুকে সাংবাদিকের ওপর হামলা আটক -১উখিয়ায় বাবার বাড়ি যাওয়া নিয়ে বিরোধ, গৃহবধূর মৃত্যুর পর স্বামী ও শাশুড়ি আটকউখিয়া সীমান্তে বিজিবি-আরএসও সম্মুখ যুদ্ধ, বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধারপেকুয়ায় ২টি বন্দুক ও গোলাবারুদসহ পেশাদার অস্ত্রধারী গ্রেফতারসিএনজির ইঞ্জিন বক্সে ২৩ হাজার ই/য়া/বা! টেকনাফে র‌্যাব-১৫ এর জালে চালক। ‎টেকনাফে ১০ বছরের শিশুকে ধ/র্ষ/ণচেষ্টা: র‌্যাব-১৫ কর্তৃক আসামী গ্রেফতার, ভিকটিম উদ্ধারকক্সবাজারে র‌্যাবের সফল অভিযান: বিপুল পরিমাণ ই/য়া/বা, হে/রো/ই/ন ও আ/ই/স/সহ শীর্ষ মা/দ/ক কারবারি আজিজ গ্রে/ফ/তা/র ‎

অতীতের ১২ সংসদ, কারা কারা করেছিল সরকার গঠন

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৬:২৬ অপরাহ্ণ
অতীতের ১২ সংসদ, কারা কারা করেছিল সরকার গঠন
১৬

টানা ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এখন নির্বাচনের দিকে মোড় নিয়েছে। গত বছরের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার সরকারের ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে যাওয়ার পর, ৫ আগস্ট তিনি দেশ ত্যাগ করেন। এই পটভূমিতে, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক দ্বাদশ সংসদ বিলুপ্ত করার পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাচন আয়োজন করতে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।

একাধিক সূত্রে জানা যায়, এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে, ছয়বার সরকার গঠন করা আওয়ামী লীগসহ বেশ কয়েকটি বড় দলের নির্বাচন বর্জন করার সম্ভাবনা রয়েছে।

স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কারণে সরকারপ্রধানদের পতন হয়েছে। সর্বশেষ আওয়ামী লীগের টানা ১৬ বছরের ক্ষমতার অবসান ঘটে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। বিগত ১২টি সংসদ নির্বাচনের মধ্যে সাতটি সংসদ নানা আন্দোলন ও গণ-অসন্তোষের মুখে ভেঙে পুনরায় নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়েছিল। শেষ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংসদ কার্যকর ছিল মাত্র ছয় মাসের মতো। রাষ্ট্রপতি দ্বাদশ সংসদ বিলুপ্ত করার পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করেন।

বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে রাষ্ট্র পরিচালিত হলেও একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে সরকার। যদিও ছয়বার সরকার গঠন করা আওয়ামী লীগসহ বেশ কয়েকটি দল এবার নির্বাচনের বাইরে থাকতে পারে।

রোজার সপ্তাহখানেক আগেই ভোটের পরিকল্পনা ইসির

নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানায়, নির্বাচনের পর পবিত্র রমজান শুরুর আগে তারা অন্তত এক সপ্তাহ সময় হাতে রাখতে চায়। কারণ, ভোটের দিন অনিয়ম, মারামারি বা হানাহানির কারণে যেসব কেন্দ্রে বা আসনে ভোট বন্ধ বা স্থগিত হবে, সেসব কেন্দ্র বা আসনে এক সপ্তাহের মধ্যে পুনরায় ভোটগ্রহণ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে নাসির উদ্দিন কমিশনের। এই ভোট যেন রমজানে শুরু হওয়ার পর না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে চায় কমিশন।

এছাড়া, নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের পর যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে, তাদের সরকার গঠন করতেও সপ্তাহখানেক সময় লাগতে পারে। সেই প্রক্রিয়াটিও যেন রমজান শুরুর আগে সম্পন্ন করা যায়, সেই সুযোগ রাখতে চায় ইসি।

হিসাব অনুযায়ী, আগামী বছর পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে পারে ১৮ অথবা ১৯ ফেব্রুয়ারি। নির্বাচন কমিশন যদি এক সপ্তাহ সময় হাতে রাখতে চায়, তবে ১২ তারিখের মধ্যে ভোট সম্পন্ন করতে হবে।

এদিকে শবে বরাতের সম্ভাব্য তারিখ ৪ ফেব্রুয়ারি। ইসি এর আগে জানিয়েছিল, শবে বরাতের পর থেকে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধের মধ্যে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা হবে। যদি ৫ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার শবে বরাতের কারণে সরকারি ছুটি থাকে, তবে ইসি ৮ অথবা ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের তারিখ নিয়ে ভাবছিল।

কোন কোন দিনে কতটি সংসদ নির্বাচন হয়েছিল

বর্তমান নির্বাচন কমিশন আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণের ক্ষেত্রে আগের ১২টি সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দিনকে আমলে নিয়েছে।

বিগত ১২টি নির্বাচনের মধ্যে চারটি হয়েছে রোববার, চারটি বুধবার, দুটি সোমবার ও দুটি বৃহস্পতিবারে। শুক্র, শনি ও সোমবার কোনো নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়নি। আগামী বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি রোববার, ১০ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারি বুধবার এবং ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার। এই তারিখগুলোর মধ্যে ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবারকে ভোটগ্রহণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত বলে মনে করেছে ইসি।

ছয়বার আওয়ামী লীগ, চারবার বিএনপি ও দুবার জাতীয় পার্টি

স্বাধীনতার পর দেশে এখন পর্যন্ত ১২টি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৬ বার, বিএনপি চারবার ও জাতীয় পার্টি দুবার জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। আওয়ামী লীগ প্রথম, সপ্তম, নবম, দশম, একাদশ ও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে সরকার গঠন করে।

বিএনপি দ্বিতীয়, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও অষ্টম সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের মধ্যদিয়ে সরকার গঠন করে। জাতীয় পার্টি তৃতীয় ও চতুর্থ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকারে আসে। সংসদের মেয়াদ পাঁচ বছর হলেও রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ নানা কারণে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও দ্বাদশ সংসদ মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেনি। তবে পঞ্চম, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম ও একাদশ সংসদ তাদের মেয়াদকাল পূরণ করেছে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনগুলোর মধ্যে ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ৮৭ শতাংশ ভোট পড়েছিল। অন্যদিকে, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে কম ২৬.৫ শতাংশ ভোট পড়ে।

মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেনি যে যে সংসদ

প্রথম সংসদ নির্বাচনের পর ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৫ সালের মধ্যে অর্থাৎ মাত্র দুই বছরের মাথায় রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক পরিবর্তনের ফলে (একদলীয় শাসন ব্যবস্থার প্রবর্তন) সংসদ ভেঙে যায়। এরপর দ্বিতীয় সংসদ ১৯৭৭ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার পর সামরিক অভ্যুত্থান এবং সামরিক আইন জারির মাধ্যমে তা ভেঙে যায়।

তৃতীয় সংসদ ১৯৮৬ সাল থেকে ১৯৮৭ পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের পর সরকার বিরোধী আন্দোলনের মুখে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়। চতুর্থ সংসদ ১৯৮৮ সাল থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার পর ব্যাপক গণঅভ্যুত্থানের মুখে তা-ও রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ভেঙে দেওয়া হয়।

পঞ্চম সংসদ ১৯৯১ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির দাবিতে বিরোধী দলের সংসদ বর্জন ও আন্দোলনের মুখে ১৯৯৫ সালের ২৪ নভেম্বর এ সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়। এছাড়া ষষ্ঠ সংসদ ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ১৯৯৬ সালের মার্চ পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। এরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিল পাস করার পরই ব্যাপক আন্দোলনের মুখে তা-ও ভেঙে দেওয়া হয়। মাত্র ১২ কার্যদিবসের সংসদ ছিল এটি।

সর্বশেষ দ্বাদশ সংসদ ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে একই বছরের আগস্ট পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন সরকার প্রধানের পদত্যাগের পর রাষ্ট্রপতি সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন।

প্রথম সংসদ নির্বাচন

১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ স্বাধীন দেশে সর্বপ্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৩টি আসন পেয়ে জয়ী হয় আওয়ামী লীগ। ১৪টি রাজনৈতিক দল এ নির্বাচনে অংশ নেয়। বিরোধীদের মধ্যে জাতীয় লীগ ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) একজন করে এবং স্বতন্ত্র পাঁচজন প্রার্থী বিজয়ী হন। এ নির্বাচনে ভোট পড়ে ৫৫ দশমিক ৬১ শতাংশ। এ সংসদের মেয়াদ ছিল দুই বছর ছয় মাস।

দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচন

১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ২৯টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। নির্বাচনে ভোট পড়ে ৫১ দশমিক ২৯ শতাংশ। এতে বিএনপি ২০৭টি আসন পেয়ে জয়লাভ করে। অন্য দলগুলো পায় ৭৭টি আসন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ (মালেক) ৩৯টি, জাতীয় লীগ দুটি, আওয়ামী লীগ (মিজান) দুটি, জাসদ ৮টি, মুসলিম ও ডেমোক্রেটিক লীগ ২০টি, ন্যাপ একটি, বাংলাদেশ গণফ্রন্ট দুটি, বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল একটি, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক দল একটি ও জাতীয় একতা পার্টি একটি আসন পায়। নির্বাচিত বাকি ১৬ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এ সংসদের মেয়াদ ছিল ৩ বছর।

তৃতীয় সংসদ নির্বাচন

১৯৮৬ সালের ৭ মে তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ১৫৩টি আসন পেয়ে জয় লাভ করে। ভোটের হার ছিল ৬৬ দশমিক ৩১ শতাংশ। বিএনপি এ নির্বাচন বর্জন করে। অংশ নেয় মোট ২৮টি রাজনৈতিক দল।

জাতীয় পার্টি বাদে অন্য দলগুলো পায় ১১৫ আসন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ ৭৬টি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) পাঁচটি, ন্যাপ (মোজাফফর) দুটি, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি পাঁচটি, বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) তিনটি, জাসদ (রব) চারটি, জাসদ (সিরাজ) তিনটি, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ ১০টি, মুসলিম লীগ চারটি ও ওয়ার্কার্স পার্টি তিনটি আসন পায়। বাকি ৩২ আসনে নির্বাচিত হন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এ সংসদের মেয়াদ ছিল ১৭ মাস।

চতুর্থ সংসদ নির্বাচন

১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল এ নির্বাচন বর্জন করে। নির্বাচনে ভোট পড়ে ৫১ দশমিক ৮১ শতাংশ। জাতীয় পার্টি ২৫১টি আসন পেয়ে জয় লাভ করে।

নির্বাচনে আটটি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। ১৯টি আসন পেয়ে সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসে সম্মিলিত বিরোধী দল। এছাড়া, স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৫টি, জাসদ (সিরাজ) তিনটি ও ফ্রিডম পার্টি দুটি আসন লাভ করে। এ সংসদের মেয়াদ ছিল দুই বছর সাত মাস।

পঞ্চম সংসদ নির্বাচন

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে দুটি প্রধান দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ ৭৫টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। এ নির্বাচনে ভোট পড়ে ৫৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ। আর বিএনপি ১৪০টি আসন পেয়ে জয় লাভ করে।

অপরদিকে আওয়ামী লীগ ৮৮টি, জাতীয় পার্টি ৩৫টি, বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) পাঁচটি, জাসদ (সিরাজ) একটি, ইসলামী ঐক্যজোট একটি, জামায়াতে ইসলামী ১৮টি, সিপিবি পাঁচটি, ওয়ার্কার্স পার্টি একটি, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) একটি, গণতন্ত্রী পার্টি একটি ও ন্যাপ (মোজাফফর) একটি আসন পায়। তিনটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয় লাভ করেন। সংসদের মেয়াদ ছিল চার বছর আট মাস।

ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচন

১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দলীয় সরকারের অধীনে হওয়া এ নির্বাচন আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামীসহ অনেকগুলো দল বর্জন করে। ৪১টি রাজনৈতিক দল এ নির্বাচনে অংশ নেয়। বিএনপি ২৭৮টি আসন পেয়ে জয় লাভ করে। এর মধ্যে ৪৯টি আসনে বিএনপি প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। নির্বাচনে ফ্রিডম পার্টি একটি আসন পায়। বাকি ১০ আসনে জয় লাভ করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী।

এছাড়া, ১০টি আসনে ফলাফল অসমাপ্ত ছিল এবং একটি আসনের নির্বাচন আদালতের আদেশে স্থগিত করা হয়। এ নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ২৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ। এ সংসদের মেয়াদ ছিল মাত্র ১২ দিন।

সপ্তম সংসদ নির্বাচন

১৯৯৬ সালের ১২ জুন সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৪৬টি আসনে জয় লাভ করে। নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৭৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ। এটি ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

৮১ রাজনৈতিক দল এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। অন্য দলগুলোর মধ্যে বিএনপি ১১৬টি, জাতীয় পার্টি ৩২টি, জামায়াতে ইসলামী তিনটি, ইসলামী ঐক্যজোট একটি ও জাসদ একটি আসন পায়। স্বতন্ত্র প্রার্থী জয় লাভ করেন একটি আসনে। সংসদের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর।

অষ্টম সংসদ নির্বাচন

২০০১ সালের ১ অক্টোবর অষ্টম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিএনপি ১৯৩টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করে। ৫৪টি রাজনৈতিক দল এ নির্বাচনে অংশ নেয়।

বিএনপি বাদে অন্য দলগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগ ৬২টি, জামায়াতে ইসলামী ১৭টি, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ১৪টি, জাতীয় পার্টি (না-ফি) চারটি, জাতীয় পার্টি (মঞ্জু) একটি, ইসলামিক ঐক্যজোট দুটি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ একটি আসন পায়। বাকি ছয় আসনে জয়লাভ করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। সংসদের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর। নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৭৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

নবম সংসদ নির্বাচন

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত এটি সর্বশেষ ভোট। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৩০টি আসন পেয়ে জয় লাভ করে। রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন পদ্ধতি চালু হওয়ার পর এটি প্রথম ভোট। এতে ৩৮টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়।

আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য দলগুলোর মধ্যে বিএনপি ৩০টি, জাতীয় পার্টি ২৭টি, জাসদ তিনটি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি দুটি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) একটি, জামায়াতে ইসলামী দুটি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) একটি আসন পায়। স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হয় চার আসনে। নির্বাচনে ভোট পড়ে ৮৭ দশমিক ১৩ শতাংশ।

দশম সংসদ নির্বাচন

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পায় আওয়ামী লীগ ও এর শরিক দলগুলো। ফলে ১৪৭টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়। পরে বিএনপি ও এর নেতৃত্বাধীন জোট নির্বাচন বর্জন করে।

এ নির্বাচনে মোট ১২টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। আওয়ামী লীগ একাই ২৩৪টি আসন পায়। জাতীয় পার্টি ৩৪টি, ওয়ার্কার্স পার্টি ৬টি, জাসদ (ইনু) পাঁচটি, তরীকত ফেডারেশন দুটি, জাতীয় পার্টি (জেপি) দুটি, বিএনএফ একটি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১৬টি আসনে জয়লাভ করে। নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৪০ দশমিক ০৪ শতাংশ।

একাদশ সংসদ নির্বাচন

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৩৯টি নিবন্ধিত দলের সবাই অংশ নেয়। মোট প্রার্থী ছিলেন এক হাজার ৮৬৫ জন। এ নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৮০ দশমিক ২০ শতাংশ। এতে আওয়ামী লীগ এককভাবে ২৫৮টি আসন পায়। জাতীয় পার্টি ২২টি এবং মহাজোটভুক্ত অন্য দলগুলো ৮টি আসনে জয়ী হয়।

অপরদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টভুক্ত বিএনপি ৬টি, গণফোরাম দুটি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা তিনটি আসনে জয়ী হন।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এতে দেশের ৪৪টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ২৮টি দল অংশ নেয়। নির্বাচন বর্জন করে বিএনপিসহ ১৬টি নিবন্ধিত দল। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২২২, জাতীয় পার্টি ১১, ওয়ার্কার্স পার্টি এক, জাসদ এক, কল্যাণ পার্টি এক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৬২ আসনে বিজয়ী হন। এই সংসদ স্থায়ী হয়েছিল ৬ মাস ৭ দিন।

Polls

আজকের প্রশ্ন

আপনি বাংলা নিউজ টিভির পেইজে লাইক ফলো দিয়েছেন কি?

View Results

Loading ... Loading ...

কক্সবাজারে স্কুলছাত্রীকে ধ/র্ষ/ণে/র অভিযোগে মূলহোতা আরফাত গ্রেপ্তার, ভিকটিম ২৮ সপ্তাহের গর্ভবতী

‎মোঃ হারুন অর রশিদ উখিয়া, কক্সবাজার প্রতিনিধি: প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ১১:৪১ অপরাহ্ণ
কক্সবাজারে স্কুলছাত্রীকে ধ/র্ষ/ণে/র অভিযোগে মূলহোতা আরফাত গ্রেপ্তার, ভিকটিম ২৮ সপ্তাহের গর্ভবতী

কক্সবাজার সদর থানা এলাকায় ১৬ বছরের এক স্কুলপড়ুয়া নাবালিকা শিক্ষার্থীকে ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর ঘটনার মূলহোতা রিয়াজ উদ্দিন আরফাত (২৪)-কে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১৫।

‎গতকাল শনিবার (০৬ জুন) রাত ১০:১০ ঘটিকায় কক্সবাজার শহরের কলাতলী রোডস্থ ‘আলগনি হোটেল’ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

‎গ্রেপ্তারকৃত রিয়াজ উদ্দিন আরফাত কক্সবাজার পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের ঝিলংজা ঝিরঝিরি পাড়া (চন্দ্রিমা মাঠ) এলাকার আইয়ুব বাবুর্চির ছেলে।

‎মামলার এজাহার ও র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। সে স্কুলে যাতায়াতের পথে ঝিলংজা এলাকার বাসিন্দা রিয়াজ উদ্দিন আরফাত তাকে বিভিন্ন সময় প্রলোভন ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে জোরপূর্বক একাধিকবার ধর্ষণ করে। সম্প্রতি ভিকটিমের শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করে পরিবারের সদস্যরা তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক জানান যে, ওই নাবালিকা শিক্ষার্থী বর্তমানে ২৮ সপ্তাহের গর্ভবতী।

‎এই ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রেক্ষিতে ভিকটিমের পরিবার বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিকে গ্রেপ্তারে ছায়াতদন্ত ও গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে র‌্যাব-১৫।

‎র‌্যাব-১৫ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল রাতে র‌্যাব-১৫ কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন সদর কোম্পানির একটি চৌকস আভিযানিক দল কলাতলী রোড এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালীন মামলার প্রধান পলাতক আসামি রিয়াজ উদ্দিন আরফাতকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় র‌্যাব।

‎গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে তাকে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন আরএমও হিসেবে ডা. নুরুল হাসানের দায়িত্ব গ্রহণ

মোঃ হারুন অর রশিদ, উখিয়া (কক্সবাজার) প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ১১:৩৩ অপরাহ্ণ
উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন আরএমও হিসেবে ডা. নুরুল হাসানের দায়িত্ব গ্রহণ

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং নবাগত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো: নুরুল হাসানের অফিসিয়াল কক্ষ

কক্সবাজারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জনাকীর্ণ উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) হিসেবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন চিকিৎসা খাতের অত্যন্ত দক্ষ ও অভিজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মো: নুরুল হাসান। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল পদে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর এক অত্যন্ত আবেগঘন এবং বিনম্র বার্তায় তিনি তাঁর কর্মক্ষেত্রের সকল সিনিয়র সহকর্মী, পেশাগত শুভাকাঙ্ক্ষী এবং উখিয়ার স্থানীয় সাধারণ জনগণের কাছে অন্তরের অন্তস্থল থেকে দোয়া ও আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন। তাঁর এই নতুন পথচলাকে উখিয়ার স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ।

এক সংক্ষিপ্ত ও তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়ায় নবাগত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো: নুরুল হাসান সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, হামরোগের প্রাদুর্ভাব বা চলমান নানাবিধ বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক সংকটের এই অত্যন্ত কঠিন ও নাজুক সময়ে এই গুরুদায়িত্বটি তাঁর ওপর অর্পিত হয়েছে। তিনি অত্যন্ত বিনয়ের সাথে এবং দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে উল্লেখ করেন যে, ব্যক্তিগতভাবে নিজ থেকে এই পদটি বা অতিরিক্ত দায়িত্ব তিনি না চাইলেও কেবল পেশাগত আইনি ও মানবিক প্রয়োজনে এবং কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রেখেই তাঁকে এই গুরুভার নিজের কাঁধে তুলে নিতে হয়েছে।

উখিয়াবাসীর চিকিৎসাসেবা সংক্রান্ত এক অঙ্গীকার ব্যক্ত করে ডা. মো: নুরুল হাসান আরও বলেন, “আল্লাহ পাকের অশেষ মেহেরবানিতে, আমার পেশাগত জীবনের সম্মানিত সিনিয়রদের গভীর দোয়ায় এবং সর্বস্তরের মানুষের আন্তরিক সহযোগিতায় এই কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং পথচলা যেন সহজ ও সুন্দর হয়—এজন্য আমি সবার কাছে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে দোয়ার দরখাস্ত করছি। উখিয়াবাসীর দোরগোড়ায় আধুনিক ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা সুনিশ্চিত করতে আমি আমার মেধা ও শ্রমের সর্বোচ্চ চেষ্টা সর্বদা বিলিয়ে দেব।”

নবাগত এই আরএমও চিকিৎসা ক্ষেত্রে অত্যন্ত দক্ষ, দূরদর্শী এবং উচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন একজন চিকিৎসক হিসেবে সুপরিচিত। তিনি দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসালয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (সিএমসি) থেকে অত্যন্ত সফলতার সাথে এমবিবিএস ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি সরকারি চাকুরির অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ ৪৮তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) পরীক্ষায় মেধার স্বাক্ষর রেখে সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় তাঁর ব্যাপক উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও ডিগ্রি রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো এফসিপিএস (পার্ট-১, অর্থোপেডিক্স), সিসিডি বারডেম (ডায়াবেটিস), সিএমইউ (আল্ট্রাসনোগ্রাফি) এবং এমসিজিপি (শিশু ও চর্ম রোগ)। বর্তমানে তিনি আবাসিক মেডিকেল অফিসার (RMO) হিসেবে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরাসরি যুক্ত হলেন।

উখিয়া হাসপাতালে সরকারি নিয়মতান্ত্রিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্থানীয় সাধারণ ও প্রান্তিক মানুষের চিকিৎসাপ্রাপ্তির সুবিধার্থে তিনি তাঁর নিয়মিত প্রাইভেট প্র্যাকটিসও সমান তালে চালিয়ে যাবেন বলে নিশ্চিত করেছেন। উখিয়ার পালংখালী এলাকায় অবস্থিত সুপরিচিত ‘নিউরন মেডিকেল সেন্টার’-এ প্রতিদিন বিকাল ৪টা থেকে শুরু করে রাত ৮টা পর্যন্ত তিনি নিয়মিত চেম্বার করবেন এবং সাধারণ রোগীদের আন্তরিকভাবে চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ প্রদান করবেন। এদিকে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামগ্রিক চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন এবং আবাসিক মেডিকেল অফিসার হিসেবে ডা. মো: নুরুল হাসানের এই নতুন ও প্রত্যয়ী পথচলাকে স্থানীয় সচেতন মহল ও সুধী সমাজ আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানিয়েছেন। নিবেদিত চিকিৎসা সেবা প্রদানের মাধ্যমে তিনি দ্রুত উখিয়াবাসীর আস্থা অর্জন করবেন বলে সবাই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ডা. মো: নুরুল হাসানের মতো একজন যোগ্য ও উচ্চ শিক্ষিত চিকিৎসককে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও হিসেবে পদায়ন করা নিঃসন্দেহে একটি যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত। হামরোগসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলা করে তিনি উখিয়ার সাধারণ ও অবহেলিত মানুষের চিকিৎসাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করবেন বলে সর্বস্তরের জনগণ গভীর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

পটিয়ার মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি রুবেল টেকনাফে র‌্যাবের খাঁচায় আটক

মোঃ হারুন অর রশিদ, উখিয়া (কক্সবাজার) প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ১১:২১ অপরাহ্ণ
পটিয়ার মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি রুবেল টেকনাফে র‌্যাবের খাঁচায় আটক

মাদক মামলার ১ বছর ১ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের সাজা মাথায় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে পলাতক থাকা এক সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১৫। গতকাল শনিবার (৬ জুন ২০২৬) সন্ধ্যায় কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থানাধীন কৌশলগত ও জনাকীর্ণ এলাকা হোয়াইক্যং বাজার এলাকায় এক ঝটিকা ও সফল অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃত আসামির বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত মাদক আইনে সুনির্দিষ্ট সাজার পরোয়ানা জারি ছিল এবং দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে তাকে আইনের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

কক্সবাজারের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ও র‌্যাব সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত ওই কুখ্যাত সাজাপ্রাপ্ত আসামির নাম মোঃ সাইফুল ইসলাম প্রকাশ রুবেল (২৫)। তিনি মূলত টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত লম্বাবিল গ্রামের বাসিন্দা সামশুল আলমের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিজের আসল পরিচয় গোপন করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাযাবরের মতো যাযাবর জীবনযাপন করে আসছিলেন যাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁকে সহজে খুঁজে না পায়।

র‌্যাব-১৫ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বস্ত গোপন সংবাদ ও সুনির্দিষ্ট ডিজিটাল তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল শনিবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৪০ ঘটিকার সময় সিপিসি-২, র‌্যাব-১৫ (হোয়াইক্যং ক্যাম্প)-এর একটি চৌকস ও অত্যন্ত দক্ষ আভিযানিক দল হোয়াইক্যং বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। আভিযানিক দলের উপস্থিতি এবং র‌্যাবের ভারী বুটের শব্দ টের পেয়ে সুচতুর আসামি মোঃ সাইফুল ইসলাম প্রকাশ রুবেল লোকালয়ের ভেতর দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তবে র‌্যাবের চৌকস দল চারপাশ থেকে কর্ডন করে ধাওয়া দিয়ে তাকে হোয়াইক্যং বাজার এলাকা থেকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

র‌্যাব-১৫-এর পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, বিগত ২০১৯ সালে চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া থানায় গ্রেপ্তারকৃত আসামি রুবেলের বিরুদ্ধে একটি বড় ধরনের মাদক মামলা দায়ের করা হয়। উক্ত মামলায় দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে বিজ্ঞ আদালত তাকে সুনির্দিষ্টভাবে দোষী সাব্যস্ত করেন এবং ০১ বছর ০১ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের রায় প্রদান করেন। একই সাথে বিজ্ঞ আদালত থেকে আসামির বিরুদ্ধে নিয়মিত সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়। আদালত থেকে এই সাজা পরোয়ানা জারির পর থেকেই সুচতুর আসামি রুবেল আইনি প্রক্রিয়া ও সাজার মেয়াদ এড়াতে দেশের বিভিন্ন স্থানে সুকৌশলে ও ক্রমাগত স্থান পরিবর্তন করে আত্মগোপন করে আসছিলেন।

র‌্যাব আরও জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ও ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এবং আদালতের রায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তাকে রাতেই টেকনাফ মডেল থানায় যথাযথ প্রক্রিয়ায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এই সফল অভিযানের বিষয়ে র‌্যাব-১৫ এর দায়িত্বপ্রাপ্ত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, মাদকের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি মাঠপর্যায়ে কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে এবং একটি সম্পূর্ণ অপরাধমুক্ত সুশীল সমাজ গঠনে র‌্যাবের এই দূরদর্শী, কঠোর ও আপসহীন আভিযানিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও সমান তালে অব্যাহত থাকবে।

পটিয়া থানার ২০১৯ সালের মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি রুবেলকে দীর্ঘ বছর পর টেকনাফ থেকে গ্রেপ্তার করা র‌্যাব-১৫-এর পেশাদারিত্ব ও নিখুঁত গোয়েন্দা নজরদারির এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ। এই ধরনের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের ফলে বিচার ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।