মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩
শিরোনাম:
হিলিতে শিয়ালের কামড়ে নারী, শিশুসহ আহত ৮প্রিজন ভ্যান থেকে ‘পিচ্চি রাজা’ পালানোর ঘটনায় বোনসহ গ্রেফতার ৩‎টেকনাফে মাদরাসা ও ওয়াকফ এস্টেটের সাইনবোর্ড উপড়ে জমি দখলের চেষ্টা, থানায় অভিযোগ। ‎ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণে তোড়জোড়: শীর্ষ পদে আলোচনায় যারাপৃষ্ঠপোষকতার অভাবে অস্তিত্ব সংকটে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী হাডুডুগাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন: ৩৮ নং ওয়ার্ডে সৎ নেতৃত্ব ও উন্নয়নের প্রত্যয়ে এগিয়ে চলেছেন মোঃ কামরুজ্জামান (কামরুল)কিশোরগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে বসতবাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ​গাজীপুরে ঠিকাদার রানা মিয়াকে ঘিরে ষড়যন্ত্র: মিথ্যা মামলা নাকি ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব?নরসিংদী ডিসি রোডে পৌরসভার জায়গা নিয়ে কথাগাছায় ২ শিক্ষার্থীকে উ/ল/ঙ্গ করে পৈশাচিক নির্যাতন: উত্তপ্ত খুন্তির ছ্যাঁকা দেওয়ায় শিক্ষক আটকগাছায় গরু চুরির অপবাদে অটোরিকশা চালকের ওপর মধ্যযুগীয় বর্বরতাকক্সবাজারে ইকরাম হ/ত্যাচেষ্টা ও গু/লি/ব/র্ষ/ণ মামলার এজাহারনামীয় আসামি মুবিন গ্রেপ্তারউখিয়া সীমান্তে বিজিবির ঝটিকা অভিযান: ৪০ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক ১উখিয়ায় পিস্তল ও গুলিসহ আরসার সক্রিয় সন্ত্রাসী জহির গ্রেফতারশাহপরীর দ্বীপে কোটি টাকার আইসের চালান জব্দ করল র‍্যাব-১৫

শেষ পর্যন্ত কি জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা হচ্ছে এনসিপির?

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ
শেষ পর্যন্ত কি জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা হচ্ছে এনসিপির?
৬৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনীতির মাঠে বিএনপি বলয়ের বাইরে শক্তিশালী বলয় তৈরি করছে জামায়াতসহ ইসলামি আট দল। তারা সমঝোতার দরজা এখনো খোলা রেখেছে। নবীন দল জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি) করেছে নতুন জোট। তবে শেষ পর্যন্ত তারা বিএনপি কিংবা জামায়াতের সঙ্গেই সমঝোতার আভাস দিচ্ছে।

জামায়াত জানিয়েছে, এনসিপির সঙ্গে আলোচনা এখনো চলমান। অভ্যুত্থানের শরিক যে কাউকে তারা সমঝোতায় নিয়ে নির্বাচন করতে আগ্রহী। এক্ষেত্রে নির্বাচনের ডামাডোলের শুরু থেকেই এনসিপিকে সমোঝতা করে নির্বাচনের প্রস্তাব দিয়েছে জামায়াত। এছাড়া জোট গঠনের পরেও এনসিপির সঙ্গে আলোচনা রয়েছে বলে জানিয়েছে দলটি।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জোবায়ের জাগো নিউজকে বলেন, ‘এনসিপিকে তো আমরা আগেই প্রস্তাব দিয়েছি। আলোচনা আছে তাদের পক্ষ থেকে। আলোচনা চলছে। অভ্যুত্থানে যারা অবদান রেখেছে, আমরা তাদের প্রতি সর্বোচ্চ সহমর্মিতা দেখাবো। ব্যক্তি ও দল দুটোই দেখবো। কিন্তু আমাদের সমঝোতায় এলেই যে তাকে প্রার্থী করা হবে এটার তো নিশ্চয়তা নেই। তবে শীর্ষ নেতাদের জন্য আমাদের কনসিডারেশন থাকবে। আসন বণ্টনের জন্য সংখ্যা জরুরি নয়।’

এনসিপির আলোচনার টেবিলে ‘জামায়াত’
গত ৭ ডিসেম্বর এনসিপি, এবি পার্টি ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন গণতান্ত্রিক সংস্কার নামে জোট গঠন করেছে। এনসিপি সূত্রে যায়, জোট গঠন করলেও শেষ পর্যন্ত দলটি বিএনপি কিংবা জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা করে নির্বাচন করবে।

এনসিপির একজন কেন্দ্রীয় সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিএনপির সঙ্গে জোট হওয়ার যে সম্ভাবনা ছিল সেটা কমে গেছে। জামায়াতের সঙ্গে ফরমালি আলোচনা না হলেও কয়েক মাস আগে থেকে একসঙ্গে আন্দোলনসহ সমঝোতা করে নির্বাচনের বিষয়ে কথাবার্তা হয়েছে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনসিপির একজন যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক জাগো নিউজকে বলেন, ‘জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে এনসিপির অনেক নেতাই ইচ্ছুক। বিএনপির সঙ্গে আসন নিয়ে বনিবনা হচ্ছে না। বিগত কয়েক মাস থেকেই জামায়াতের সঙ্গে আলোচনা চলছে। বিএনপির সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। সেক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত কোনো একদিকে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা করতে প্রথম থেকে দ্বিতীয় সারির অনেক নেতার সম্মতি রয়েছে। জামায়াতের সঙ্গে যাওয়ার কিছু কারণ হলো- বেশি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে, এতে দলের সিনিয়র সারির প্রায় প্রত্যেকে নির্বাচন করতে পারবে। অভ্যন্তরীণ কোন্দল নেই। ফলে স্বতন্ত্রভাবে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা কম। আরেকটি বিষয় হলো, জামায়াতের সঙ্গে গেলে তাদের যে রিসোর্স সেগুলোর সুবিধা পাওয়া যাবে। এছাড়া ইসলামি আট দলের নির্দিষ্ট সমর্থক ও যে লোকবল রয়েছে সে সুবিধা পাওয়া যাবে।’

এই নেতা জানান, জামায়াতের সঙ্গে গেলে অনেক সুবিধা রয়েছে। বিএনপির সঙ্গে গেলে কী কী অসুবিধা আছে সে বিষয়ে এনসিপির আলাপ আলোচনার টেবিলে ঘুরপাক খাচ্ছে।

তারা জানান, প্রাথমিকভাবে বিএনপি ২৩৭ আসনে প্রার্থী ঘোষণার পর অধিকাংশ জায়গায় বিদ্রোহীরা হট্টগোল করেছে। এনসিপিকে নমিনেশন দিলে সেখানে যে বিশৃঙ্খলা হবে না তারও নিশ্চয়তা নেই। ফলে এনসিপির প্রথম সারি থেকে দ্বিতীয় সারির অনেকে জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতায় যেতে আগ্রহী, যাতে তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও শিক্ষা সেলের সহ-সম্পাদক মাহবুব আলম জাগো নিউজকে বলেন, ‘এনসিপি নির্দিষ্ট নীতি ও আদর্শ নিয়ে রাজনীতি করছে। জুলাই সনদ নিয়ে এনসিপির অবস্থানের সঙ্গে যাদের মিলবে তাদের সঙ্গে আমরা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি এবং ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো। এনসিপি সমঝোতা করে নির্বাচন করবে কি না সেটা নিশ্চিত হতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে। তবে এনসিপি তার স্বতন্ত্র রাজনীতি চালিয়ে যাবে। সে অনুযায়ী ৩০০ আসনে প্রার্থীও দিচ্ছে।’

আট দলের শরিকরা যা বলছেন

ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুস আহমাদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিএনপির সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় অনেকে আসতে চায়। আমরাও আলোচনার পথ রাখছি। ইসলামি দলের বাইরেও যারা দেশপ্রেমিক ও জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী কিংবা ১৫ বছর ফ্যাসিবাদবিরোধী অবস্থানে ছিলেন তারাও চাইলে আট দলের সঙ্গে আসতে পারেন। সেই সুযোগ এখনো রয়েছে।’

অধ্যক্ষ ইউনুস বলেন, ‘আসন ভাগাভাগির উদ্দেশ্য নিয়ে কেউ এলে আমরা নেগেটিভলি দেখবো। এখানে কে কত আসনে নির্বাচন করবে এটা মুখ্য নয়, আমরা চাইবো কোন দলের কোন প্রার্থীকে দিলে সে জিতে আসতে পারে। এটা আমরা গুরুত্ব দেবো।’

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালাল উদ্দিন আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘এখনো অনেক দল আলোচনা করে, কথাবার্তা বলে। বিএনপি শরিকদের অনেকে আসন না পেয়ে এবং মূল্যায়ন না করার অভিযোগে বের হয়ে আসছে। তারাও আমাদের সঙ্গে আলোচনা করছে। কিছুদিন আগেও এনসিপির সদস্য সচিব আখতারের সঙ্গে কথা হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কারা আসবে, বলার মতো সময় আসেনি।’

জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাগো নিউজকে বলেন, ‘এনসিপি আমাদের সঙ্গে আসার বিষয়টা এনসিপিই ভালো বলতে পারবে। পারস্পরিক কথাবার্তা এখনো চলমান। মনোনয়ন প্রত্যাহারের আগ পর্যন্ত এনসিপি আমাদের সঙ্গী হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘রিসেন্টলি নুরুল হক নুর ও এবি পার্টির আসাদুজ্জামান ফুয়াদের সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে, এগুলোর অনেক প্রভাব পড়ে জোটের ক্ষেত্রে। এই ছোট দলগুলো বুঝতে পেরেছে তাদের সেফ জোন কোথায়। অনেকেই বিশ্বাস করে জামায়াতে গেলে তারা জামায়াতের ফিল্ড ফোর্স কাজে লাগাতে পারবে। তারা বুঝতে পেরেছে জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা করে নির্বাচন করলে শৃঙ্খল সাংগঠনিক শক্তি আর ম্যানপাওয়ারকে তারা কাজে লাগাতে পারবে। এটা জামায়াত করবেও।

Download Photocard

Polls

আজকের প্রশ্ন

আপনি বাংলা নিউজ টিভির পেইজে লাইক ফলো দিয়েছেন কি?

View Results

Loading ... Loading ...

হিলিতে শিয়ালের কামড়ে নারী, শিশুসহ আহত ৮

নুরুজ্জামান হোসেন হিলি প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩২ অপরাহ্ণ
হিলিতে শিয়ালের কামড়ে নারী, শিশুসহ আহত ৮

হাকিমপুর উপজেলার আলিহাট ইউনিয়নের সাদুরিয়া গ্রামে শিয়ালের কামড়ে নারী ও শিশুসহ ৮ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় গ্রামের একটি মুদি দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন শেফালী (৩০), শিউলি (২৭), দেবাশীষ (৪৩), ডলি (৩০), ইয়াসিন আরাফাত (১১), সুফিয়ান (৩৯), মমতাজ (৫৫) ও রাহুল (৯)। তাঁরা সবাই সাদুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয়রা জানান, সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে কয়েকজন মুদি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ একটি শিয়াল পাশের ধানক্ষেত থেকে ছুটে এসে তাঁদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং একে একে কয়েকজনকে কামড় দেয়। শিয়ালটিকে থামাতে গিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও কয়েকজন আক্রান্ত হন।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ তানভির হাসনাত রবিন বলেন, রাত ১০টার দিকে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ৯ জন শিয়ালের কামড়ে আহত হয়ে জরুরি বিভাগে আসেন। তাঁদের প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তাঁরা সবাই সুস্থ আছেন।

প্রিজন ভ্যান থেকে ‘পিচ্চি রাজা’ পালানোর ঘটনায় বোনসহ গ্রেফতার ৩

রাজু হাসান : স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২৯ অপরাহ্ণ
প্রিজন ভ্যান থেকে ‘পিচ্চি রাজা’ পালানোর ঘটনায় বোনসহ গ্রেফতার ৩

গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়ার পথে প্রিজন ভ্যান থেকে শীর্ষ মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত ‘পিচ্চি রাজা’ ওরফে রাজা পালানোর ঘটনায় পুলিশের এক উপপরিদর্শকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলে নয়, বরং প্রিজন ভ্যানের তালা খুলে দেওয়ার পর একটি প্রাইভেটকারে তুলে দিয়ে পিচ্চি রাজাকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—পুলিশের এসআই (এবি) প্রবীর কুমার বিশ্বাস, প্রিজন ভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেন এবং পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমা। এ ঘটনায় পলাতক পিচ্চি রাজা ও সংশ্লিষ্ট অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি)।

সোমবার(৫ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুর মহানগর পুলিশ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জিএমপি কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার।

পুলিশ কমিশনারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকার জেলা জজ আদালত থেকে ২৯ জন আসামিকে নিয়ে একটি প্রিজন ভ্যান কাশিমপুরের দিকে যাচ্ছিল। পথে ঢাকার তাঁতীবাজারে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কাছে ভ্যানটি থামানো হয়।

পুলিশের দাবি, ওই সময় প্রিজন ভ্যানের ইনচার্জ এএসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস চালকের কাছ থেকে চাবি নেন। পরে হাজতি পিচ্চি রাজা ও খাইরুল বাশারকে ভ্যান থেকে বের করা হয়। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রবীর কুমার নিজেই ভ্যানের তালা খুলে পিচ্চি রাজাকে বের করে অপেক্ষমাণ একটি প্রাইভেটকারে তুলে দেন।

পুলিশের ভাষ্য, পরবর্তী সময়ে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে পিচ্চি রাজা পালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একটি ভিন্ন বর্ণনা দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হয়। তদন্তে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার পর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ কমিশনার জানান, পিচ্চি রাজাকে পালিয়ে যেতে সহায়তার ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে পলাতক পিচ্চি রাজা এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তবে এ ঘটনায় পুলিশের তদন্ত ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

‎টেকনাফে মাদরাসা ও ওয়াকফ এস্টেটের সাইনবোর্ড উপড়ে জমি দখলের চেষ্টা, থানায় অভিযোগ। ‎

‎মোঃ হারুন অর রশিদ উখিয়া, (কক্সবাজার) প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২৬ অপরাহ্ণ
‎টেকনাফে মাদরাসা ও ওয়াকফ এস্টেটের সাইনবোর্ড উপড়ে জমি দখলের চেষ্টা, থানায় অভিযোগ। ‎

কক্সবাজারের টেকনাফ মডেল থানাধীন হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কাটাখালী এলাকায় একটি ঐতিহ্যবাহী হাফিজিয়া দারুল কোরআন মাদরাসা ও ওয়াকফ এস্টেটের সাইনবোর্ড উপড়ে ফেলে জমি দখলের অপচেষ্টা ও সরকারি মোতাওয়াল্লীকে প্রাণনাশের হুমকির মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে।
‎
‎এ ঘটনায় টেকনাফ মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মাদরাসা ও ওয়াকফ এস্টেটের সরকারি মোতাওয়াল্লী জালার আহমদ (৮৪)।
‎
‎অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৩:০০ ঘটিকার সময় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে কাটাখালী এলাকায় অবস্থিত ‘কাটাখালী হাফিজিয়া দারুল কোরআন মাদরাসা ও ওয়াকফ এস্টেট’-এর অভ্যন্তরে প্রবেশ করে প্রতিষ্ঠানটির মূল সাইনবোর্ডটি উপড়ে নিয়ে যায় বিবাদীরা। পরদিন সকাল ১০:০০ ঘটিকার সময় মোতাওয়াল্লী জালাল আহমদ গিয়ে সাইনবোর্ড দেখতে না পেয়ে বিবাদীদের কাছে ফেরত চাইতে গেলে, বিবাদীরা চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
‎
‎অভিযোগে উল্লিখিত বিবাদীরা হলেন— ১. ছৈয়দ আমিন (৮৮), ২. রশিদ আমিন (৪৫), ৩. নুরুল আমিন (৫৫), ৪. মোঃ আমিন (৫০) ও ৫. রুমান (২২)। অভিযোগ অনুযায়ী, বিবাদীরা ধারালো দা, কিরিছ, লোহার রড ইত্যাদি দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মাদরাসার সামনে এসে মোতাওয়াল্লীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং তাকে প্রকাশ্যে হত্যার ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।
‎
‎ভুক্তভোগী জালাল আহমদ জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে উক্ত মাদরাসা ও ওয়াকফ এস্টেটের সরকারি মোতাওয়াল্লী হিসেবে সুনামের সহিত দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তবে অভিযুক্ত বিবাদীরা পরধনলোভী ও ভূমিদস্যু প্রকৃতির হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে ওয়াকফ এস্টেটের জমি জোরপূর্বক দখলের পাঁয়তারা চালিয়ে আসছে এবং তাকে বিভিন্ন সময় প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে।
‎
‎তিনি আরও জানান, বিবাদীরা ক্ষমতা ও পেশিশক্তির জোরে প্রতিষ্ঠানের জমি অবৈধভাবে দখলের উদ্দেশ্যে বারবার হামলা চালিয়েছে। থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে পুনরায় হামলার শিকার হতে পারেন—এমন আশঙ্কায় স্থানীয় মান্যগণ্য ব্যক্তিবর্গের সাথে পরামর্শ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে থানায় লিখিত অভিযোগ করতে কিছুটা বিলম্ব হয় বলে তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন।
‎
‎এ বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার পুলিশ জানায়, লিখিত অভিযোগটি পাওয়া গেছে। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
‎
‎এদিকে, দ্বীনি প্রতিষ্ঠান ও ওয়াকফ এস্টেটের জমি দখলচেষ্টা এবং বয়োবৃদ্ধ সরকারি মোতাওয়াল্লীকে হুমকির ঘটনায় স্থানীয় ধর্মপ্রাণ এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার সচেতন মহল অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও প্রতিষ্ঠানটির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
‎