রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩
রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩
শিরোনাম:
নাইক্ষ্যংছড়ি থানা পরিদর্শনে অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হক, দিলেন গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনাগাজীপুরে জিএমপির বিশেষ অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ৩৪ জন নেতাকর্মী গ্রেফতারবগুড়ার শেরপুর বেলঘড়িয়ায় মাদক বিক্রির অভিযোগে আটক নারীসহ ৩ জনআদালতের তোয়াক্কা না করে জমি দখলের মরিয়া চেষ্টা: নন্দীগ্রামে আতঙ্কে একটি পরিবার, এলাকায় উত্তেজনা থানায় অভিযোগটেকনাফে ৩০ হাজার পিস ইয়াবাসহ শীর্ষ মাদক কারবারি গ্রেফতার, ৪টি মোটরবাইক জব্দহাকিমপুরে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরকারি সহায়তা বিতরণটেকনাফে র‌্যাব-১৫ এর অভিযান: যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি জমির গ্রেফতার।প্রিয় দলের সমর্থকরা আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠেছে শহর ও গ্রাম অঞ্চলের ফুটবল প্রেমীরাকাঁঠালের রাজধানী গাজীপুরে ভিডিও কলে ফল মেলার উদ্বোধন করলেন তথ্যমন্ত্রীজাতীয় ফল মেলা অনুষ্ঠিতচকরিয়ায় নারী শ্লীলতাহানি ও হ/ত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান আসামি আরাফাত র‍্যাবের খাঁচায়টেকনাফে র‍্যাব-১৫ এর অভিযান: মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার ‎উখিয়ায় মিয়ানমারে পাচারকালে সার ও টমটম জব্দ, এড. রেজাউল করিম রেজা’র নেতৃত্বে ডিলারদের গুদামে কৃষি কর্মকর্তার অভিযানটেকনাফে র‌্যাব-১৫ এর অভিযান: যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি জাফর আলম গ্রেফতারহাকিমপুরে আমের ফলন ভালো হলেও দাম নিয়ে হতাশ চাষিরা

‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান…’

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৫:৪০ অপরাহ্ণ
‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান…’
২১

মার্টিন লুথার কিংয়ের বিখ্যাত উক্তি ‘আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম’ এর অনুকরণে দেশ ও জাতিকে নিয়ে একটি নতুন স্লোগান ধারণ করার কথা বলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’।

তারেক রহমান বলেন, ‘ভাই-বোনেরা, মার্টিন লুথার কিংয়ের নাম শুনেছেন আপনারা। নাম শুনেছেন তো? মার্টিন লুথার কিং-এর একটি বিখ্যাত ডায়ালগ আছে— ‘আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম’। আজ এই বাংলাদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে আপনাদের সবার সামনে আমি বলতে চাই, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন সদস্য হিসেবে আপনাদের সামনে আমি বলতে চাই— ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান, ফর দ্য পিপল অব মাই কান্ট্রি, ফর মাই কান্ট্রি (দেশের মানুষের জন্য, দেশের জন্য আমার একটি পরিকল্পনা আছে)। এই পরিকল্পনা দেশের মানুষের স্বার্থে, দেশের উন্নয়নের জন্য, দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য।’

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ৩০০ ফিট সড়কে দলের পক্ষ থেকে দেওয়া গণসংবর্ধনায় এসব কথা বলেন তিনি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, যদি সেই প্ল্যান, সেই কার্যক্রম, সেই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করতে হয়– প্রিয় ভাই-বোনেরা, এই জনসমুদ্রে যত মানুষ উপস্থিত আছেন এবং সারা বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পক্ষে যত মানুষ আছেন, প্রত্যেকটি মানুষের সহযোগিতা আমার লাগবে। প্রত্যেকটি মানুষের সহযোগিতা আমাদের লাগবে। আপনারা যদি আমাদের পাশে থাকেন, আপনারা যদি আমাদেরকে সহযোগিতা করেন, ইনশাআল্লাহ আমরা ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হব।

তারেক রহমান বলেন, আসুন আমরা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে হাত তুলে প্রার্থনা করি। হে রাব্বুল আলামিন, হে একমাত্র মালিক, হে একমাত্র পরওয়ারদিগার, হে একমাত্র রহমত দানকারী, হে একমাত্র সাহায্যকারী—আজ আপনি যদি আমাদেরকে রহমত দেন, তাহলে আমরা এই দেশের মানুষ কঠোর পরিশ্রম করার মাধ্যমে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে পারব। আজ যদি আল্লাহর রহমত এই দেশ এবং এই দেশের মানুষের পক্ষে থাকে; আল্লাহর সাহায্য, আল্লাহর দয়া এই দেশের মানুষের উপরে থাকে– ইনশাআল্লাহ আমরা আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হব।

তিনি বলেন, প্রিয় ভাই-বোনেরা, আসুন আমরা সকলে মিলে প্রতিজ্ঞা করি– ইনশাআল্লাহ আগামী দিনে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে যারা আসবে, আমরা সকলে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যে ন্যায়পরায়ণতা, সেই ন্যায়পরায়ণতার আলোকে দেশ পরিচালনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।

আপনাদের দোয়ায় মাতৃভূমিতে ফিরে এসেছি

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিজের বক্তব্যের শুরুতে বলেন, আজ প্রথমেই আমি রাব্বুল আলামিনের দরবারে হাজারো লক্ষ-কোটি শুকরিয়া জানাতে চাই। রাব্বুল আলামিনের অশেষ রহমতে আজ আমি আমার প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরে আসতে পেরেছি, আপনাদের দোয়ায় আপনাদের মাঝে আসতে পেরেছি।

তারেক রহমান বলেন, আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমি ১৯৭১ সালে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছিল। ঠিক একইভাবে ৭৫-এ আবার ৭ই নভেম্বর আধিপত্যবাদীদের হাত থেকে রক্ষার জন্য সেদিন সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে দেশকে রক্ষা করা হয়েছিল। একইভাবে পরবর্তীতে ৯০-এ স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে এ দেশের জনগণ, এ দেশের খেটে খাওয়া মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকারকে ছিনিয়ে এনেছিল। কিন্তু তারপরেও ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্র থেমে থাকেনি।

তিনি বলেন, আমরা তারপর দেখেছি ২০২৪ সালে.. ৭১ সালে এই দেশের মানুষ যেমন স্বাধীনতা অর্জন করেছিল, ২০২৪ সালে এ দেশের ছাত্র-জনতাসহ সর্বস্তরের মানুষ; কৃষক, শ্রমিক, গৃহবধূ, নারী-পুরুষ, মাদ্রাসার ছাত্রসহ দল-মত নির্বিশেষে, শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে সব মানুষ সেদিন ৫ই আগস্ট এই দেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করেছিল।

একটি নিরাপদ বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলতে চাই

আজ বাংলাদেশের মানুষ কথা বলার অধিকার ফিরে পেতে চায়, তারা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেতে চায় উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ চায় তারা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী ন্যায্য অধিকার পাবে।

তিনি বলেন, আজ সময় এসেছে সকলে মিলে দেশ গড়ার। এই দেশে যেমন পাহাড়ের মানুষ আছে, এই দেশে একইভাবে সমতলের মানুষ আছে। এই দেশে মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, হিন্দুসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বসবাস করে। আমরা চাই, সকলে মিলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলব— যেই বাংলাদেশের স্বপ্ন একজন মা দেখেন। অর্থাৎ, একটি নিরাপদ বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলতে চাই। যে বাংলাদেশে একজন নারী, একজন পুরুষ, একজন শিশু— যেই হোক না কেন, নিরাপদে ঘর থেকে বের হলে যেন নিরাপদে ঘরে আবার ফিরে আসতে পারে।

তারেক রহমান বলেন, এই দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী, ৪ কোটিরও বেশি তরুণ প্রজন্মের সদস্য, ৫ কোটির মতো শিশু, ৪০ লাখের মতো প্রতিবন্ধী মানুষ রয়েছেন, কয়েক কোটি কৃষক-শ্রমিক রয়েছেন। এই মানুষগুলোর একটি প্রত্যাশা আছে এই রাষ্ট্রের কাছে, এই মানুষগুলোর একটি আকাঙ্ক্ষা আছে এই দেশের কাছে। আজ আমরা সকলে যদি ঐক্যবদ্ধ হই, আজ আমরা যদি সকলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই, তাহলে আমরা এই লক্ষ-কোটি মানুষের সেই প্রত্যাশাগুলো পূরণ করতে পারি ইনশাআল্লাহ।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ৭১’ সালে আমাদের শহীদরা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন এরকম একটি বাংলাদেশ গঠনের জন্য। বিগত ১৫ বছর স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে শত শত, হাজারো মানুষ গুম-খুনের শিকার হয়েছে; শুধু রাজনৈতিক দলের সদস্য নয়, নিরীহ মানুষও প্রতিবাদ করতে গিয়ে অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হয়েছে, জীবন দিয়েছে। ২০২৪ সাল, মাত্র সেদিনের ঘটনা— আমরা দেখেছি আমাদের তরুণ প্রজন্মের সদস্যরা কীভাবে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছে দেশের এই স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করার জন্য।

ওসমান হাদিকে স্মরণ করলেন তারেক রহমান

তারেক রহমান বলেন, কয়েকদিন আগে এই বাংলাদেশের ২৪-এর আন্দোলনের এক সাহসী প্রজন্মের সদস্য ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়েছে; ওসমান হাদি শহীদ হয়েছে। ওসমান হাদি চেয়েছিল এই দেশের মানুষের জন্য গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হোক, এই দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক, এই দেশের মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক এবং অর্থনৈতিক অধিকার ফিরে পাক। আজ ২৪-এর আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন– ওসমান হাদিসহ, ৭১-এ যারা শহীদ হয়েছেন এবং বিগত স্বৈরাচারের সময় বিভিন্নভাবে গুম-খুনের শিকার হয়েছেন— এই মানুষগুলোর রক্তের ঋণ যদি শোধ করতে হয়, আসুন আমরা আমাদের সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলব। যেখানে আমরা সকলে মিলে কাজ করব, যেখানে আমরা সকলে মিলে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে গড়ে তুলব।

বিভিন্ন আধিপত্যবাদী শক্তির গুপ্তচরেরা বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্রে এখন লিপ্ত রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আমাদেরকে ধৈর্যশীল হতে হবে, আমাদেরকে ধৈর্য ধারণ করতে হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের যে সদস্যরা আছেন, তোমরাই আগামী দিন দেশকে নেতৃত্ব দেবে, দেশকে গড়ে তুলবে। এই দায়িত্ব তরুণ প্রজন্মের সদস্যদের আজ গ্রহণ করতে হবে যাতে করে এই দেশকে আমরা সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারি। শক্ত ভিত্তির ওপরে, গণতান্ত্রিক ভিত্তিকে শক্তিশালী করে এবং অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপরে যাতে এই দেশকে আমরা গড়ে তুলতে পারি।

যেকোনো মূল্যে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে

‘আমার সাথে আজকে মঞ্চে এখানে বহু জাতীয় নেতৃবৃন্দ বসে আছেন। আসুন আজকে আমরা দু’হাত তুলে আল্লাহর দরবারে দোয়া করি। আল্লাহর রহমত আমরা চাই। যে সকল জাতীয় নেতৃবৃন্দ এই মঞ্চে আছেন এবং মঞ্চের বাইরে যে সকল জাতীয় আরও নেতৃবৃন্দ আছেন– আমরা সকলে মিলে এই দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে আমাদের বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশিত সেই বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চাই। আমাদেরকে যেকোনো মূল্যে এই দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে। যেকোনো উসকানির মুখে আমাদেরকে ধীর-শান্ত থাকতে হবে। আমরা দেশে শান্তি চাই।

তিনি বলেন, আজ আপনারা জানেন এখান থেকে আমি আমার মা, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার কাছে যাব। একটি মানুষ, যে মানুষটি এই দেশের মাটি ও এই দেশের মানুষকে নিজের জীবনের থেকেও বেশি ভালোবেসেছেন– তার সাথে কী হয়েছে আপনারা প্রত্যেকটি মানুষ সে সম্পর্কে অবগত আছেন। সন্তান হিসেবে আপনাদের কাছে আমি চাইব– আজ আল্লাহর দরবারে আপনারা দোয়া করবেন যাতে আল্লাহ উনাকে তৌফিক দেন, উনি যাতে সুস্থ হতে পারেন।

সকলের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার জন্য আজ এখানে দাঁড়িয়েছি

তারেক রহমান বলেন, সন্তান হিসেবে আমার মন আমার মায়ের বিছানার পাশে পড়ে আছে সেই হাসপাতালের ঘরে। কিন্তু সেই মানুষটি যাদের জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছেন— অর্থাৎ আপনারা, এই মানুষগুলোকে আমি কোনোভাবেই ফেলে যেতে পারি না। এবং সেজন্যই আজ হাসপাতালে যাওয়ার আগে আপনাদের প্রতি এবং টেলিভিশনগুলোর মাধ্যমে যারা সমগ্র বাংলাদেশে আমাকে দেখছেন– আপনাদের সকলের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার জন্য আজ আমি এখানে দাঁড়িয়েছি।

তিনি বলেন, আসুন আমাদেরকে আজ নিশ্চিত করতে হবে— আমরা যে ধর্মের মানুষই হই, আমরা যে শ্রেণির মানুষই হই, আমরা যে রাজনৈতিক দলেরই সদস্য হই অথবা একজন নির্দলীয় ব্যক্তি হই– আমাদেরকে নিশ্চিত করতে হবে যেকোনো মূল্যে আমরা আমাদের এই দেশের শান্তি-শৃঙ্খলাকে ধরে রাখব। যেকোনো মূল্যে যেকোনো বিশৃঙ্খলাকে পরিত্যাগ করতে হবে। যেকোনো মূল্যে আমাদেরকে নিশ্চিত করতে হবে যাতে মানুষ নিরাপদ থাকতে পারে। শিশু হোক, নারী হোক, পুরুষ হোক– যেকোনো বয়স, যেকোনো শ্রেণি, যেকোনো পেশা, যেকোনো ধর্মের মানুষ যেন নিরাপদ থাকে। এই হোক আমাদের চাওয়া আজকে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, আসুন সবাই মিলে আজ আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই। সবাই মিলে করব কাজ— গড়ব সুন্দর বাংলাদেশ। ইনশাআল্লাহ।

বক্তব্যের শেষ দিকে তারেক রহমান বলেন, আপনাদের সকলের কাছে দোয়া চেয়ে, আবারো সকলকে যেকোনো মূল্যে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার আহ্বান জানিয়ে, যেকোনো বিশৃঙ্খলাকে পরিহার করে ধৈর্যের সাথে মোকাবিলা করার আহ্বান জানিয়ে আমার বক্তব্য শেষ করছি। আবারো আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি আজকে আমাকে এভাবে বরণ করে নেওয়ার জন্য।

এর আগে বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে গণসংবর্ধনা মঞ্চে পৌঁছান তারেক রহমান। সেখানে নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর যুক্তরাজ্য থেকে আজ দেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে তিনি ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

Polls

আজকের প্রশ্ন

আপনি বাংলা নিউজ টিভির পেইজে লাইক ফলো দিয়েছেন কি?

View Results

Loading ... Loading ...

নাইক্ষ্যংছড়ি থানা পরিদর্শনে অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হক, দিলেন গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা

সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার ​মোঃ রমজান আলী। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ১:২৯ অপরাহ্ণ
নাইক্ষ্যংছড়ি থানা পরিদর্শনে অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হক, দিলেন গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা

বান্দরবানের সীমান্তবর্তী নাইক্ষ্যংছড়ি থানা পরিদর্শন করেছেন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত ডিআইজি (অ্যাডমিন অ্যান্ড ফিন্যান্স) মো. নাজমুল হক। পরিদর্শনকালে তিনি মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং পুলিশি কার্যক্রম আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে থানার কর্মকর্তা ও ফোর্সদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।

​সোমবার (২২ জুন) সকাল ১১টায় তিনি থানায় পৌঁছালে বান্দরবানের পুলিশ সুপার মো. ওয়াহাবুল ইসলাম খন্দকার এবং নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাম্মেল হক তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

​পরে থানায় আয়োজিত মতবিনিময় সভায় অতিরিক্ত ডিআইজি সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সতর্কতা, পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “জনগণের আস্থা অর্জন, অপরাধ দমন এবং জনবান্ধব পুলিশিং কার্যক্রম জোরদারে পুলিশ সদস্যদের আন্তরিকতার সাথে কাজ করতে হবে।
​সভায় বান্দরবানের পুলিশ সুপার মো. ওয়াহাবুল ইসলাম খন্দকার উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সীমান্ত এলাকায় চলমান মাদকবিরোধী অভিযান এবং থানার বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে অতিরিক্ত ডিআইজিকে অবহিত করেন।

​পরিদর্শন শেষে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নাইক্ষ্যংছড়ি থানার বিভিন্ন শাখার কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন এবং ওসি মোজাম্মেল হকসহ কর্মরত পুলিশ সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। পুলিশি কার্যক্রমকে আরও কার্যকর, জনমুখী ও সেবাধর্মী করতে তাঁরা সংশ্লিষ্টদের নানা পরামর্শ দেন। এরপর বিকেল ৩টায় তিনি নাইক্ষ্যংছড়ি ত্যাগ করে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

গাজীপুরে জিএমপির বিশেষ অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ৩৪ জন নেতাকর্মী গ্রেফতার

রাজু হাসান :স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ২:২৪ পূর্বাহ্ণ
গাজীপুরে জিএমপির বিশেষ অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ৩৪ জন নেতাকর্মী গ্রেফতার

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সম্মানিত পুলিশ কমিশনার জনাব মোঃ ইসরাইল হাওলাদার মহোদয়ের নির্দেশনা মোতাবেক গাজীপুর মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সন্ত্রাসী কার্যকলাপ প্রতিরোধে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মোট ৩৪ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গত ২১ জুন রবিবার সকাল ০৬:০৫ ঘটিকার সময় জিএমপির সদর থানা ও বাসন সহ সকল থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই সময় বাসন থানাধীন মোগরখাল এলাকায় অবস্থিত কলম্বিয়া গার্মেন্টসের সামনে ময়মনসিংহ-ঢাকা মহাসড়কে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, সরকারি কাজে বাধাদান, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর অভিযোগে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী। তারা সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঝটিকা মিছিল বের করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি, উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করে। এর প্রেক্ষিতে জিএমপির বিভিন্ন থানা এলাকায় সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করে তাদের আইনের আওতায় আনা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামিদের বাসন থানা ও সদর থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা করে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ মহানগর এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, সন্ত্রাস ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে যাচ্ছে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

বগুড়ার শেরপুর বেলঘড়িয়ায় মাদক বিক্রির অভিযোগে আটক নারীসহ ৩ জন

নাজমুল হাসান নাজির সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ২:১৯ পূর্বাহ্ণ
বগুড়ার শেরপুর বেলঘড়িয়ায় মাদক বিক্রির অভিযোগে আটক নারীসহ ৩ জন

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় মাদক বিক্রির অভিযোগে এক দম্পতি ও তাদের ছেলেকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় জনতা ও বিএনপির নেতা-কর্মীরা। শনিবার (২০ জুন) বিকেলে উপজেলার কুসুম্বী ইউনিয়নের বেলঘড়িয়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় অভিযুক্তদের বাড়ি থেকে দেশীয় অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়।

আটককৃতরা হলেন, মো: জসিম (৬০), তার স্ত্রী জোসনা বেগম (৪৮) এবং তাদের ছেলে কষ্ট (৩০)। এ সময় জীবন নামে তাদের আরেক স্বজন কৌশলে পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, অভিযুক্ত জসিম ও তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রি করে আসছিল। মাদক বিক্রির প্রতিবাদে প্রায় ১০ দিন আগে তাদের সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও শুক্রবার রাতে এলাকায় মাদকসেবীদের মাতলামি বেড়ে গেলে শনিবার বিকেলে স্থানীয়রা ওই বাড়িতে গিয়ে প্রতিবাদ জানান। এ সময় বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে অভিযুক্তরা এক নারী নেত্রীকে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে এলাকাবাসী ও বিএনপির নেতা-কর্মীরা তিনজনকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয়।

উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ফিরোজ মাহমুদ ও পৌর মহিলা বিষয়ক সম্পাদক রিচি বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তল্লাশি চালিয়ে কিছু দেশীয় অস্ত্র, গাঁজা ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করে। পরে এলাকাবাসী আটককৃতদের পুলিশের হাতে তুলে দেয়। স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত জসিম ও জোসনা এর আগেও মাদক সংক্রান্ত অভিযোগে একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।

এব্যাপারে বগুড়ার শেরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুব্রত কুমার জানান, “তিনজনকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে কিছু মাদক ও আলামত জব্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।