দুর্গম রুমায় উন্নয়নের দাবি, বাস্তবায়নের অপেক্ষায় পাহাড়ের মানুষ

রুমা প্রতিনিধি: প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ৩:০৮ পূর্বাহ্ণ
দুর্গম রুমায় উন্নয়নের দাবি, বাস্তবায়নের অপেক্ষায় পাহাড়ের মানুষ

oplus_32

৩৮৮

বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি উপজেলা রুমায় একের পর এক উন্নয়ন প্রকল্পের ঘোষণা এলেও এখনো মৌলিক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন হাজারো মানুষ। সরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন উদ্যোগের প্রচারণা থাকলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, বাস্তবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় তেমন কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি। বছরের পর বছর ধরে অবহেলা, দুর্ভোগ ও বৈষম্যের মধ্যেই জীবন কাটাতে হচ্ছে পাহাড়ি জনপদের বাসিন্দাদের।

সবচেয়ে বেশি সংকট দেখা দিয়েছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায়। সামান্য বৃষ্টি হলেই অধিকাংশ পাহাড়ি সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। বহু দুর্গম এলাকায় এখনো যানবাহন পৌঁছায় না। ফলে রোগী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিতে হয়। বর্ষা মৌসুমে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে অসংখ্য গ্রাম।

রুমা সদর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অংসিংনু মারমা বলেন, রুমা উপজেলা বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন সম্ভাবনাময় এলাকা। অথচ এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনো অত্যন্ত নাজুক। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়ক ভেঙে পড়ে এবং অনেক এলাকায় গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়, যা আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যসেবা খাতেও পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেই পর্যাপ্ত চিকিৎসক, প্রয়োজনীয় ওষুধ কিংবা আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম। দুর্গম ইউনিয়নগুলোতে জরুরি রোগী পরিবহনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় অনেক সময় রোগীদের বাঁশের খাটিয়ায় করে দীর্ঘ পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে হাসপাতালে নিতে হয়।

রুমা উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী ঙৈনুচিং মারমা বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার অবস্থাও অত্যন্ত হতাশাজনক। বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট রয়েছে। পাহাড়ি এলাকার শিশুদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। এতে ঝরে পড়ার হার বাড়ছে। টেকসই উন্নয়নের জন্য শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে স্থানীয় বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।

স্থানীয়দের মতে, বিদ্যুৎ সংযোগ সম্প্রসারণ, ইন্টারনেট সুবিধা বৃদ্ধি এবং পর্যটন খাত সচল করার সরকারি উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও শুধুমাত্র প্রকল্প ঘোষণা দিয়ে দায়িত্ব শেষ করলে চলবে না। বাস্তবমুখী, দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ছাড়া পাহাড়ের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন সম্ভব নয়।

গালেংগ্যা ইউনিয়নের সেপ্রু পাড়া, ছাংও পাড়া, পূর্ণবাসন পাড়া ও বাগান পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার কারবারিরা জানান, গালেংগ্যা ইউনিয়নে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ সম্প্রসারণ, ইন্টারনেট সুবিধা বৃদ্ধি, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন সম্প্রসারণ, সড়ক সংস্কার, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা ও মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে রুমাসহ পুরো অঞ্চল দেশের অন্যতম উন্নয়নশীল পাহাড়ি জনপদে পরিণত হতে পারে।
রুমাবাসীর এখন একটাই দাবি—উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি যেন বাস্তবে রূপ নেয়।

স্থানীয় সচেতন মহল ও এলাকাবাসীর দাবি, দুর্গম পাহাড়ি জনপদগুলোর উন্নয়নকে শুধু রাজনৈতিক বক্তব্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় উন্নয়নের বহু প্রতিশ্রুতির আড়ালে রুমা উপজেলার মানুষের দুর্ভোগ আরও দীর্ঘস্থায়ী হবে।

Download Photocard

Polls

আজকের প্রশ্ন

আপনি বাংলা নিউজ টিভির পেইজে লাইক ফলো দিয়েছেন কি?

View Results

Loading ... Loading ...