বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩
বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩
শিরোনাম:
উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলি, যুবক হাসমত উল্লাহ রক্তাক্তSOC – Shadow of Change-এর নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন: সভাপতি সোহান, সম্পাদক লুৎফুর। ‎পালংখালীতে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক-অভিভাবক মিলনমেলাব্যবহৃত টিস্যু পকেটে রাখি, পরিবেশ রক্ষা আমাদের অভ্যাসের প্রতিফলন: গাজীপুরের জেলা প্রশাসকটেকনাফে কোস্ট গার্ড ও র‍্যাবের বড় সাফল্য: বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেটসহ অস্ত্র উদ্ধারগাজীপুরে কিশোর অটোরিকশাচালক শুভকে গ/লা কে/টে হ/ত্যাপেশার মর্যাদা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবিতে উখিয়ায় ওষুধ প্রতিনিধিদের বিশাল মানববন্ধনবান্দরবানে শিক্ষকদের অনিয়ম ও জরাজীর্ণ ভবনে ধুঁকছে মাংতং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টেকনাফে র‌্যাবের অভিযান: চাঞ্চল্যকর অপহরণ মামলার মূল হোতা জাহাঙ্গীর গ্রেফতারপর্যটন ও বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত: বদলে যাচ্ছে হবিগঞ্জের প্রবেশদ্বার শায়েস্তাগঞ্জদুর্গম রুমায় উন্নয়নের দাবি, বাস্তবায়নের অপেক্ষায় পাহাড়ের মানুষটঙ্গী থেকে নিখোঁজ হওয়া ৩ শিশু বরিশাল থেকে উদ্ধারধুনটে শীর্ষ মাদক কারবারি বেল্লাল গ্রেপ্তার৫০ কোটি টাকার মামলার জালে সাংবাদিকতা: হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনটেকনাফে কোস্ট গার্ডের বড় অভিযান: বিদেশী রাইফেল ও ৭০ হাজার ইয়াবা জব্দ

SOC – Shadow of Change-এর নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন: সভাপতি সোহান, সম্পাদক লুৎফুর। ‎

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ১০:২০ অপরাহ্ণ
SOC – Shadow of Change-এর নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন: সভাপতি সোহান, সম্পাদক লুৎফুর। ‎
১৫০

সামাজিক পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন SOC – Shadow of Change-এর নতুন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। সংগঠনের সদস্যদের প্রত্যক্ষ ও গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে আগামী মেয়াদের জন্য এই কমিটি গঠন করা হয়।

‎নবগঠিত এই কমিটিতে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন কামরান আলী চৌধুরী সোহান। সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন এম লুৎফুর রহমান এবং কোষাধ্যক্ষ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ফাইজাবুল আফ্রিদি ফাহিম।

‎সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে একটি স্বচ্ছ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই নতুন নেতৃত্ব বেছে নেওয়া হয়েছে। নবনির্বাচিত এই কমিটি সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে এবং সামাজিক উন্নয়নে আরও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে বলে সাধারণ সদস্যরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

‎নবনির্বাচিত সভাপতি কামরান আলী চৌধুরী সোহান বলেন, “আমাদের ওপর আস্থা রাখার জন্য সকল সদস্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা। আমরা সততা ও নিষ্ঠার সাথে সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে এবং সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাব।”

‎নতুন এই নেতৃত্বকে অভিনন্দন জানিয়ে সংগঠনের শুভাকাঙ্ক্ষীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুভকামনা জানাচ্ছেন। আশা করা হচ্ছে, এই সুযোগ্য নেতৃত্বের হাত ধরে ‘Shadow of Change’ তাদের নতুন দিগন্তের পথে সফলভাবে এগিয়ে যাবে।

Polls

আজকের প্রশ্ন

আপনি বাংলা নিউজ টিভির পেইজে লাইক ফলো দিয়েছেন কি?

View Results

Loading ... Loading ...

উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলি, যুবক হাসমত উল্লাহ রক্তাক্ত

মোঃ হারুন অর রশিদ, উখিয়া (কক্সবাজার) প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৩:২৯ অপরাহ্ণ
উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলি, যুবক হাসমত উল্লাহ রক্তাক্ত

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফের সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এবার অজ্ঞাত পরিচয় সন্ত্রাসীদের গুলিতে হাসমত উল্লাহ (২২) নামে এক রোহিঙ্গা যুবক গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেল আনুমানিক তিনটার দিকে বালুখালী ৮-ইস্ট নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এই অতর্কিত হামলার ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় ক্যাম্পজুড়ে সাধারণ রোহিঙ্গাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

আহত হাসমত উল্লাহ ওই ক্যাম্পের বি-৪৩ ব্লকের বাসিন্দা মৃত মোহাম্মদের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে বালুখালী ক্যাম্প-০৮ ইস্ট এলাকায় আরসা (ARA) প্রধান নবী হোসেনের ভাই ভুলুর বসতঘরের সামনে অবস্থান করছিলেন হাসমত উল্লাহ। ঠিক সেই মুহূর্তে একদল অজ্ঞাত সন্ত্রাসী সেখানে উপস্থিত হয়ে তাকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। সন্ত্রাসীরা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে হামলা চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। গুলিবর্ষণের এই ঘটনায় হাসমত উল্লাহর ডান হাতে দুটি গুলি বিদ্ধ হয় এবং তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা এবং এপিবিএন পুলিশের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাকে ক্যাম্প সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকলে উন্নত চিকিৎসার স্বার্থে চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত কুতুপালং এমএসএফ (MSF) হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গুলিবর্ষণের ঘটনায় এক যুবক আহত হওয়ার খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে এবং তাদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ক্যাম্পের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল জোরদার করা হয়েছে যাতে নতুন করে কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ক্রমবর্ধমান এই সশস্ত্র হামলা ও সহিংসতার ঘটনা সাধারণ বাসিন্দাদের জীবনের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।

পালংখালীতে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক-অভিভাবক মিলনমেলা

মোঃ হারুন অর রশিদ, উখিয়া (কক্সবাজার) প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ১০:০৯ অপরাহ্ণ
পালংখালীতে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক-অভিভাবক মিলনমেলা

উখিয়ার পালংখালীতে আঞ্জুমানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উঠান বৈঠকে উপস্থিত অভিভাবক ও শিক্ষা কর্মকর্তাবৃন্দ।

“মানসম্মত শিক্ষা, জাতির প্রতিজ্ঞা”—এই দৃঢ় অঙ্গীকারকে হৃদয়ে ধারণ করে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের আঞ্জুমানপাড়ায় এক ব্যতিক্রমী উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিশুদের পঠন দক্ষতার উন্নয়ন, বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার বৃদ্ধি, ঝরে পড়া রোধ এবং প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই বিশেষ আয়োজন করা হয়। মঙ্গলবার (১২ মে) বিকাল ৪টায় পূর্ব ফারিরবিলের করাচি পাড়াস্থ সাইফুলের বাড়িতে আঞ্জুমানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উদ্যোগে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের মধ্যে এক সেতুবন্ধন তৈরি হয়েছে যা স্থানীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উখিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুল আলম সিরাজী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য ও প্রাক্তন সভাপতি হেলাল উদ্দিন। আঞ্জুমানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ শাহ জাহানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই বৈঠকে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক অভিভাবক স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকে বক্তারা শিশুদের মেধা বিকাশে কেবল বিদ্যালয়ের ওপর নির্ভর না করে অভিভাবকদের নিয়মিত তদারকির ওপর বিশেষ জোর দেন।

বৈঠকে আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল শিক্ষার্থীদের পঠন দক্ষতা বৃদ্ধি। শিশুদের রিডিং পড়ার সক্ষমতা বাড়াতে বাড়িতে নিয়মিত অনুশীলন করানোর জন্য অভিভাবকদের অনুরোধ জানানো হয়। এছাড়া প্রতিদিন শিক্ষার্থীকে সময়মতো বিদ্যালয়ে পাঠানো এবং ঝরে পড়া রোধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ডাক দেওয়া হয়। বক্তারা উল্লেখ করেন, শুধু ক্লাসের পাঠ্যবই নয়, বরং শিশুর সৃজনশীল মেধা বিকাশে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সমন্বিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত জরুরি। অভিভাবকরা সরাসরি শিক্ষা কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলার সুযোগ পাওয়ায় তাদের সন্তানদের পড়াশোনার মানোন্নয়নে বিভিন্ন পরামর্শ গ্রহণ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উখিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুল আলম সিরাজী বলেন, একটি শিক্ষিত জাতি গঠনের মূল ভিত্তি হলো প্রাথমিক শিক্ষা। শিশুদের ঝরে পড়া রোধ করতে এবং শিক্ষার প্রকৃত গুণগত মান নিশ্চিত করতে হলে শুধু শ্রেণিকক্ষই যথেষ্ট নয়, অভিভাবকদের সর্বোচ্চ সচেতন হতে হবে। তিনি আরও বলেন, আজকের এই উঠান বৈঠক সেই সচেতনতা বৃদ্ধির একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে। উপস্থিত অভিভাবকরাও বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে নিজেদের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ শাহ জাহান।

উখিয়ার দুর্গম এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে আঞ্জুমানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই উঠান বৈঠক একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। শিক্ষক ও অভিভাবকদের এই ঐকান্তিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে এই অঞ্চল থেকে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর হার শূন্যে নেমে আসবে এবং মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত হবে।

ব্যবহৃত টিস্যু পকেটে রাখি, পরিবেশ রক্ষা আমাদের অভ্যাসের প্রতিফলন: গাজীপুরের জেলা প্রশাসক

রাজু হাসান, স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ১০:০২ অপরাহ্ণ
ব্যবহৃত টিস্যু পকেটে রাখি, পরিবেশ রক্ষা আমাদের অভ্যাসের প্রতিফলন: গাজীপুরের জেলা প্রশাসক

গাজীপুর ভাওয়াল সম্মেলন কক্ষে পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ক সভায় বক্তব্য রাখছেন জেলা প্রশাসক নূরুল করিম ভূঁইয়া।

পরিবেশ সংরক্ষণ কেবল তাত্ত্বিক আলোচনার বিষয় নয়, বরং এটি মানুষের দৈনন্দিন অভ্যাসের প্রতিফলন—এমন মন্তব্য করেছেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক জনাব নূরুল করিম ভূঁইয়া। মঙ্গলবার (১২ মে) ভাওয়াল সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি নিজের যাপিত জীবনের ছোট কিন্তু অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কিছু ব্যক্তিগত সুঅভ্যাসের কথা তুলে ধরেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের ‘মনিটরিং এন্ড এনফোর্সমেন্ট উইং এর সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ ও মান উন্নয়ন এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এই সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো: লুৎফর রহমান।

জেলা প্রশাসক নূরুল করিম ভূঁইয়া নাগরিকদের ব্যক্তিগত সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “পরিবেশ রক্ষা কোনো তাত্ত্বিক কথা নয়। আমি যেখানেই যাই, আমার ব্যবহৃত টিস্যুগুলো পকেটে রেখে দেই এবং বাসায় ফেরার পর নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ফেলি।” তিনি মনে করেন, এমন ছোট ছোট অভ্যাসই বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে সক্ষম। শব্দ দূষণ রোধে নিজের সচেতনতার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “শব্দ দূষণ রোধে আমি সবসময় আমার ফোন সাইলেন্ট রাখি যাতে কারো কষ্ট না হয়।” তিনি সবাইকে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করে সুঅভ্যাস গড়ে তোলার উদাত্ত আহ্বান জানান।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে জেলা প্রশাসক পরিবেশের ওপর মানুষের নিষ্ঠুর আচরণের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেন, “সব ধর্মেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যারা কলকারখানায় ইটিপি (ETP) ব্যবহার করছে না, অযথা গাড়ির হর্ন বাজাচ্ছেন কিংবা যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলছেন, তারা মূলত মানুষরূপী চতুষ্পদ প্রাণী।” তাঁর এই মন্তব্য উপস্থিত সুধীজনের মাঝে পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্বশীল হওয়ার প্রয়োজনীয়তাকে নতুন করে উপলব্ধি করতে সহায়তা করে।

আলোচনা সভায় বক্তারা জলবায়ু পরিবর্তন, বায়ুদূষণ ও প্লাস্টিক বর্জ্যের ভয়াবহতা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। তারা সতর্ক করে বলেন, এখনই সচেতন না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে চরম মূল্য দিতে হবে। পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় বেশি বেশি গাছ লাগানো এবং প্লাস্টিক বর্জন করে পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের ওপর সভায় বিশেষ জোর দেওয়া হয়। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মনিটরিং এন্ড এনফোর্সমেন্ট উইং এর পরিচালক সৈয়দ ফরহাদ হোসেন এবং উপপরিচালক সৈয়দ আহম্মদ কবীর। এছাড়াও গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ শাহরিয়ার নজিরসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও পরিবেশকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আরেফিন বাদল-এর চমৎকার সঞ্চালনায় সভাটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। সভার সমাপনী বক্তব্যে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, জেলা প্রশাসকের ব্যক্তিগত অভ্যাসের এই গল্প উপস্থিত সবাইকে নিজেদের জীবনধারা পরিবর্তন করে পরিবেশ রক্ষায় ব্রতী হতে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করবে।

ব্যক্তিগত অভ্যাস ও সচেতনতা না থাকলে আইনের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষা করা দুরূহ। গাজীপুরের জেলা প্রশাসকের এই ব্যক্তিগত দৃষ্টান্ত আমাদের শিখিয়ে দেয় যে, পরিবেশের সুরক্ষা শুরু হয় নিজের ঘর এবং পকেট থেকেই।