রবিবার, ৭ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ৭ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শিরোনাম:
পটিয়ার মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি রুবেল টেকনাফে র‌্যাবের খাঁচায় আটকনরসিংদীর ভেলানগরে মাদক সম্রাট সমীর মিয়ার অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী, দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিপটিয়ায় মিনি স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকচট্টগ্রামে লোকনাথ মন্দির দখল নিয়ে ইসকন ও সাধারণ হিন্দুদের সংঘর্ষ, কক্ষ ভাঙচুরচট্টগ্রামে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে চসিকের মেগা অপারেশনউখিয়া থেকে অপহৃত তরুণকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার করলো র‌্যাব-১৫গাজীপুরে পুলিশ বক্সে ঢুকে সাংবাদিকের ওপর হামলা আটক -১উখিয়ায় বাবার বাড়ি যাওয়া নিয়ে বিরোধ, গৃহবধূর মৃত্যুর পর স্বামী ও শাশুড়ি আটকউখিয়া সীমান্তে বিজিবি-আরএসও সম্মুখ যুদ্ধ, বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধারপেকুয়ায় ২টি বন্দুক ও গোলাবারুদসহ পেশাদার অস্ত্রধারী গ্রেফতারসিএনজির ইঞ্জিন বক্সে ২৩ হাজার ই/য়া/বা! টেকনাফে র‌্যাব-১৫ এর জালে চালক। ‎টেকনাফে ১০ বছরের শিশুকে ধ/র্ষ/ণচেষ্টা: র‌্যাব-১৫ কর্তৃক আসামী গ্রেফতার, ভিকটিম উদ্ধারকক্সবাজারে র‌্যাবের সফল অভিযান: বিপুল পরিমাণ ই/য়া/বা, হে/রো/ই/ন ও আ/ই/স/সহ শীর্ষ মা/দ/ক কারবারি আজিজ গ্রে/ফ/তা/র ‎উখিয়ায় ‘শ্যাডো অব চেঞ্জ’-এর ব্যতিক্রমী রম্য বিতর্ক: জয়ী মাংসের রাজত্ব, রানার্সআপ ডাল-ভাত ও সালাদ‎টেকনাফে র‌্যাবের চিরুনি অভিযান: ৮ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার

খেলাধুলা জাতিকে মাদকমুক্ত রাখতে ভূমিকা রাখে:

পটিয়ায় মিনি স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক

শাহীন আকতার, পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ৯:৫৩ পূর্বাহ্ণ
পটিয়ায় মিনি স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের জলুর দিঘীরপাড় এলাকায় মিনি স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের ফলক উন্মোচন

৭০

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় ক্রীড়াঙ্গনের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন ও প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। পটিয়ায় একটি আধুনিক মিনি স্টেডিয়ামের নির্মাণ কাজের শুভ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। বর্ণাঢ্য এই উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন করতে গিয়ে জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক সফল অধিনায়ক ও বর্তমান সরকারের মাননীয় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক অত্যন্ত জোরালোভাবে বলেন যে, দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও গ্রাম পর্যায়ে তরুণদের সঠিক বিকাশের জন্য খেলাধুলার কোনো বিকল্প নাই।

গত ৫ জুন শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী জলুর দিঘীরপাড় এলাকায় এই মিনি স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আসন অলঙ্কৃত করে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক তাঁর গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে আরও বলেন, দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও গ্রামীণ পর্যায়ে শক্তিশালী ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে তুলতে হলে একদম তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার নিয়মিত চর্চা সচল রাখতে হবে। সামগ্রিক খেলাধুলার প্রকৃত উন্নয়নে বর্তমান সরকার অত্যন্ত আন্তরিক ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশে তরুণদের সুপ্ত ক্রীড়ামেধা ও অপার সম্ভাবনাকে বৈশ্বিক দরবারে বিকশিত করতে হলে মাঠপর্যায়ে খেলাধুলার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

মাননীয় প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার দেশের বিভিন্ন প্রান্তিক এলাকায় খেলার মাঠ, আধুনিক স্টেডিয়াম ও মানসম্মত ক্রীড়া অবকাঠামো নির্মাণে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করে আনার জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী দিনে পটিয়ার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া খাতের উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ পরিচালনা করা হবে। তিনি তরুণদের উদ্বুদ্ধ করে বলেন, খেলাধুলা শুধু চিত্তবিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি একটি পুরো প্রজন্ম ও জাতিকে সম্পূর্ণ সুস্থ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও অভিশপ্ত মাদকমুক্ত রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বর্তমান তরুণ সমাজকে যদি খেলাধুলার সঙ্গে পুরোপুরি সম্পৃক্ত করা যায়, তবে দেশের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল হবে।

আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য রাখেন পটিয়া আসনের জনপ্রিয় সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, পটিয়ার সর্বস্তরের ক্রীড়াবিদ ও ক্রীড়াঙ্গনের দীর্ঘদিনের জোরালো দাবির প্রেক্ষিতেই মূলত আজ এই মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের ঐতিহাসিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই স্বপ্নের স্টেডিয়ামটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন ও বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা সম্পূর্ণ আধুনিক সুযোগ-সুবিধায় নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ পাবেন। এর ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে নতুন নতুন ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশের একটি স্থায়ী ক্ষেত্র তৈরি হবে।

পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটির আহ্বায়ক ফারহানুর রহমান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই উদ্বোধনী সভায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মোহাম্মদ দৌলতুজ্জমান খাঁন। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো জিয়াউল হক জিয়া, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম, পটিয়া ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মঈনুল আলম ছোটনসহ চট্টগ্রাম মহানগর, জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক এবং বিপুল সংখ্যক ক্রীড়াপ্রেমী জনতা। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে উপস্থিত স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা অত্যন্ত আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ সম্পন্ন হলে পটিয়ার তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য আধুনিক প্রশিক্ষণ সুবিধা নিশ্চিত হবে এবং তারা আঞ্চলিক পর্যায়ে বিভিন্ন মানসম্মত ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পাবেন।

পটিয়ার কচুয়াই ইউনিয়নের জলুর দিঘীরপাড়ে এই মিনি স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন পটিয়ার ক্রীড়াঙ্গনে একটি নতুন যুগের সূচনা করল। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য এনামুল হক এনামের এই যৌথ উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে পটিয়া থেকে আগামী দিনে জাতীয় স্তরের দক্ষ ক্রীড়াবিদ তৈরি হবে বলে সুধী সমাজ প্রত্যাশা করে।

Polls

আজকের প্রশ্ন

আপনি বাংলা নিউজ টিভির পেইজে লাইক ফলো দিয়েছেন কি?

View Results

Loading ... Loading ...

পটিয়ার মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি রুবেল টেকনাফে র‌্যাবের খাঁচায় আটক

মোঃ হারুন অর রশিদ, উখিয়া (কক্সবাজার) প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ১১:২১ অপরাহ্ণ
পটিয়ার মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি রুবেল টেকনাফে র‌্যাবের খাঁচায় আটক

মাদক মামলার ১ বছর ১ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের সাজা মাথায় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে পলাতক থাকা এক সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১৫। গতকাল শনিবার (৬ জুন ২০২৬) সন্ধ্যায় কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থানাধীন কৌশলগত ও জনাকীর্ণ এলাকা হোয়াইক্যং বাজার এলাকায় এক ঝটিকা ও সফল অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃত আসামির বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত মাদক আইনে সুনির্দিষ্ট সাজার পরোয়ানা জারি ছিল এবং দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে তাকে আইনের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

কক্সবাজারের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ও র‌্যাব সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত ওই কুখ্যাত সাজাপ্রাপ্ত আসামির নাম মোঃ সাইফুল ইসলাম প্রকাশ রুবেল (২৫)। তিনি মূলত টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত লম্বাবিল গ্রামের বাসিন্দা সামশুল আলমের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিজের আসল পরিচয় গোপন করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাযাবরের মতো যাযাবর জীবনযাপন করে আসছিলেন যাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁকে সহজে খুঁজে না পায়।

র‌্যাব-১৫ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বস্ত গোপন সংবাদ ও সুনির্দিষ্ট ডিজিটাল তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল শনিবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৪০ ঘটিকার সময় সিপিসি-২, র‌্যাব-১৫ (হোয়াইক্যং ক্যাম্প)-এর একটি চৌকস ও অত্যন্ত দক্ষ আভিযানিক দল হোয়াইক্যং বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। আভিযানিক দলের উপস্থিতি এবং র‌্যাবের ভারী বুটের শব্দ টের পেয়ে সুচতুর আসামি মোঃ সাইফুল ইসলাম প্রকাশ রুবেল লোকালয়ের ভেতর দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তবে র‌্যাবের চৌকস দল চারপাশ থেকে কর্ডন করে ধাওয়া দিয়ে তাকে হোয়াইক্যং বাজার এলাকা থেকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

র‌্যাব-১৫-এর পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, বিগত ২০১৯ সালে চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া থানায় গ্রেপ্তারকৃত আসামি রুবেলের বিরুদ্ধে একটি বড় ধরনের মাদক মামলা দায়ের করা হয়। উক্ত মামলায় দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে বিজ্ঞ আদালত তাকে সুনির্দিষ্টভাবে দোষী সাব্যস্ত করেন এবং ০১ বছর ০১ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের রায় প্রদান করেন। একই সাথে বিজ্ঞ আদালত থেকে আসামির বিরুদ্ধে নিয়মিত সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়। আদালত থেকে এই সাজা পরোয়ানা জারির পর থেকেই সুচতুর আসামি রুবেল আইনি প্রক্রিয়া ও সাজার মেয়াদ এড়াতে দেশের বিভিন্ন স্থানে সুকৌশলে ও ক্রমাগত স্থান পরিবর্তন করে আত্মগোপন করে আসছিলেন।

র‌্যাব আরও জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ও ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এবং আদালতের রায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তাকে রাতেই টেকনাফ মডেল থানায় যথাযথ প্রক্রিয়ায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এই সফল অভিযানের বিষয়ে র‌্যাব-১৫ এর দায়িত্বপ্রাপ্ত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, মাদকের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি মাঠপর্যায়ে কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে এবং একটি সম্পূর্ণ অপরাধমুক্ত সুশীল সমাজ গঠনে র‌্যাবের এই দূরদর্শী, কঠোর ও আপসহীন আভিযানিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও সমান তালে অব্যাহত থাকবে।

পটিয়া থানার ২০১৯ সালের মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি রুবেলকে দীর্ঘ বছর পর টেকনাফ থেকে গ্রেপ্তার করা র‌্যাব-১৫-এর পেশাদারিত্ব ও নিখুঁত গোয়েন্দা নজরদারির এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ। এই ধরনের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের ফলে বিচার ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।

নরসিংদীর ভেলানগরে মাদক সম্রাট সমীর মিয়ার অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী, দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি

তৌহিদুল ইসলাম প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ১২:০৯ অপরাহ্ণ
নরসিংদীর ভেলানগরে মাদক সম্রাট সমীর মিয়ার অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী, দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি

নরসিংদীর ভেলানগর এলাকায় চিহ্নিত মাদকসেবী ও কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী মোঃ সমীর মিয়া (৪০)-এর চরম উৎপাত, অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং ক্রমাগত যন্ত্রণায় সাধারণ এলাকাবাসী চরম অতিষ্ঠ ও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় সমাজ ও যুব সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে ভেলানগরের সর্বস্তরের মানুষ এখন এই মাদক কারবারির হাত থেকে মুক্তি চান। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাদক ব্যবসার মাধ্যমে এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারকারী এই অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন নরসিংদী ভেলানগর এলাকার মৃত মোঃ শব্দর আলীর ছেলে মোঃ সমীর মিয়া।

স্থানীয় ভেলানগর এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী বাসিন্দা অত্যন্ত ক্ষোভ ও আক্ষেপের সাথে জানান, সমীর মিয়া দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অবাধে নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য বিক্রি করে আসছেন। তিনি শুধু মাদক বিক্রিই করেন না, বরং নিজে একজন নিয়মিত উগ্র মাদকসেবী হিসেবেও এলাকায় পরিচিত। এলাকার কোনো সচেতন নাগরিক বা মুরুব্বি যদি কখনো তাঁর এই সমাজবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে যান কিংবা কোনো কিছু বলতে চান, তবে সমীর মিয়া ও তাঁর সহযোগীরা তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের সাথে অত্যন্ত নোংরা ও খারাপ ব্যবহার করে। শুধু তাই নয়, প্রতিবাদকারীদের নানা ধরনের হুমকি-ধমকিও প্রদান করা হয়। ফলে তাঁর এমন উগ্র মেজাজ ও সন্ত্রাসী আচরণের ভয়ে সাধারণ এলাকাবাসী মুখ খুলে সরাসরি কিছু বলতে সাহস পান না।

এলাকার সচেতন সুধী সমাজ ও শিক্ষাবিদেরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ভেলানগরসহ নরসিংদীর এই অঞ্চলে মাদকের এই মরণছোবল দ্রুত ও কঠোরভাবে বন্ধ করতে হবে। কারণ, মাদকের সহজলভ্যতার কারণে আমাদের তরুণ ও যুব সমাজ আজ সম্পূর্ণ ধ্বংসের পথে এসে দাঁড়িয়েছে। এলাকার কিশোর ও যুবকেরা যেভাবে দিন দিন মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে, তাতে সামাজিক অবক্ষয় ও অপরাধ প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই ভেলানগরের সামাজিক পরিবেশ রক্ষা করতে সমীর মিয়ার মতো চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের সমাজ থেকে দ্রুত নির্মূল করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

অনুসন্ধানে এবং স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যে আরও জানা গেছে যে, মোঃ সমীর মিয়া কোনো নতুন অপরাধী নন; বরং এর আগেও মাদকসহ হাতেনাতে ধরা পড়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করা হয়েছিল। উক্ত মামলায় বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত হয়ে তিনি কিছুদিন আগে কারাদণ্ডও ভোগ করেছেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠ থেকে জামিনে বা সাজা খেটে বের হয়ে আসার পর তিনি তাঁর পুরোনো অপরাধের পথ পরিহার করেননি। বরং কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফিরে এসে দ্বিগুণ উৎসাহে আবারও সেই নিষিদ্ধ মাদক ব্যবসা ও সিন্ডিকেট পুরোদমে সচল করেছেন। সমীর মিয়ার এমন দুঃসাহসিক ও বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে ভেলানগরের শান্তিপ্রিয় মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। বর্তমান উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণ ও সুধী সমাজ পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সুদৃষ্টি কামনা করছেন। সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ীকে যেন অতি দ্রুত পুনরায় আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়, প্রশাসনের নিকট এই জোর দাবি জানিয়েছেন ভেলানগরবাসী।

জেল থেকে বের হয়ে আবারও মাদক ব্যবসায় লিপ্ত হওয়া প্রমাণ করে যে, মোঃ সমীর মিয়ার মতো অপরাধীরা সমাজ ও আইনের প্রতি কতটা শ্রদ্ধাহীন। নরসিংদীর ভেলানগরের যুব সমাজকে রক্ষা করতে এবং এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এই চিহ্নিত মাদক কারবারিকে অতি দ্রুত গ্রেপ্তার করা প্রশাসনের জন্য এখন সময়ের দাবি।

চট্টগ্রামে লোকনাথ মন্দির দখল নিয়ে ইসকন ও সাধারণ হিন্দুদের সংঘর্ষ, কক্ষ ভাঙচুর

শাহীন আকতার, চট্টগ্রাম প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ৩:১৩ পূর্বাহ্ণ
চট্টগ্রামে লোকনাথ মন্দির দখল নিয়ে ইসকন ও সাধারণ হিন্দুদের সংঘর্ষ, কক্ষ ভাঙচুর

চট্টগ্রাম মহানগরীর কেন্দ্রস্থল নন্দনকানন এলাকায় একটি ঐতিহ্যবাহী মন্দির এবং তার সংলগ্ন মূল্যবান জমির নিয়ন্ত্রণ ও মালিকানা নেওয়াকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন)-এর অনুসারীদের সঙ্গে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী ও সাধারণ হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী ও ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল ৬ জুন শনিবার ভোরে সংঘটিত এই দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ন্যাক্কারজনক এই সহিংসতার সাথে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাৎক্ষণিকভাবে একজনকে আটক করতে সক্ষম হয়।

পুলিশ প্রশাসন, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে, গতকাল ভোররাতের দিকে ইসকনের একটি সঙ্ঘবদ্ধ দল নন্দনকানন এলাকার লোকনাথ মন্দির-সংলগ্ন পবিত্র স্থানে জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা চালায়। ইসকন অনুসারীদের এই আকস্মিক অনুপ্রবেশের চেষ্টা স্থানীয় সাধারণ হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের নজরে আসলে তারা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন এবং তাদের পথরোধ করেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও চরম উত্তেজনা শুরু হয়। একপর্যায়ে সেই সাধারণ তর্কাতর্কি মারাত্মক রূপ ধারণ করে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। দফায় দফায় চলা এই সংঘর্ষের সময় উত্তেজিত হামলাকারীরা ওই লোকনাথ মন্দির এলাকার একটি কক্ষ ব্যাপক ভাঙচুর করে এবং মন্দিরের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত করে বলে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভোররাতের এই চাঞ্চল্যকর সংঘাতের বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) দক্ষিণ বিভাগের উপকমিশনার হোসাইন কবির ভূঁইয়া গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, নন্দনকাননের লোকনাথ মন্দিরকে কেন্দ্র করে মূলত ইসকন এবং স্থানীয় সাধারণ হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে একটি অভ্যন্তরীণ ও গভীর বিরোধ চলে আসছিল। সেই দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত বিরোধের জের ধরেই মূলত গতকাল ভোররাতে এই অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। ঘটনার বার্তা পাওয়া মাত্রই বিপুল সংখ্যক অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য অতি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাঠিচার্জ ও কঠোর অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রশাসনের সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

স্থানীয় ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, লোকনাথ মন্দিরসংলগ্ন কিছু সরকারি খাসজমি অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা নিয়ে ইসকন অনুসারীদের সাথে তাদের দীর্ঘদিন ধরে চরম বিরোধ ও মামলা-মোকদ্দমা চলে আসছে। স্থানীয় সনাতনীদের দাবি, বিতর্কিত ধর্মীয় সংগঠন ইসকন ধাপে ধাপে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার মাধ্যমে ওই সরকারি খাসজমি এবং মূল লোকনাথ মন্দিরের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার জন্য এই অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তবে স্থানীয়দের এমন গুরুতর ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগের বিষয়ে ইসকনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো নেতার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে গণমাধ্যমের পক্ষে সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে সচেতন মহল ও সংশ্লিষ্ট সুধী সমাজ গভীর উদ্বেগের সাথে উল্লেখ করেছেন যে, অতীতেও চট্টগ্রামের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ইসকনের বিরুদ্ধে জবরদস্তিমূলক জমি দখল এবং বিভিন্ন প্রাচীন মন্দিরের নাম ব্যবহার করে আন্তর্জাতিকভাবে বিপুল পরিমাণ অনুদান সংগ্রহের গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। সে সময় চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী প্রবর্তক সংঘের শীর্ষস্থানীয় নেতারাও ইসকনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ন্যাক্কারজনক আর্থিক অনিয়ম, চুক্তিভঙ্গ ও জমি দখলের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন। গতকালকের এই সংঘর্ষের ঘটনায় আহত চারজনকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে পুলিশের হাতে আটককৃত ব্যক্তির পরিচয় ও এই সহিংসতায় তাঁর সম্পৃক্ততার বিষয়ে গড়মুর ও কোতোয়ালী থানা পুলিশের তদন্ত চলমান রয়েছে। ঘটনার পর থেকে পুরো নন্দনকানন ও আশপাশের এলাকায় এক থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুরো অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রাখতে ও পুনরায় সংঘাত এড়াতে মন্দির এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা টহল জোরদার করা হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, উভয় পক্ষের বক্তব্য ও নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে ঘটনার সঠিক তদন্ত করা হবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ধর্মীয় উপাসনালয় বা খাসজমি দখলকে কেন্দ্র করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিজেদের মধ্যকার এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত কোনোভাবেই কাম্য নয়। চট্টগ্রামের নন্দনকাননে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সিএমপি পুলিশকে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে এবং ইসকনের বিরুদ্ধে ওঠা জমি দখলের দীর্ঘদিনের অভিযোগের একটি স্থায়ী আইনি সমাধান দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে।