নাইক্ষ্যংছড়িতে বিজিবির মানবিক উদ্যোগ: বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, শিক্ষা সামগ্রী ও গাছের চারা বিতরণ
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দুর্গম সোনাইছড়ি এলাকায় বসবাসরত সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনায় মানবিক সহায়তা প্রদান করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আজ মঙ্গলবার (০৯ জুন) নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের (১১ বিজিবি) সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সোনাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, ঔষধ, শিক্ষা ও খেলাধুলার সামগ্রী এবং পরিবেশবান্ধব গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
এদিন সকাল থেকে শুরু হওয়া এই মেডিকেল ও জনসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও নার্সবৃন্দ সেবা প্রদান করেন। এছাড়া স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও আনসার-ভিডিপি সদস্যরা এতে অংশ নেন। দুর্গম ও পাহাড়ি এলাকার যেসব অসুস্থ ও প্রবীণ মানুষ হেঁটে আসতে অক্ষম ছিলেন, তাদের জন্য বিজিবির পক্ষ থেকে বিশেষ যানবাহনের মাধ্যমে ক্যাম্পে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা হয়।
দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের প্রায় ৩০০ জন গরিব, অসহায় ও দুস্থ মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় ঔষধ সরবরাহ করা হয়।
সোনাইছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১০০ জন এবং সোনাইছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৫০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে খাতা-কলমসহ শিক্ষা সহায়কের পাশাপাশি খেলাধুলার উপকরণ ও পরিবেশবান্ধব গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
ক্যাম্পে আগত দুস্থ সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীসহ সর্বমোট প্রায় ৬০০ জনের মাঝে উন্নতমানের খাবার বিতরণ করা হয়।
সামাজিক কাজে উৎসাহ জোগাতে ভলান্টিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ২ জন শিক্ষক ও ১২ জন শিক্ষার্থীকে ১১ বিজিবির পক্ষ থেকে বিশেষ প্রশংসাপত্র প্রদান করা হয়।
বিজিবি জানায়, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক সীমান্তবর্তী জনসাধারণের মধ্যে সম্প্রীতি বৃদ্ধির পাশাপাশি এই অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
অনুষ্ঠানে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের (১১ বিজিবি) অধিনায়ক ও পরিচালক লেঃ কর্নেল মোঃ ফয়জুল কবির বলেন, “দেশের সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান রোধ, মাদক ও মানবপাচার প্রতিরোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বজায় রাখার পাশাপাশি সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বিজিবি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জনবান্ধব ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ডাক্তার, নার্স, ছাত্র-ছাত্রী, আনসার-ভিডিপি এবং সাধারণ জনগণকে সম্পৃক্ত করে সমন্বিতভাবে এই মেডিকেল ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়েছে। এটি বিজিবির নিয়মিত মানবিক কার্যক্রমেরই একটি অংশ এবং ভবিষ্যতেও ১১ বিজিবির পক্ষ থেকে এই ধরনের কল্যাণমূলক ও জনহিতকর উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।





