পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সারাদেশে ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে হাকিমপুর উপজেলা প্রশাসন ও হাকিমপুর পৌরসভা এবং ইউনিয়নের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার দুপুরে হাকিমপুর পৌরসভার গোহারা পদ্মা পুকুর এলাকায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। এ সময় বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরে উপস্থিত অতিথিরা বলেন, পরিবেশ সুরক্ষা ও আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করতে বেশি বেশি গাছ লাগানোর বিকল্প নেই। সরকারি এ কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যেও বৃক্ষরোপণ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জর্জ মিত্র চাকমা , উপজেলা কৃষি অফিসার আরজেনা বেগম,হাকিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির হোসেন,উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস রহমান, সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শিল্পী,উপজেলা ফরেস্ট অফিসার মোঃশাহজাহান আলী একাডেমিক সুপারভাইজার শাখাওয়াত হোসেন, পৌর প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বক্তারা সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ ও পরিচর্যার আহ্বান জানান। তারা বলেন, একটি গাছ শুধু পরিবেশ রক্ষাই করে না, বরং মানুষের জীবন, জীবিকা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই সবুজ, সুন্দর ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়তে বৃক্ষরোপণ আন্দোলনকে গণআন্দোলনে রূপ দিতে হবে।
গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রামদার কোপে আহত সাংবাদিক শরীফ ওমর টুটুল।
গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানা এলাকায় একটি পোশাক কারখানার ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ও সশস্ত্র মহড়ার ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় প্রভাবশালী হামিদ মন্ডল ও তাঁর লোকজনের অস্ত্রের মহড়াকালে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে রামদার কোপে গুরুতর জখম হয়েছেন শরীফ ওমর টুটুল নামের এক পেশাদার সাংবাদিক। গত বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট পরবর্তী কোনো এক বৃহস্পতিবার, তথ্যে তারিখ অস্পষ্ট) গাছা থানার ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের ফকির মার্কেট সংলগ্ন ইন্ডেসরি পোশাক কারখানার সামনে এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিক টুটুল ‘প্রতিদিনের কাগজ’ পত্রিকার গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত।
স্থানীয় সূত্র এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, ফকির মার্কেট এলাকার ওই পোশাক কারখানার ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে হামিদ মন্ডল এবং তাঁর ছেলে যুবলীগ নেতা সোহেলের নেতৃত্বে একদল লোক সকাল থেকেই দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে কারখানার আশেপাশে অবস্থান নেয় এবং সশস্ত্র মহড়া দিতে থাকে। এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতির খবর পেয়ে কয়েকজন সাংবাদিক সংবাদ সংগ্রহের জন্য ঘটনাস্থলে যান। একপর্যায়ে সাংবাদিক শরীফ ওমর টুটুল রাস্তার অপর পাশে অবস্থানরত স্থানীয় সেলিমের সাথে কথা বলতে গেলে হামিদ মন্ডলের অনুসারীরা পেছন থেকে ধারালো রামদা দিয়ে তাঁর মাথায় সজোরে কোপ দেয়।
রামদার কোপে মাথা রক্তাক্ত ও মারাত্মক জখম অবস্থায় সাংবাদিক টুটুল মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সহকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে উদ্ধার করে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তাঁর মাথায় অস্ত্রোপচার ও ক্ষতস্থানে সেলাই করা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. দূর্জয় জানান, আঘাতে মাথার কয়েকটি স্তর কেটে গেছে। ক্ষতস্থান সেলাই করা হলেও সিটি স্ক্যান করার পর তাঁর প্রকৃত শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। হাসপাতালের পরিচালক আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, আহত সাংবাদিককে গুরুত্বের সঙ্গে চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার নেপথ্যে কারখানাটির ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। অভিযোগ রয়েছে, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত কয়েকজন ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ওই কারখানার ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছে। হামিদ মন্ডল ও তাঁর ছেলে সোহেল ওই সিন্ডিকেটের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বলে স্থানীয়দের দাবি। ঘটনার দিন সকাল থেকেই সোহেলের নেতৃত্বে সশস্ত্র মহড়া ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ অক্ষুণ্ণ রাখার চেষ্টারই অংশ ছিল বলে অভিযোগ। সাংবাদিকের ওপর এই বর্বরোচিত হামলার খবর জানাজানি হলে গাজীপুরের সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট কালাম জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। তাঁরা হামিদ মন্ডলের লোকজনের ধাওয়া খেয়ে সেখান থেকে চলে আসার ফাঁকেই সাংবাদিক টুটুলকে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রাব্বানি জানান, পুলিশ ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত রয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তের জন্য এসআই নজরুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এসআই নজরুল ইসলাম জানান, তিনি সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন। ঘটনার কোনো ভিডিও ফুটেজ বা ছবি থাকলে তদন্তের স্বার্থে সেগুলো পুলিশের কাছে দেওয়ার জন্য তিনি অনুরোধ জানিয়েছেন।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ইসরায়েল হাওলাদার জানিয়েছেন, সাংবাদিকের ওপর মারাত্মক আঘাতের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে, অভিযুক্ত হামিদ মন্ডল ও তাঁর ছেলে সোহেলের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।
গাজীপুরে ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকের ওপর এই সশস্ত্র হামলা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর এক নগ্ন হস্তক্ষেপ। দিনের আলোতে অস্ত্রের মহড়া এবং সংবাদকর্মীকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনা এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নাজুক অবস্থাকেই ফুটিয়ে তোলে। প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
একটি সুস্থ, সুন্দর এবং নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ার সুদৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে গাজীপুরের ব্যস্ততম চান্দনা চৌরাস্তায় আবাসিক হোটেলগুলোতে চলা অনৈতিক কার্যকলাপ, মাদকের রমরমা ব্যবসা এবং সব ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চিরতরে বন্ধের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন স্থানীয় শিক্ষার্থীরা। এই অসামাজিক ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে তুলে ধরতে চান্দনা চৌরাস্তায় এক বিশাল ও প্রতিবাদী মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) অনুষ্ঠিত এই প্রতিবাদী কর্মসূচিতে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি স্থানীয় সচেতন নাগরিকেরা অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বিক্ষোভকারী ও শিক্ষার্থীরা গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরে বলেন যে, চান্দনা চৌরাস্তা এলাকার বেশ কিছু আবাসিক হোটেলে দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড অবাধে পরিচালিত হয়ে আসছে। একই সঙ্গে এসব হোটেলকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে মাদকের সিন্ডিকেট ও কেনাবেচার নিরাপদ আস্তানা। এলাকার অসাধু চক্রের এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে ওই এলাকার সামাজিক ও নৈতিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিনষ্ট হচ্ছে। এতে করে স্থানীয় তরুণ সমাজ ও উদীয়মান শিক্ষার্থীরা বিপথগামী হওয়ার চরম ঝুঁকিতে পড়ছে, যা সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর একটি বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে দাবি করেন বক্তারা।
কর্মসূচিতে উপস্থিত বক্তারা অবিলম্বে চান্দনা চৌরাস্তা এলাকার সকল আবাসিক হোটেলে অবৈধ ও অসামাজিক কার্যক্রম বন্ধে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রশাসন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর ও কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেন। অসামাজিক কার্যকলাপ ও মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত মূল হোতা ও অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান করার জোর দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি এসব হোটেলগুলোতে নিয়মিত পুলিশি অভিযান পরিচালনা করা এবং সাধারণ পথচারী ও অধিবাসীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান আন্দোলনকারীরা।
প্রতিবাদী মানববন্ধন শেষে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে তাদের নির্ধারিত কর্মসূচি শেষ করেন। কর্মসূচি সমাপনকালে তারা একটি নৈতিক, সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত এবং সর্বস্তরের মানুষের জন্য নিরাপদ সমাজ গঠনে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ, সুশীল সমাজ ও প্রশাসনের একযোগে কাজ করার এবং সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। সামাজিক অপরাধ নির্মূলে এমন সামাজিক প্রতিরোধ ও সচেতনতা মূলক আন্দোলন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তায় সাধারণ শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকদের এই প্রতিবাদী মানববন্ধন সামাজিক অবক্ষয় ও মাদকের বিরুদ্ধে এক বলিষ্ঠ বার্তা বহন করে। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং তরুণ সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কে বেপরোয়া গতির ডাম্পার ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মর্মান্তিক মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই তরুণের অকালমৃত্যু ঘটেছে। বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কেরুনতলী এলাকায় এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনাটি ঘটে। বেপরোয়া গতির ট্রাকের সজোর ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই এক তরুণ প্রাণ হারান এবং পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক তরুণের মৃত্যু হয়। একই দুর্ঘটনায় দুটি উদীয়মান তাজা প্রাণ ঝরে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।
দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন হলেন কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের অধিবাসী মৃত জগির আহমদ ড্রাইভার ও আনোয়ারা বেগম দম্পতির ছেলে মোঃ রুবেল (৩১)। অপর নিহত তরুণ হলেন টেকনাফের হোয়াইক্যং ঘিলাতলী ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবুল হাসিম ও রুজিনা আক্তার দম্পতির ছেলে আরমান (২৩)। তারা দুজনই স্থানীয়ভাবে অত্যন্ত পরিচিত ও সম্ভাবনাময় তরুণ ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, বুধবার সকালে রুবেল ও আরমান মোটরসাইকেলযোগে উখিয়ার পালংখালীর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। পথিমধ্যে সকাল ১০টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের হোয়াইক্যং কেরুনতলী এলাকা অতিক্রম করার মুহূর্তে বিপরীত দিক থেকে অনিয়ন্ত্রিত গতিতে আসা একটি ভারী ডাম্পার ট্রাক তাঁদের মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ঘাতক ট্রাকের প্রকাণ্ড ধাক্কায় মোটরসাইকেলটি চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায় এবং দুই আরোহী সড়কে ছিটকে পড়ে চলন্ত ট্রাকের নিচে চলে যান। আঘাতের ভয়াবহতার কারণে ঘটনাস্থলেই মোঃ রুবেলের করুণ মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর পরই আশপাশের স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসেন এবং গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় আরমানকে উদ্ধার করেন। তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি ঘটলে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের জরুরি পরামর্শে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর নাগাদ আরমানও শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। অল্প সময়ের ব্যবধানে দুই যুবকের মৃত্যুর খবর দুই পরিবারে অপূরণীয় ক্ষতি ও শোকের আবহ তৈরি করেছে।
এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার খবর স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় অধিবাসীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে অভিযোগ করেন যে, কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কে দীর্ঘদিন ধরে অনভিজ্ঞ চালক ও লাইসেন্সবিহীন বেপরোয়া ডাম্পার ট্রাফিকের কোনো সুনির্দিষ্ট তোয়াক্কা না করে চলাচল করছে। অনিয়ন্ত্রিত এসব ভারী যানবাহনের অদূরদর্শী ও দায়িত্বজ্ঞানহীন ড্রাইভিংয়ের কারণেই প্রতিদিন এই মহাসড়কে একের পর এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটছে। চালকদের অবহেলা ও বেপরোয়া মনোভাবের খেসারত দিতে গিয়ে মুহূর্তের মধ্যে দুটি পরিবারের জীবন চিরতরে অন্ধকার হয়ে গেল বলে মন্তব্য করেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
ঘটনার পরপরই খবর পেয়ে টেকনাফ থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ বিষয়ে টেকনাফ থানা পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, দুর্ঘটনার পরপরই ঘাতক ডাম্পার ট্রাকটি জব্দ করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘাতক চালককে দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে অভিযান চালানো হচ্ছে। এই ঘটনায় জড়িত অভিযুক্ত চালকের বিরুদ্ধে আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কে বেপরোয়া ডাম্পার ট্রাকের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল ও চালকদের বেপরোয়া মনোভাব প্রতিনিয়তই কেড়ে নিচ্ছে মূল্যবান তাজা প্রাণ। এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার নিরপেক্ষ সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন ভারী যান চলাচল রোধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।