বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম:
রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলনকে সংবর্ধনা, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিতগাজীপুরে গারদখানা থেকে পলাতক ডাকাতি মামলার আসামি সম্রাট র‌্যাবের হাতে গ্রেফতারহাকিমপুরে সবজি সহ নিত্যপন্যের দাম বেড়েছেমশার লার্ভা নিধনই এখন প্রধান কাজ, নতুন দেশীয় প্রযুক্তিতে আশাবাদী স্থানীয় সরকার মন্ত্রীফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা নির্বিঘ্নে পৌঁছে দিতে নির্ভুল তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীরবিশ্বজয় করে স্পেনের পকেটে ৬১৫ কোটি টাকা- প্রাইজমানির নতুন রেকর্ড ২৩তম বিশ্বকাপেনেপালকে হারিয়ে সিরিজে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ নারী কাবাডি দল, ম্যাচ সেরা খাদিজারানার্সআপ আর্জেন্টিনাকে বীরের সম্মান, খেলোয়াড়দের ফেরার দিনে দেশজুড়ে জাতীয় ছুটি ঘোষণার ঘোষণা২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের ঐতিহাসিক অর্জন, ঘরে তুলল মর্যাদাপূর্ণ ফেয়ার প্লে ট্রফিহেডলাইন: জিএমপির এলআইসি শাখার বড় সাফল্য, উদ্ধার হওয়া ৫৪টি মোবাইল ফোন প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তরঘোড়াঘাটে বলগাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে ঘিরে তীব্র ক্ষোভ, পাঠদান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধকক্সবাজার সদরের চাঞ্চল্যকর চাঁদাবাজি মামলার প্রধান আসামি সাইফুল্লাহ টেকনাফে গ্রেফতারফুলবাড়ীতে অটোরিকশা ছিনতাইকালে চালককে ছুরিকাঘাতে হ/ত্যা, লুণ্ঠিত গাড়িসহ আটক ১ঘোড়াঘাটে সোলেমান আজাদ গোল্ডকাপ ফুটবলের ফাইনাল সম্পন্ন, চ্যাম্পিয়ন গোবিন্দগঞ্জচকরিয়ায় র‌্যাব-১৫ এর অভিযান: সাজাপ্রাপ্ত ও ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি নাছির গ্রেফতার

স্বল্প বেতনে কোটি টাকার সম্পদের প্রশ্ন

আশুলিয়ায় ইউপি সচিব আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়

মোঃ আসিফ আহমেদ, আশুলিয়া প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ৫:৩৯ অপরাহ্ণ
আশুলিয়ায় ইউপি সচিব আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়

আশুলিয়ায় ইউপি সচিব আবুল কালাম আজাদ

৩০১

ঢাকার সাভার উপজেলার আশুলিয়া এলাকার ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি, অনিয়ম ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের দাবি, স্বল্প বেতনের একজন সরকারি কর্মচারী হয়েও তিনি নানা অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মালিক হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে গোটা এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে এবং সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের কাছে একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রের অভিযোগ অনুযায়ী, ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও সেবা কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই এই ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে অনিয়মের পাহাড় জমেছে। নাগরিক সনদ প্রদান, বিভিন্ন সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর ভাতা কার্যক্রম এবং অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক সেবায় সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন অনেকেই। বিশেষ করে সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত অংশ বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা এবং প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড প্রাপ্তির ক্ষেত্রে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয় বলে ভুক্তভোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেক ক্ষেত্রে সরকারি তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা বা দ্রুত অনুমোদনের আশ্বাস দিয়ে অবৈধভাবে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার কথাও অভিযোগকারীরা সরাসরি জানিয়েছেন।

এছাড়া জন্ম ও মৃত্যু সনদ, ওয়ারিশ সনদ এবং স্থানীয় ব্যবসায়িক ট্রেড লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়াতেও ব্যাপক অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারিভাবে নির্ধারিত ফির তুলনায় কয়েকগুণ বেশি অর্থ অবৈধভাবে আদায় করা হয় এবং এই নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত রফাদফার টাকা না দিলে অনেক সময় সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ফাইল দীর্ঘদিন ধরে আটকে রাখা হয়। এতে সাধারণ নিরীহ মানুষকে দিনের পর দিন চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে বলে তারা মারাত্মক অভিযোগ করেছেন। স্থানীয়রা আরও জানান, এর আগে তেঁতুলজোড়া ইউনিয়নে দায়িত্ব পালনকালেও প্রভাবশালী মহলের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তিনি একটি শক্তিশালী প্রভাববলয় তৈরি করেছিলেন। পরবর্তীতে ধামসোনা ইউনিয়নে যোগদানের পরও সেই পূর্বের ন্যায় প্রভাব বজায় রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে অনেক অসহায় ভুক্তভোগী তাঁর বিরুদ্ধে মুখ খুলতে বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করতে সাহস পান না বলেও স্থানীয়দের দাবি।

অন্যদিকে তাঁর অর্জিত বিপুল সম্পদ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে নানা কৌতূহল ও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য ও দাবি অনুযায়ী, আশুলিয়ার কাটগড়া বাংলালিংক সড়ক এলাকায় এই ইউপি সচিবের একটি বহুতল ভবন ও সুবিশাল মার্কেট রয়েছে। এছাড়া সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন প্রাইম লোকেশনে তাঁর নামে ও বেনামে বিপুল পরিমাণ জমি, প্লট এবং বিলাসবহুল বাড়ি থাকার কথাও জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছে। একজন ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের মাসিক সরকারি মূল বেতন প্রায় ২৪ হাজার ৫০০ টাকা হওয়ায় এই সীমিত আয়ের সঙ্গে তাঁর দৃশ্যমান বিপুল সম্পদের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁর ব্যক্তিগত বাসভবনে সর্বক্ষণিক নিরাপত্তাকর্মীও নিয়োজিত রয়েছে, যার মাসিক বেতনও অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য। তবে এই বিপুল সম্পদের বৈধ উৎস সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বা আইনগত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সম্পদ যদি তাঁর জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তাহলে বিষয়টি দ্রুত তদন্তের আওতায় আনা যেতে পারে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইন অনুযায়ী এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট অনুসন্ধান ও তদন্ত পরিচালনা করা সম্ভব। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের পাশাপাশি অবৈধভাবে অর্জিত সকল সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার সুনির্দিষ্ট আইনি বিধানও রয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) কর্মচারী চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী দুর্নীতি বা অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা ও বরখাস্তের নিয়ম রয়েছে। এলাকার সচেতন নাগরিক ও ভুক্তভোগীরা এই পুরো বিষয়টি নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন, যাতে প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা সুনিশ্চিত হয়।

ইউনিয়ন পরিষদ জনগণের সবচেয়ে নিকটবর্তী ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এখানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। সরকারি সেবার সঙ্গে সাধারণ মানুষের জীবনের প্রত্যাশা জড়িত থাকে। তাই ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আবুল কালাম আজাদকে ঘিরে ওঠা এসব গুরুতর অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা প্রশাসনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

Download Photocard

Polls

আজকের প্রশ্ন

আপনি বাংলা নিউজ টিভির পেইজে লাইক ফলো দিয়েছেন কি?

View Results

Loading ... Loading ...

রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলনকে সংবর্ধনা, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

রুবেল সরকার, রাজশাহী ব্যুরো প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩৩ অপরাহ্ণ
রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলনকে সংবর্ধনা, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলনকে সংবর্ধনা জানিয়ে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেল ৪টায় মোহনপুর উপজেলা চত্বরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

​অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মোহনপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামিমুল ইসলাম মুন। সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আর রশিদ এবং সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক কাজিম উদ্দিন।

​প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের আত্মত্যাগের আদর্শ বাস্তবায়নে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

​অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন:
​জেলা ও স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ: জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মোজাদ্দেদ জামানি সুমন, নওহাটা পৌরসভার সাবেক মেয়র মকবুল হোসেন, মোহনপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক আব্দুস সামাদ, উপজেলা বিএনপির সদস্য আব্দুল কাদের, সাংগঠনিক সম্পাদক বাচ্চু রহমান।
​সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ: কৃষক দলের সভাপতি গোলাম মোস্তফা বাবলু ও সাধারণ সম্পাদক এস এম মতিউর রহমান; স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ডাবলু সরকার, যুগ্ম আহ্বায়ক মাহফুজ আলম শিমুল ও হাতেম আলী; শ্রমিক দলের সভাপতি মোজাম্মেল হক, সদস্য সচিব ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল করিম মণ্ডল; যুবনেতা মির্জা শওকত ও নাহিদ পারভেজ হিমু; উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, সদস্য সচিব মাহমুদুল হাসান রুবেল ও শাকিবুল হাসান লিটন।

​মহিলা দল: উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি মৌটুসি সুলতানা রুমা, সদস্য সচিব ববিতা খাতুনসহ নেত্রী ও কর্মীবৃন্দ। উল্লেখ্য, মহিলা দলের নেত্রী ও কর্মীদের সরব উপস্থিতি পুরো অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

​ইউনিয়ন ও পৌর বিএনপি: ধুরইল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইলিয়াস হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মকলেসুর রহমান; মৌগাছি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুর-এ-আলম সিদ্দিকী মুকুল, সাধারণ সম্পাদক ইউনুস আলী ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন; বাকশিমইল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলামিন ও সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম উজ্জ্বল হোসেন; জাহানাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জিল্লুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন; রায়ঘাটি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রুস্তম আলী ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম; ঘাসিগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল মালেক ও সাধারণ সম্পাদক আনসার আলী মীর; কেশরহাট পৌর বিএনপির সভাপতি আলাউদ্দিন আলোসহ অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী।

​আলোচনা সভা শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত, দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

গাজীপুরে গারদখানা থেকে পলাতক ডাকাতি মামলার আসামি সম্রাট র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার

রাজু হাসান : স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ১১:২১ অপরাহ্ণ
গাজীপুরে গারদখানা থেকে পলাতক ডাকাতি মামলার আসামি সম্রাট র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার

গাজীপুর আদালত প্রাঙ্গণের গারদ খানা থেকে জেল হাজতে প্রেরণ করার সময় পালিয়ে যায় মাদক ও ডাকাতি মামলাসহ -৩২ মামলার আসামি সম্রাট (২৮)। পরে ১২ ঘণ্টার মধ্যে অভিযান চালিয়ে ময়মনসিংহ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

গ্রেপ্তার সম্রাট জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ থানার তাকতাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। সোমবার দিবাগত রাত প্রায় ১২টার দিকে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী থানার কাশর এলাকা থেকে র‌্যাব-১ ও র‌্যাব-১৪-এর যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়।

র‌্যাব-১-এর পোড়াবাড়ী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার ইফতেখার আহমেদ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সোমবার দুপুর প্রায় ২টার দিকে গাজীপুর আদালতের কোর্ট পুলিশের গারদখানার রিসিভ ডেস্কে সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় সম্রাট সুযোগ বুঝে হ্যান্ডকাফ খুলে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় গাজীপুর সদর থানার এসআই মঞ্জুরুল ইসলাম একটি মামলা দায়ের করেন।

তিনি আরও জানান, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পালিয়ে যাওয়ার প্রায় ১২ ঘণ্টার মধ্যে সম্রাটকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে গাজীপুর সদর থানার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এর আগে, রোববার রাত প্রায় ৯টার দিকে গাজীপুর মহানগরের কুনিয়া মধ্যপাড়া এলাকার একটি আটতলা ভবনের ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে সম্রাটসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছিল র‌্যাব। এ সময় তার সহযোগী আলামিন ইসলাম (৩৮), শহীদুল ওরফে মনসুর (৪০) এবং মো. আমিন মিয়া (২৮)-কেও আটক করা হয়। মঙ্গলবার(২১ জুলাই) আটককৃত আসামী সম্রাট কে জেল হাযতে পাঠানো হয়েছে।

হাকিমপুরে সবজি সহ নিত্যপন্যের দাম বেড়েছে

নুরুজ্জামান হোসেন হিলি প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ১:২৫ অপরাহ্ণ
হাকিমপুরে সবজি সহ নিত্যপন্যের দাম বেড়েছে

টানা বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন অঞ্চলে পানি জমে কাঁচাবাজারের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে হাকিমপুরের বিভিন্ন বাজারে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচামরিচ, বেগুন, শশাসহ বিভিন্ন সবজির দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একই সঙ্গে ডিম ও মুরগির দামও কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে পেঁয়াজের দামে সামান্য স্বস্তি মিলেছে।

ভারত সীমান্ত ঘেষা বাংলাহিলি খাসমহল হাট ও বাজার, বোয়লদাড় বাজার ও ডাঙ্গাপাড়া রেলবাজার সহ এলাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, টানা বৃষ্টির কারণে সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে বেশির ভাগ সবজির দাম বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে গেছে।এ ছাড়া ভারী বৃষ্টিতে অনেক এলাকায় সবজির ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় উৎপাদনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে বাজারে সরবরাহ সংকট আরও বেড়েছে। যদিও ভোক্তাদের অভিযোগ, প্রকৃত সংকটের পাশাপাশি কিছু অসাধু ব্যবসায়ীও পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন।

বর্তমানে হাকিমপুর উপজেলার বিভিন্ন বাজারে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। করলার দাম ১১০ থেকে ১২০ টাকা, পটল ২৫থেকে ৩০ টাকা ঢ্যাঁড়শ ৩০থেকে ৪০ টাকা, ঝিঙা ৩০ থেকে ৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং শশা ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কয়েক দিন আগের তুলনায় এসব সবজির দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।লাউ, যা এক সপ্তাহ আগেও ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, এখন বিক্রি হচ্ছে ৪৫থেকে ৫০ টাকায়। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কাঁচামরিচের দাম। এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ৭০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় পৌঁছেছে। তবে পেঁপের দাম তুলনামূলক কম রয়েছে। প্রতি কেজি পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকায়।হিলি বাজারের সবজি বিক্রেতা বিপ্লব জানান, টানা বৃষ্টির কারণে মোকামে সবজির সরবরাহ কমে গেছে।

পাশাপাশি বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষেতের ক্ষয়ক্ষতির প্রভাবও বাজারে পড়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে দাম ধীরে ধীরে কমতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।ক্রেতাদের অনেকেই বলছেন, সরবরাহ সংকটের পাশাপাশি কিছু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফার জন্য অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। ফলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য দৈনন্দিন বাজার করা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।সবজির পাশাপাশি দেশি রসুনের দামও কিছুটা বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা,আদা ১৩০থেকে ১৪০ টাকা, শুকনা মরিচ ৩০০থেকে ৩৮০ টাকায় তবে দেশি পেঁয়াজের দাম কিছুটা বেড়ে সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে প্রায় ১৫ টাকা । পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০টাকায়।

প্রোটিনের অন্যতম সাশ্রয়ী উৎস ব্রয়লার মুরগির দামও কেজিপ্রতি প্রায় ১০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬৫ টাকায়। সোনালি মুরগির দাম রয়েছে ২৭০ থেকে ২৮০ টাকার মধ্যে। ব্যবসায়ীদের দাবি, বৃষ্টির কারণে খামার থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় এ মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে।অন্যদিকে ডিমের বাজারে ও নেই স্বস্তি । ফার্মের বাদামি ডিমের প্রতি পাতার(৩০টি) দাম ২০ টাকা বেড়ে বর্তমানে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।