টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে র্যাবের শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান, ৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত ইসমাইল উদ্ধার
কক্সবাজারের টেকনাফে পাহাড়কেন্দ্রিক সক্রিয় অপহরণকারী চক্রগুলোর দৌরাত্ম্য ও জিম্মি দশা থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্ত করতে বর্ডার গার্ড ও র্যাবের আভিযানিক তৎপরতা বহুগুণ জোরদার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় কক্সবাজারের টেকনাফ থানাধীন রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় একটি অত্যন্ত শ্বাসরুদ্ধকর ও সুনিপুণ অভিযান পরিচালনা করে অপহরণের শিকার মোঃ ইসমাইল (৫১) নামের এক মধ্যবয়সী ব্যক্তিকে সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৫)। আজ ১৮ জুলাই ২০২৬ ইংরেজি তারিখ বিকেলে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের শালবাগান নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড ক্যাম্প এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। তবে আভিযানিক দলের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারী চক্রের সশস্ত্র সদস্যরা সুকৌশলে গহীন পাহাড়ে পালিয়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
নির্দোষ ও ভুক্তভোগী মোঃ ইসমাইল (৫১) টেকনাফ মডেল থানার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লালপাহাড় এলাকার বাসিন্দা। গত ১৫ জুলাই ২০২৬ ইংরেজি তারিখ সকাল আনুমানিক ১০:২৯ ঘটিকার সময় হ্নীলা ইউনিয়নের লেদাপাড়া এলাকা থেকে একটি সুসংগঠিত ও অজ্ঞাতনামা দুর্ধর্ষ অপহরণকারী চক্র অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। উদ্ধারের পর ভিকটিম ইসমাইল র্যাবের কাছে অপহরণের পর তাঁর ওপর চালানো লোমহর্ষক নির্যাতনের বর্ণনা দেন। তিনি জানান, অপহরণের পরপরই তাকে চোখ বেঁধে টেকনাফের গহীন পাহাড়ে একটি গোপন আস্তানায় আটকে রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে তার পরিবারের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে ৫,০০,০০০ (পাঁচ লক্ষ) টাকা মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করে আসছিল এই জঘন্য চক্রটি। নির্দিষ্ট সময়ে মুক্তিপণের টাকা আদায়ে চাপ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ভিকটিমের ওপর অমানুষিক ও বর্বর শারীরিক নির্যাতনও চালানো হয়।
মোঃ ইসমাইল হঠাৎ নিখোঁজ হওয়ার পর এবং অপহরণকারীদের পক্ষ থেকে মুক্তিপণের ফোন পাওয়ার পর তার আপন বোন সমসু নাহার (৩৩) বাদী হয়ে টেকনাফ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নম্বর-৮৩৯, তারিখ- ১৬/০৭/২০২৬ ইং) দায়ের করেন। উখিয়া ও টেকনাফ অঞ্চলের এই চাঞ্চল্যকর বিষয়টি জানার পরপরই ভিকটিমকে দ্রুততম সময়ে জীবিত উদ্ধার এবং অপহরণকারীদের আইনের আওতায় আনতে মাঠে নামে সিপিসি-১, র্যাব-১৫ (টেকনাফ ক্যাম্প)-এর একটি চৌকস ও অত্যন্ত চটপটে আভিযানিক দল। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার ও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় আজ ১৮ জুলাই বিকেল ১৫:০৫ ঘটিকায় শালবাগান রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় ভিকটিমের সুনির্দিষ্ট অবস্থান সনাক্ত করতে সক্ষম হয় র্যাব। এরপরই সেখানে বিশেষ ঘেরাও অভিযান চালিয়ে সফলভাবে ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত ভিকটিম মোঃ ইসমাইলকে পরবর্তী আইনগত ও চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কক্সবাজারের টেকনাফ মডেল থানায় সোপর্দ ও হস্তান্তর করা হয়েছে। এই বর্বরোচিত অপহরণের ঘটনায় ভিকটিমের পরিবারের পক্ষ থেকে অপরাধীদের বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে জোরালোভাবে চলমান রয়েছে। র্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই সফল অভিযানের পর গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ভিকটিমকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও পাহাড়ের বুকে আত্মগোপন করা পলাতক ও চিহ্নিত অপহরণকারীদের সুনির্দিষ্টভাবে সনাক্ত ও গ্রেফতারে তাদের বিশেষ চিরুনি অভিযান ও চিরুনি তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।
টেকনাফের শালবাগান নয়াপাড়া ক্যাম্পে সিপিসি-১ র্যাব-১৫-এর এই শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান ৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে জিম্মি থাকা ইসমাইলের জীবন বাঁচিয়েছে। গহীন পাহাড়ে অপহরণকারী চক্রের মূল আস্তানাগুলো চিরতরে গুঁড়িয়ে দিতে এবং পালিয়ে যাওয়া অপরাধীদের গ্রেফতারে প্রশাসনের এমন জিরো টলারেন্স নীতি ও কঠোর আভিযানিক অবস্থান বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।






