উখিয়ায় ইয়াবা বহনে রাজি না হওয়ায় দিনমজুরকে মারধর ও অপহরণচেষ্টার অভিযোগ, থানায় লিখিত ডায়েরি
কক্সবাজারের উখিয়ায় অবৈধ ইয়াবা ট্যাবলেট বহনে রাজি না হওয়ায় মো. আব্দুর রহমান (৩৯) নামের স্থানীয় এক দিনমজুরকে বেধড়ক মারধর ও অপহরণের চেষ্টা চালিয়েছে একদল চিহ্নিত রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী। এ ঘটনায় উখিয়ার শফিউল্লাহকাটা ১৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিজিবি ও পুলিশ ফাঁড়ির ক্যা ম্প ইনচার্জ (সিআইসি) বরাবর বিচার চেয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী।
গত ২০ জুলাই ২০২৬, সোমবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৬:৩০ ঘটিকার সময় ৫ নং পালংখালী ইউনিয়নের শফিউল্লাহকাটা ক্যাম্প-১৬ এর সি-৪ ব্লকের মাথার সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী আব্দুর রহমান উখিয়ার ৫ নম্বর পালংখালী ইউনিয়নের গয়ালমারা গ্রামের মৃত হাছন আলীর ছেলে। অভিযুক্তরা সকলেই প্রতিবেশী ও মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে ১৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থী। যাদেরকে আরসা/আল-ইয়াকিন গ্রুপের সক্রিয় সদস্য হিসেবে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযুক্ত মূল আসামীরা হলো—আনিস (৪০),ফরিদ (৩৬),ইউনুস (৩৫),সাইফুল ইসলাম (৩৬),হেছন আহমদ (৪৫)। এদের পাশাপাশি আরও ৪/৫ জন অজ্ঞাতনামা রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী এই হামলায় অংশ নেয় বলে অভিযোগে বলা হয়।
অভিযোগে প্রকাশ, আসামী আনিস ও ফরিদ দীর্ঘদিন ধরে আব্দুর রহমানকে অবৈধ ইয়াবা ট্যাবলেট বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দেওয়ার জন্য চাপ দিয়ে আসছিল। এতে অস্বীকৃতি জানানোয় তারা ভুক্তভোগীর ওপর ক্ষুব্ধ হয়। ঘটনার দিন আব্দুর রহমান নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে পালংখালী স্টেশনের দিকে যাওয়ার পথে ক্যাম্প-১৬ এর সি-৪ ব্লকের সামনে পৌঁছালে আসামীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার গতিপথ রোধ করে।
অভিযুক্তরা তাকে কিল, ঘুষি, লাথি এবং লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত ও ফুলা জখম করে। একপর্যায়ে ১ ও ২ নম্বর আসামী অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাকে টেনে-হিঁচড়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালায়। এ সময় ভুক্তভোগীর চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে সে দৌড়ে পাশের একটি ঘরে ঢুকে প্রাণ রক্ষা করে।
ঘটনার পর পর ভুক্তভোগীর বোন ২ নম্বর সাক্ষী জাহানারা বেগম নিকটস্থ এপিবিএন (APBN) পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পুলিশের উপস্থিতির টের পেয়ে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয়। পালিয়ে যাওয়ার সময় আসামীরা ভুক্তভোগীকে মামলা না করার হুমকি দেয় এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো, ঘরে মাদক রেখে হয়রানি কিংবা অপহরণ করে হত্যার হুমকি প্রদর্শন করে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে নূরে জাহান (৩৫), জাহানারা বেগম (৩০) ও আনোয়ারা বেগম (৩৫)-সহ এলাকার অন্যান্য বাসিন্দাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আহত আব্দুর রহমান পরবর্তীতে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
চিকিৎসাধীন থাকা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি অবহিত করার কারণে অভিযোগ দায়ের করতে একদিন বিলম্ব হয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগী আব্দুর রহমান। তিনি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিকট ঘটনার সঠিক তদন্তপূর্বক চিহ্নিত রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোরালো দাবি জানিয়েছেন।






