চীনা প্রতিষ্ঠানের চুরির তার মিলল পার্বতীপুরের গোডাউনে, ৩ অভিযুক্ত আটক
পার্বতীপুরে ডিবির অভিযানে ১১৪ কেজি চোরাই বৈদ্যুতিক তার উদ্ধার এবং আটককৃত অভিযুক্তদের ছবি।
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে এক গোপন ও সফল অভিযান পরিচালনা করে একটি ভাঙারি গোডাউন থেকে বিপুল পরিমাণ চোরাই বৈদ্যুতিক তার এবং বিভিন্ন অবৈধ মালামাল উদ্ধার করেছে রংপুর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এই ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার অপরাধে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই উদ্ধার অভিযান এলাকায় বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ডিবি পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, পার্বতীপুরের পার্শ্ববর্তী বদরগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত একটি নামকরা চীনা প্রতিষ্ঠানের প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ বৈদ্যুতিক তার চুরির একটি বড় ধরনের ঘটনা ঘটে। ওই চুরির মামলার ছায়া তদন্ত ও অপরাধীদের সনাক্তকরণে নেমে রংপুর ডিবি পুলিশ এই আন্তর্জাতিক সংযোগসম্পন্ন চোরাই চক্রের সন্ধান লাভ করে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোখলেছার, জামাল ও হৃদয় নামের তিন অভিযুক্ত যুবককে আটক করতে সমর্থ হয়। পরবর্তীতে আটককৃত ব্যক্তিদের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের প্রদান করা সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পার্বতীপুর শহরের ‘মেঘনা ট্রেডার্স’ নামক একটি চিহ্নিত ভাঙারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের গোডাউনে সাড়াসি অভিযান চালানো হয়।
অভিযান পরিচালনাকালে এক পর্যায়ে আটককৃতদের মধ্যে হৃদয় নামের যুবকটি কৌশলে পুলিশি নজর এড়িয়ে চম্পট দেয়। তবে পুলিশ তৎক্ষণাৎ তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি জব্দ করে নিজেদের জিম্মায় নেয়। পরবর্তীতে উক্ত গোডাউনে পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশি চালিয়ে আনুমানিক ১১৪ কেজি ওজনের বিভিন্ন প্রকারের চোরাই বৈদ্যুতিক তার উদ্ধার ও হস্তগত করতে সক্ষম হয় অভিযান পরিচালনকারী দলটি।
রংপুর ডিবির পরিদর্শক তাজেদার আলম ফারুকী এই অভিযানের বিষদ বিবরণ দিয়ে জানান, অবৈধভাবে সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক মালামাল চুরি এবং চোরাই মালামাল ক্রয়-বিক্রয়ের অপরাধে অভিযুক্ত তিন যুবকসহ ওই ভাঙারি গোডাউনের মালিক মাসুদ পারভেজ ওরফে ‘ভাঙারি মাসুদ’-এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট বদরগঞ্জ থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, প্রাথমিক তদন্ত ও অনুসন্ধানে ওই অভিযুক্ত গোডাউনে আরও বিপুল পরিমাণ অবৈধ ও চোরাই মালামাল গোপনে মজুত রাখা হয়েছে বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। অপরাধের আলামত সংরক্ষণ ও সঠিক প্রমাণের জন্য বর্তমানে গোডাউনটি আইনগতভাবে সিলগালা করার আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই সিন্ডিকেটের চোরাই মালামালের প্রকৃত উৎস বের করতে এবং চোর চক্রের অন্যান্য সদস্যদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পুলিশের বিশেষ অভিযান ও গভীর তদন্ত জোরদার রাখা হয়েছে।
শিল্প প্রতিষ্ঠান ও জাতীয় সম্পদ সুরক্ষায় গোয়েন্দা পুলিশের এহেন দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। অবৈধ চোরাই মালামালের বাজার ও কালোবাজারি গোডাউনগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হলে ভবিষ্যতে চোর চক্রের তৎপরতা অনেকাংশে নির্মূল করা সম্ভব হবে।






