​গাজীপুরে ঠিকাদার রানা মিয়াকে ঘিরে ষড়যন্ত্র: মিথ্যা মামলা নাকি ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব?

মোঃ সোহেল মিয়া, নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ
​গাজীপুরে ঠিকাদার রানা মিয়াকে ঘিরে ষড়যন্ত্র: মিথ্যা মামলা নাকি ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব?
২৪১

সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা গুঁড়িয়ে দেওয়া আর ব্যবসায়িক অঙ্গন থেকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার এক সুদূরপ্রসারী নীলনকশার শিকার হয়েছেন গাজীপুরের তরুণ ঠিকাদার ব্যবসায়ী মোঃ রানা মিয়া (২৯)। কোনো প্রমাণ ছাড়াই মিথ্যা মামলার জালে জড়ানো, অতর্কিত গ্রেফতার এবং একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেনামি আইডি ব্যবহার করে চালানো হচ্ছে একের পর এক সাইবার হামলা। দীর্ঘদিনের পারিবারিক সম্মান ও সততার সঙ্গে গড়ে তোলা ঠিকাদারি ব্যবসাকে ধ্বংস করতেই একটি প্রভাবশালী ও স্বার্থান্বেষী চক্র এই গভীর ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করেছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
​বুধবার গাজীপুরে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নিজের বিরুদ্ধে চলা এই চক্রান্তের বিস্তারিত তুলে ধরেন ব্যবসায়ী রানা মিয়া। নিজেকে শতভাগ নির্দোষ দাবি করে তিনি এই নোংরা অপতৎপরতার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
​সংবাদ সম্মেলনে রানা মিয়া আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জানান, তিনি গাজীপুর মহানগরের হায়দারাবাদ উত্তর-পশ্চিম পাড়ায় পৈতৃক ভিটায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দীর্ঘকাল ধরে অত্যন্ত সুনামের সাথে বসবাস করছেন এবং বৈধভাবে ঠিকাদারি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। কিন্তু তাঁর সামাজিক প্রভাব ও ব্যবসায়িক সফলতায় একটি অসাধু মহল দীর্ঘদিন ধরেই ঈর্ষান্বিত হয়ে ওঠে। ওই মহলের প্রত্যক্ষ ইন্ধনে একটি সাজানো ও মিথ্যা মামলায় গত শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) পুলিশ তাঁকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে। রানা মিয়া দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে দাবি করেন, মামলার প্রাথমিক এজাহারে বর্ণিত কোনো ঘটনার সঙ্গেই তাঁর দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই। নিছক আর্থিক ও সামাজিকভাবে পঙ্গু করতেই এই মিথ্যা নাটকের অবতারণা করা হয়েছে।
​অনুসন্ধানে জানা যায়, রানা মিয়ার ওপর চলা এই নিপীড়নের ব্যাপ্তি শুধু আদালতের চৌকাঠেই সীমাবদ্ধ নয়; এর একটি বড় অংশ পরিচালিত হচ্ছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, সংঘবদ্ধ এই অপরাধী চক্রটি একাধিক ভুয়া (ফেক) ও বেনামি ফেসবুক আইডি খুলে প্রতিনিয়ত তাঁর বিরুদ্ধে বানোয়াট, কুরুচিপূর্ণ এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে। যাচাই-বাছাইহীন এই অপপ্রচারের ফলে দীর্ঘদিনের কষ্টার্জিত সামাজিক ভাবমূর্তি ধূলিসাৎ হচ্ছে এবং তাঁর পুরো পরিবার চরম মানসিক ট্রমা ও নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করছে।
​সংবাদ সম্মেলন থেকে প্রশাসনের প্রতি তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরা হয়:
​দায়েরকৃত কথিত মামলাটির নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের পুনঃতদন্ত নিশ্চিত করে নেপথ্যের প্রকৃত হোতাদের চিহ্নিত করতে হবে।
​সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া আইডি ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানো চক্রটিকে সাইবার অপরাধ ও তথ্যপ্রযুক্তি আইনে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।
​তথ্য যাচাই ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর অপপ্রচার চালাতে না পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কঠোর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
​দেশের প্রচলিত আইন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পেশাদারিত্বের প্রতি গভীর আস্থা প্রকাশ করে ব্যবসায়ী রানা মিয়া বলেন, “আমি কোনো অপরাধ করিনি। নিরপেক্ষ তদন্ত হলেই স্পষ্ট হবে কীভাবে একটি নিরপরাধ পরিবারকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।” এখন দেখার বিষয়, প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এই সংঘবদ্ধ চক্রের মুখোশ উন্মোচিত হয় কি না।

Download Photocard

Polls

আজকের প্রশ্ন

আপনি বাংলা নিউজ টিভির পেইজে লাইক ফলো দিয়েছেন কি?

View Results

Loading ... Loading ...