টেকনাফে কোস্ট গার্ড ও র‍্যাবের বড় সাফল্য: বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেটসহ অস্ত্র উদ্ধার

মোঃ হারুন অর রশিদ, উখিয়া (কক্সবাজার) প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ৯:৫৪ অপরাহ্ণ
টেকনাফে কোস্ট গার্ড ও র‍্যাবের বড় সাফল্য: বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেটসহ অস্ত্র উদ্ধার
২৫৯

কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে এক দুর্ধর্ষ যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এবং র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। উদ্ধারকৃত মালামালের তালিকায় রয়েছে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, হেলমেট, দেশীয় তৈরি অস্ত্র এবং তাজা গোলাবারুদ। মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। উদ্ধারকৃত এই সামরিক সরঞ্জামগুলো কোনো বড় ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্যে মজুত করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার (১১ মে) রাত ১১টার দিকে টেকনাফ থানাধীন লেদা লামারপাড়া সংলগ্ন এলাকায় এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। কোস্ট গার্ড স্টেশন টেকনাফ ও র‍্যাবের একটি চৌকস দল যৌথভাবে ওই এলাকার একটি সন্দেহভাজন বাড়িতে তল্লাশি চালায়। অভিযান চলাকালীন ওই বাড়ি থেকে ১টি অত্যাধুনিক বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, ২টি বুলেটপ্রুফ হেলমেট, ১ রাউন্ড তাজা গোলা এবং ১টি দেশীয় তৈরি ওয়ান শ্যুটার গান (এলজি) জব্দ করা হয়। এসব সরঞ্জাম সাধারণ অপরাধীদের কাছে সচরাচর দেখা যায় না বলে বিষয়টি নিরাপত্তা বাহিনীকে ভাবিয়ে তুলেছে।

অভিযান পরিচালনার সময় যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা বাড়ির পেছনের অন্ধকার পথ দিয়ে সুকৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। ফলে ঘটনাস্থল থেকে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে পালিয়ে যাওয়া অপরাধীদের শনাক্ত ও দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্যাপক গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, সীমান্ত এলাকায় অস্থিরতা তৈরি বা কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর নাশকতামূলক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এই সরঞ্জামগুলো আনা হয়েছিল। জব্দকৃত মালামালগুলো বর্তমানে কোস্ট গার্ডের হেফাজতে রয়েছে।

লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, উদ্ধারকৃত আলামতগুলোর বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অপরাধবিরোধী কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের ট্রানজিট হিসেবে পরিচিত টেকনাফ সীমান্তে নিরাপত্তা বাহিনীর এই তৎপরতা জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। অপরাধীরা গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত গোয়েন্দা অভিযান চলবে বলেও নিশ্চিত করেছে যৌথ বাহিনী।

টেকনাফের এই সফল অভিযান সন্ত্রাসবাদ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের বহিঃপ্রকাশ। সীমান্ত এলাকায় অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা প্রয়োজন।

Download Photocard

Polls

আজকের প্রশ্ন

আপনি বাংলা নিউজ টিভির পেইজে লাইক ফলো দিয়েছেন কি?

View Results

Loading ... Loading ...