সোমবার, ৮ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ৮ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শিরোনাম:
কক্সবাজারে স্কুলছাত্রীকে ধ/র্ষ/ণে/র অভিযোগে মূলহোতা আরফাত গ্রেপ্তার, ভিকটিম ২৮ সপ্তাহের গর্ভবতীউখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন আরএমও হিসেবে ডা. নুরুল হাসানের দায়িত্ব গ্রহণপটিয়ার মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি রুবেল টেকনাফে র‌্যাবের খাঁচায় আটকনরসিংদীর ভেলানগরে মাদক সম্রাট সমীর মিয়ার অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী, দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিপটিয়ায় মিনি স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকচট্টগ্রামে লোকনাথ মন্দির দখল নিয়ে ইসকন ও সাধারণ হিন্দুদের সংঘর্ষ, কক্ষ ভাঙচুরচট্টগ্রামে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে চসিকের মেগা অপারেশনউখিয়া থেকে অপহৃত তরুণকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার করলো র‌্যাব-১৫গাজীপুরে পুলিশ বক্সে ঢুকে সাংবাদিকের ওপর হামলা আটক -১উখিয়ায় বাবার বাড়ি যাওয়া নিয়ে বিরোধ, গৃহবধূর মৃত্যুর পর স্বামী ও শাশুড়ি আটকউখিয়া সীমান্তে বিজিবি-আরএসও সম্মুখ যুদ্ধ, বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধারপেকুয়ায় ২টি বন্দুক ও গোলাবারুদসহ পেশাদার অস্ত্রধারী গ্রেফতারসিএনজির ইঞ্জিন বক্সে ২৩ হাজার ই/য়া/বা! টেকনাফে র‌্যাব-১৫ এর জালে চালক। ‎টেকনাফে ১০ বছরের শিশুকে ধ/র্ষ/ণচেষ্টা: র‌্যাব-১৫ কর্তৃক আসামী গ্রেফতার, ভিকটিম উদ্ধারকক্সবাজারে র‌্যাবের সফল অভিযান: বিপুল পরিমাণ ই/য়া/বা, হে/রো/ই/ন ও আ/ই/স/সহ শীর্ষ মা/দ/ক কারবারি আজিজ গ্রে/ফ/তা/র ‎

উখিয়া সীমান্তে বিজিবি-আরএসও সম্মুখ যুদ্ধ, বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধার

মোঃ হারুন অর রশিদ, উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ২:১৭ পূর্বাহ্ণ
উখিয়া সীমান্তে বিজিবি-আরএসও সম্মুখ যুদ্ধ, বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধার
৫৩

কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরএসও) সদস্যদের মধ্যে এক ভয়াবহ ও ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। নাফ নদীর তীরবর্তী সীমান্ত এলাকায় সংঘটিত এই সম্মুখ যুদ্ধে বিজিবির সুপরিকল্পিত ও কঠোর অভিযানের মুখে আরএসও সদস্যরা পিছু হটতে বাধ্য হয়। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এই তীব্র গুলিবিনিময়ের ঘটনায় কোনো পক্ষেরই হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। বিজিবি অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে আরএসও-এর আস্তানা গুঁড়িয়ে দিয়ে সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ সামরিক আগ্নেয়াস্ত্র, তাজা গোলাবারুদ এবং ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।

সীমান্তের নথিসূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (৩ জুন) দুপুরে উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধীনস্থ পালংখালী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকা আঞ্জুমান পাড়া বাহারপ্যারা সীমান্তে নাফ নদীর তীরবর্তী এলাকায় এই রোমাঞ্চকর ঘটনাটি ঘটে। বিজিবি সূত্রে প্রকাশ, আঞ্জুমান পাড়া বাহারপ্যারা সীমান্ত এলাকায় নাফ নদীর তীরে গোলপাতা দিয়ে তৈরি একটি অস্থায়ী ছাউনিতে ৫ থেকে ৬ জন ভারী অস্ত্রধারী আরএসও সদস্য অবস্থান করছে—এমন একটি সুনির্দিষ্ট ও নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্য পায় বিজিবি। এই গোপন তথ্যের ভিত্তিতে উখিয়া ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসারের কঠোর নির্দেশনায় দুপুর আনুমানিক ১টা ৪০ মিনিটের দিকে বিজিবির একটি বিশেষ ও চৌকস টহল দল ওই দুর্গম এলাকায় এক ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযান চলাকালীন বিজিবির বিশেষ টহল দলটি আরএসও সদস্যদের গোপন আস্তানার কাছাকাছি পৌঁছামাত্রই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি বিজিবিকে লক্ষ্য করে আকস্মিক ও অতর্কিতভাবে ৩ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে আন্তর্জাতিক সীমান্তে মুহূর্তের মধ্যে টানটান উত্তেজনা তৈরি হয়। বিজিবি সদস্যরাও কোনো প্রকার কালক্ষেপণ না করে তাৎক্ষণিক আত্মরক্ষার্থে পাল্টা আক্রমণ চালায় এবং নিজেদের আধুনিক এসএমজি (Submachine Gun) থেকে ৫ রাউন্ড পাল্টা গুলি বর্ষণ করে। বিজিবির এমন কঠোর, নিখুঁত ও দূরদর্শী অবস্থানের মুখে টিকতে না পেরে সশস্ত্র আরএসও সদস্যরা তাদের ভারী অস্ত্র, গোলাবারুদ ও রসদ ফেলে রেখে নাফ নদীর দিকে জীবন বাঁচাতে দ্রুত পালিয়ে যায়।

গোলাগুলির অবসান ঘটার পর বিজিবির বিশেষ টহল দলটি আরএসও সদস্যদের ফেলে যাওয়া ওই অস্থায়ী ছাউনির ভেতরে ব্যাপক তল্লাশি চালায়। তল্লাশিতে সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম, আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদক জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে ১টি জি-৩ ব্যাটল রাইফেল, ৩টি জি-৩ ম্যাগাজিন, ৩টি ফাইবার ম্যাগাজিন এবং ৫১৫ রাউন্ড জি-৩ রাইফেলের তাজা গুলি। এছাড়া ১টি ওয়াকিটকি সেট, ১টি মোবাইল ফোন, ২টি সিমকার্ড এবং ৪,০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। একই সাথে সেখান থেকে ২টি আরএসও মনোগ্রাম, ১টি পাউচ, ২টি লুঙ্গি, ১টি টি-শার্ট, ১২ প্যাকেট সিগারেট এবং নগদ ২০ টাকা (দুটি ১০ টাকার নোট) জব্দ করে সীমান্তরক্ষী বাহিনী। বিজিবি জানিয়েছে, এই সম্মুখ যুদ্ধের ঘটনায় কোনো পক্ষেই হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং বর্তমানে সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম মধ্যরাতে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, উখিয়া সীমান্তে আরএসও-এর সাথে গোলাগুলি ও মালামাল উদ্ধারের ঘটনার সত্যতা রয়েছে। তবে উদ্ধারকৃত বিপুল সামরিক মালামাল এবং অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিস্তারিতভাবে গণমাধ্যমকে অবহিত করা হবে। বিজিবির অন্য একটি বিশ্বস্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, উদ্ধারকৃত অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও মাদকের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ ও মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া বর্তমানে জোরালোভাবে চলমান রয়েছে।

উখিয়া সীমান্তে বিজিবির এই বীরত্বপূর্ণ অভিযান ও বিপুল অস্ত্র-মাদক উদ্ধার দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার ক্ষেত্রে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। সীমান্ত সুরক্ষায় আরএসও-এর মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীর এমন অনুপ্রবেশ রুখতে নাফ নদী ও তৎসংলগ্ন আঞ্জুমান পাড়া বাহারপ্যারা সীমান্তে বিজিবির এমন কঠোর টহল ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা সর্বদা অব্যাহত রাখা অত্যন্ত জরুরি।

Polls

আজকের প্রশ্ন

আপনি বাংলা নিউজ টিভির পেইজে লাইক ফলো দিয়েছেন কি?

View Results

Loading ... Loading ...

কক্সবাজারে স্কুলছাত্রীকে ধ/র্ষ/ণে/র অভিযোগে মূলহোতা আরফাত গ্রেপ্তার, ভিকটিম ২৮ সপ্তাহের গর্ভবতী

‎মোঃ হারুন অর রশিদ উখিয়া, কক্সবাজার প্রতিনিধি: প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ১১:৪১ অপরাহ্ণ
কক্সবাজারে স্কুলছাত্রীকে ধ/র্ষ/ণে/র অভিযোগে মূলহোতা আরফাত গ্রেপ্তার, ভিকটিম ২৮ সপ্তাহের গর্ভবতী

কক্সবাজার সদর থানা এলাকায় ১৬ বছরের এক স্কুলপড়ুয়া নাবালিকা শিক্ষার্থীকে ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর ঘটনার মূলহোতা রিয়াজ উদ্দিন আরফাত (২৪)-কে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১৫।

‎গতকাল শনিবার (০৬ জুন) রাত ১০:১০ ঘটিকায় কক্সবাজার শহরের কলাতলী রোডস্থ ‘আলগনি হোটেল’ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

‎গ্রেপ্তারকৃত রিয়াজ উদ্দিন আরফাত কক্সবাজার পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের ঝিলংজা ঝিরঝিরি পাড়া (চন্দ্রিমা মাঠ) এলাকার আইয়ুব বাবুর্চির ছেলে।

‎মামলার এজাহার ও র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। সে স্কুলে যাতায়াতের পথে ঝিলংজা এলাকার বাসিন্দা রিয়াজ উদ্দিন আরফাত তাকে বিভিন্ন সময় প্রলোভন ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে জোরপূর্বক একাধিকবার ধর্ষণ করে। সম্প্রতি ভিকটিমের শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করে পরিবারের সদস্যরা তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক জানান যে, ওই নাবালিকা শিক্ষার্থী বর্তমানে ২৮ সপ্তাহের গর্ভবতী।

‎এই ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রেক্ষিতে ভিকটিমের পরিবার বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিকে গ্রেপ্তারে ছায়াতদন্ত ও গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে র‌্যাব-১৫।

‎র‌্যাব-১৫ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল রাতে র‌্যাব-১৫ কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন সদর কোম্পানির একটি চৌকস আভিযানিক দল কলাতলী রোড এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালীন মামলার প্রধান পলাতক আসামি রিয়াজ উদ্দিন আরফাতকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় র‌্যাব।

‎গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে তাকে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন আরএমও হিসেবে ডা. নুরুল হাসানের দায়িত্ব গ্রহণ

মোঃ হারুন অর রশিদ, উখিয়া (কক্সবাজার) প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ১১:৩৩ অপরাহ্ণ
উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন আরএমও হিসেবে ডা. নুরুল হাসানের দায়িত্ব গ্রহণ

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং নবাগত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো: নুরুল হাসানের অফিসিয়াল কক্ষ

কক্সবাজারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জনাকীর্ণ উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) হিসেবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন চিকিৎসা খাতের অত্যন্ত দক্ষ ও অভিজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মো: নুরুল হাসান। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল পদে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর এক অত্যন্ত আবেগঘন এবং বিনম্র বার্তায় তিনি তাঁর কর্মক্ষেত্রের সকল সিনিয়র সহকর্মী, পেশাগত শুভাকাঙ্ক্ষী এবং উখিয়ার স্থানীয় সাধারণ জনগণের কাছে অন্তরের অন্তস্থল থেকে দোয়া ও আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন। তাঁর এই নতুন পথচলাকে উখিয়ার স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ।

এক সংক্ষিপ্ত ও তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়ায় নবাগত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো: নুরুল হাসান সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, হামরোগের প্রাদুর্ভাব বা চলমান নানাবিধ বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক সংকটের এই অত্যন্ত কঠিন ও নাজুক সময়ে এই গুরুদায়িত্বটি তাঁর ওপর অর্পিত হয়েছে। তিনি অত্যন্ত বিনয়ের সাথে এবং দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে উল্লেখ করেন যে, ব্যক্তিগতভাবে নিজ থেকে এই পদটি বা অতিরিক্ত দায়িত্ব তিনি না চাইলেও কেবল পেশাগত আইনি ও মানবিক প্রয়োজনে এবং কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রেখেই তাঁকে এই গুরুভার নিজের কাঁধে তুলে নিতে হয়েছে।

উখিয়াবাসীর চিকিৎসাসেবা সংক্রান্ত এক অঙ্গীকার ব্যক্ত করে ডা. মো: নুরুল হাসান আরও বলেন, “আল্লাহ পাকের অশেষ মেহেরবানিতে, আমার পেশাগত জীবনের সম্মানিত সিনিয়রদের গভীর দোয়ায় এবং সর্বস্তরের মানুষের আন্তরিক সহযোগিতায় এই কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং পথচলা যেন সহজ ও সুন্দর হয়—এজন্য আমি সবার কাছে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে দোয়ার দরখাস্ত করছি। উখিয়াবাসীর দোরগোড়ায় আধুনিক ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা সুনিশ্চিত করতে আমি আমার মেধা ও শ্রমের সর্বোচ্চ চেষ্টা সর্বদা বিলিয়ে দেব।”

নবাগত এই আরএমও চিকিৎসা ক্ষেত্রে অত্যন্ত দক্ষ, দূরদর্শী এবং উচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন একজন চিকিৎসক হিসেবে সুপরিচিত। তিনি দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসালয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (সিএমসি) থেকে অত্যন্ত সফলতার সাথে এমবিবিএস ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি সরকারি চাকুরির অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ ৪৮তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) পরীক্ষায় মেধার স্বাক্ষর রেখে সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় তাঁর ব্যাপক উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও ডিগ্রি রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো এফসিপিএস (পার্ট-১, অর্থোপেডিক্স), সিসিডি বারডেম (ডায়াবেটিস), সিএমইউ (আল্ট্রাসনোগ্রাফি) এবং এমসিজিপি (শিশু ও চর্ম রোগ)। বর্তমানে তিনি আবাসিক মেডিকেল অফিসার (RMO) হিসেবে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরাসরি যুক্ত হলেন।

উখিয়া হাসপাতালে সরকারি নিয়মতান্ত্রিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্থানীয় সাধারণ ও প্রান্তিক মানুষের চিকিৎসাপ্রাপ্তির সুবিধার্থে তিনি তাঁর নিয়মিত প্রাইভেট প্র্যাকটিসও সমান তালে চালিয়ে যাবেন বলে নিশ্চিত করেছেন। উখিয়ার পালংখালী এলাকায় অবস্থিত সুপরিচিত ‘নিউরন মেডিকেল সেন্টার’-এ প্রতিদিন বিকাল ৪টা থেকে শুরু করে রাত ৮টা পর্যন্ত তিনি নিয়মিত চেম্বার করবেন এবং সাধারণ রোগীদের আন্তরিকভাবে চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ প্রদান করবেন। এদিকে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামগ্রিক চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন এবং আবাসিক মেডিকেল অফিসার হিসেবে ডা. মো: নুরুল হাসানের এই নতুন ও প্রত্যয়ী পথচলাকে স্থানীয় সচেতন মহল ও সুধী সমাজ আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানিয়েছেন। নিবেদিত চিকিৎসা সেবা প্রদানের মাধ্যমে তিনি দ্রুত উখিয়াবাসীর আস্থা অর্জন করবেন বলে সবাই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ডা. মো: নুরুল হাসানের মতো একজন যোগ্য ও উচ্চ শিক্ষিত চিকিৎসককে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও হিসেবে পদায়ন করা নিঃসন্দেহে একটি যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত। হামরোগসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলা করে তিনি উখিয়ার সাধারণ ও অবহেলিত মানুষের চিকিৎসাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করবেন বলে সর্বস্তরের জনগণ গভীর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

পটিয়ার মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি রুবেল টেকনাফে র‌্যাবের খাঁচায় আটক

মোঃ হারুন অর রশিদ, উখিয়া (কক্সবাজার) প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ১১:২১ অপরাহ্ণ
পটিয়ার মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি রুবেল টেকনাফে র‌্যাবের খাঁচায় আটক

মাদক মামলার ১ বছর ১ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের সাজা মাথায় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে পলাতক থাকা এক সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১৫। গতকাল শনিবার (৬ জুন ২০২৬) সন্ধ্যায় কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থানাধীন কৌশলগত ও জনাকীর্ণ এলাকা হোয়াইক্যং বাজার এলাকায় এক ঝটিকা ও সফল অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃত আসামির বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত মাদক আইনে সুনির্দিষ্ট সাজার পরোয়ানা জারি ছিল এবং দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে তাকে আইনের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

কক্সবাজারের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ও র‌্যাব সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত ওই কুখ্যাত সাজাপ্রাপ্ত আসামির নাম মোঃ সাইফুল ইসলাম প্রকাশ রুবেল (২৫)। তিনি মূলত টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত লম্বাবিল গ্রামের বাসিন্দা সামশুল আলমের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিজের আসল পরিচয় গোপন করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাযাবরের মতো যাযাবর জীবনযাপন করে আসছিলেন যাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁকে সহজে খুঁজে না পায়।

র‌্যাব-১৫ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বস্ত গোপন সংবাদ ও সুনির্দিষ্ট ডিজিটাল তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল শনিবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৪০ ঘটিকার সময় সিপিসি-২, র‌্যাব-১৫ (হোয়াইক্যং ক্যাম্প)-এর একটি চৌকস ও অত্যন্ত দক্ষ আভিযানিক দল হোয়াইক্যং বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। আভিযানিক দলের উপস্থিতি এবং র‌্যাবের ভারী বুটের শব্দ টের পেয়ে সুচতুর আসামি মোঃ সাইফুল ইসলাম প্রকাশ রুবেল লোকালয়ের ভেতর দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তবে র‌্যাবের চৌকস দল চারপাশ থেকে কর্ডন করে ধাওয়া দিয়ে তাকে হোয়াইক্যং বাজার এলাকা থেকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

র‌্যাব-১৫-এর পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, বিগত ২০১৯ সালে চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া থানায় গ্রেপ্তারকৃত আসামি রুবেলের বিরুদ্ধে একটি বড় ধরনের মাদক মামলা দায়ের করা হয়। উক্ত মামলায় দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে বিজ্ঞ আদালত তাকে সুনির্দিষ্টভাবে দোষী সাব্যস্ত করেন এবং ০১ বছর ০১ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের রায় প্রদান করেন। একই সাথে বিজ্ঞ আদালত থেকে আসামির বিরুদ্ধে নিয়মিত সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়। আদালত থেকে এই সাজা পরোয়ানা জারির পর থেকেই সুচতুর আসামি রুবেল আইনি প্রক্রিয়া ও সাজার মেয়াদ এড়াতে দেশের বিভিন্ন স্থানে সুকৌশলে ও ক্রমাগত স্থান পরিবর্তন করে আত্মগোপন করে আসছিলেন।

র‌্যাব আরও জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ও ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এবং আদালতের রায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তাকে রাতেই টেকনাফ মডেল থানায় যথাযথ প্রক্রিয়ায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এই সফল অভিযানের বিষয়ে র‌্যাব-১৫ এর দায়িত্বপ্রাপ্ত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, মাদকের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি মাঠপর্যায়ে কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে এবং একটি সম্পূর্ণ অপরাধমুক্ত সুশীল সমাজ গঠনে র‌্যাবের এই দূরদর্শী, কঠোর ও আপসহীন আভিযানিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও সমান তালে অব্যাহত থাকবে।

পটিয়া থানার ২০১৯ সালের মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি রুবেলকে দীর্ঘ বছর পর টেকনাফ থেকে গ্রেপ্তার করা র‌্যাব-১৫-এর পেশাদারিত্ব ও নিখুঁত গোয়েন্দা নজরদারির এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ। এই ধরনের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের ফলে বিচার ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।