বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩
শিরোনাম:
ধুনটে প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের এলডিডিপি প্রকল্পের কর্মকর্তাদের বিদায় সংবর্ধনাগাজীপুরে স্মার্টফোনের স্ক্রিনে সমাজ বদলের স্বপ্নসাভারে ট্রাফিক পুলিশের ‘পকেট ভারী’, পাকিজা মোড়ে সাধারণ মানুষের ‘গলার কাঁটা’ তীব্র যানজটহিলিতে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনমিয়ানমারে পাচারের চেষ্টা: উখিয়ায় বিজিবির অভিযানে ৯০ বস্তা সার ও ৮০ লিটার তেল উদ্ধারউখিয়ায় ৩ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক রোহিঙ্গা আসামি আইয়ুব আলী গ্রেপ্তার!‎উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করলেন স্বাস্থ্য সচিব, মডেল হাসপাতালে রূপান্তরের প্রত্যয়আশুলিয়ায় ইউপি সচিব আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়সাভারে অবৈধভাবে ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা উৎপাদন: হুমকির মুখে জনস্বাস্থ্য ও কৃষিজমিগাজীপুরে অসহায় দুঃস্হ ও সুবিধাবঞ্চিত ৩৫০ জনকে এাণ সামগ্রী বিতরনগাজীপুরে হঠাৎ করে স্হায়ীভাবে বন্ধ ঘোষনা- ২ কারখানা দিশেহারা প্রায় ১৮ শত শ্রমিকহিলিতে বিএনপির মোটরসাইকেল শোডাউনগাজীপুরে ব্রাজিল বনাম আর্জেন্টিনা প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত‎আগামী ২৮ জুন জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন: উখিয়ায় উপজেলা এডভোকেসী ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিতনাইক্ষ্যংছড়ি থানা পরিদর্শনে অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হক, দিলেন গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা

‎উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করলেন স্বাস্থ্য সচিব, মডেল হাসপাতালে রূপান্তরের প্রত্যয়

‎মোঃ হারুন অর রশিদ, উখিয়া (কক্সবাজার) প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ১১:৩৩ অপরাহ্ণ
‎উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করলেন স্বাস্থ্য সচিব, মডেল হাসপাতালে রূপান্তরের প্রত্যয়
৫৪

‎কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা ও সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব মোঃ কামরুজ্জামান চৌধুরী। গতকাল ২৫ জুন (বৃহস্পতিবার) তিনি এই হাসপাতালটি পরিদর্শনে যান।

‎পরিদর্শনকালে সচিব মহোদয়কে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে আন্তরিকভাবে বরণ করে নেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. এহেচান উল্লাহ সিকদারসহ হাসপাতালের সর্বস্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

‎পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্য সচিব জনাব মোঃ কামরুজ্জামান চৌধুরী হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, বহিঃবিভাগ (ওপিডি), অন্তঃবিভাগসহ (আইপিডি) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট ও ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন। তিনি চিকিৎসাধীন রোগী ও কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সাথে কথা বলেন এবং হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা, রোগী ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতাসহ সার্বিক কার্যক্রমের খোঁজখবর নেন।

‎পরিদর্শন শেষে হাসপাতালের সার্বিক স্বাস্থ্যসেবার মান নিয়ে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করে সচিব বলেন, “সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে একটি মডেল উপজেলা হাসপাতালে পরিণত করা সম্ভব।”

‎স্বাস্থ্য সচিবের এই গুরুত্বপূর্ণ সফরকালে তাঁর সাথে সফরসঙ্গী হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন: ড. জিন্নাত রেহানা, মহাপরিচালক, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর। ড. সৈয়দা নওশীন পর্ণিনী, অতিরিক্ত সচিব, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ। ডা. শেখ ফজলে রাব্বি, বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য), চট্টগ্রাম বিভাগ। ডা. টিটু চন্দ্র শীল, ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন, কক্সবাজার জেলা। জনাব পান্না আক্তার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উখিয়া। ডা. নুরুল হাসান, আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও), উখিয়া।

‎এছাড়াও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা (এনজিও)-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তাগণ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

‎পরিদর্শন চলাকালীন উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এহেচান উল্লাহ সিকদার হাসপাতালের চলমান চিকিৎসাসেবা, বিগত দিনগুলোর সেবার অগ্রগতি, ভৌগোলিক কারণে সৃষ্ট বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ এবং হাসপাতালের সেবার মান আরও বেগবান করতে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সচিব মহোদয়ের নিকট বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।

‎সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের এই ধরনের নিবিড় তদারকি ও দিকনির্দেশনামূলক সফর উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, অবকাঠামোগত বিকাশ এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের গুণগত মান বৃদ্ধিতে এক নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে।

Polls

আজকের প্রশ্ন

আপনি বাংলা নিউজ টিভির পেইজে লাইক ফলো দিয়েছেন কি?

View Results

Loading ... Loading ...

ধুনটে প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের এলডিডিপি প্রকল্পের কর্মকর্তাদের বিদায় সংবর্ধনা

নাজমুল হাসান নাজির সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ২:১০ পূর্বাহ্ণ
ধুনটে প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের এলডিডিপি প্রকল্পের কর্মকর্তাদের বিদায় সংবর্ধনা

বগুড়ার ধুনট উপজেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের এলডিডিপি প্রকল্পের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ১১টায় উপজেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর অফিসে প্রধান অতিথি হিসেবে উক্ত সংবর্ধনা প্রদান করেন বগুড়া জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা: কাজী আশরাফুল ইসলাম।

ধুনট উপজেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর ও হাসপাতালের কর্মকর্তা ডা: মোছা: রেহেনা খাতুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা: নাসরিন পারভিন ও ডিটিও ডা: মামুনুর রশিদ।

উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা: আব্দুল রাকিবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিদায়ী লাইফ ষ্টক কর্মকর্তা ডা: সরলা রানী সাহা, উপ-সহকারী প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা (কৃত্রিম প্রজনন) বিশ্বজিৎ কর্মকার, মাঠ সহকারী লিটন কুমার, এআই টেকনিশিয়ান রনজু আহম্মেদ, আব্দুল মান্নান, পার্থ সেন, আব্দুল খালেক প্রমূখ।

গাজীপুরে স্মার্টফোনের স্ক্রিনে সমাজ বদলের স্বপ্ন

রাজু হাসান : স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ২:০৮ পূর্বাহ্ণ
গাজীপুরে স্মার্টফোনের স্ক্রিনে সমাজ বদলের স্বপ্ন

সকালের চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে খবরের কাগজে চোখ বোলানো কিংবা ড্রয়িংরুমে সোফায় হেলান দিয়ে টেলিভিশনের পর্দায় নজর রাখা—খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, এটিই ছিল বাঙালির প্রাত্যহিক অভ্যাসের চিরায়ত রূপ। কিন্তু সময়ের চাকা ঘুরেছে দ্রুত। প্রযুক্তির তীব্র আলোয় আজ সেই অভ্যাসে লেগেছে পরিবর্তনের হাওয়া। এখন ভোরবেলা চোখ মেলা থেকে শুরু করে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত মানুষের নিত্যসঙ্গী হাতের স্মার্টফোনটি। ফেসবুক, ইউটিউব কিংবা টিকটকের স্ক্রল করার চাকার সাথে ঘুরছে মানুষের মনন ও মস্তিষ্ক। অজান্তেই এই ছোট ছোট ভিডিও বা কনটেন্টগুলো মানুষের চিন্তাচেতনাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করছে।

ডিজিটাল যুগের এই নতুন বাস্তবতাকে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। বরং এই বিপুল শক্তিকে কীভাবে ইতিবাচক ও সামাজিক কল্যাণে রূপান্তর করা যায়, তা নিয়েই গাজীপুরে জেলা প্রশাসন এক ব্যতিক্রমী ও দূরদর্শী উদ্যোগ নিয়েছে। জেলার তরুণ ও উদীয়মান কনটেন্ট নির্মাতাদের (Content Creators) নিয়ে আয়োজন করা হয়েছিল এক প্রাণবন্ত মতবিনিময় সভা। উদ্দেশ্য একটাই—সামাজিক দায়বদ্ধতা রক্ষা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং গুজবের ভিড়ে সত্যকে তুলে ধরা।

গাজীপুর জেলা প্রশাসনের এই আয়োজনে মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল কনটেন্ট নির্মাতাদের সামাজিক দায়িত্ব। বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে বড় ব্যাধি হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘ক্লিক বেইট’ বা বিভ্রান্তিকর শিরোনাম। ভেতরের খবরের সাথে শিরোনামের কোনো মিল না রেখে ভিউ বাড়ানোর যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা, তা রুখে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয় এই সভা থেকে। পাশাপাশি কোনো তথ্য না জেনে শেয়ার বা কনটেন্ট তৈরি না করে ‘ফ্যাক্ট চেকিং’ বা তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাসের ওপর জোর দেওয়া হয়। যেকোনো প্রাকৃতিক বা সামাজিক দুর্যোগকালীন সময়ে একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর কীভাবে বিভ্রান্তি না ছড়িয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারেন, সেই দিকনির্দেশনাও উঠে আসে আলোচনায়।

মতবিনিময় সভায় গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো: নূরুল করিম ভূঁইয়া কনটেন্ট নির্মাতাদের উদ্দেশ্যে এক অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, *”মানুষ তার কর্মের মাধ্যমেই সমাজে পরিচিতি লাভ করে।”*

তিনি সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সবসময় সঠিক তথ্য উপস্থাপনের পাশাপাশি কনটেন্টের ‘ফর্মিং অ্যান্ড ফ্রেমিং’ (Forming & Framing) বা উপস্থাপনার কৌশলের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। শুধু বিনোদনই নয়, কনটেন্ট ক্রিয়েশনকে কীভাবে মূলধারার একটি লাভজনক ও সম্মানজনক পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যায়, সেই স্বপ্নও দেখান তিনি।

বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বিশ্বখ্যাত কৌতুক অভিনেতা চার্লি চ্যাপলিন এবং বাংলাদেশের বিনোদন জগতের জীবন্ত কিংবদন্তি, ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র পরিকল্পনাকর্তা ও উপস্থাপক হানিফ সংকেতের উদাহরণ টেনে আনেন। তিনি দেখিয়ে দেন, কীভাবে নিছক কৌতুক বা বিনোদনের আড়ালে সমাজে অত্যন্ত শক্তিশালী ও গভীর ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। তবে এর জন্য প্রয়োজন মেধা এবং ভিডিও ও অডিওর সঠিক সামঞ্জস্য। কেবল কথার কথা নয়, গাজীপুরের এই তরুণ নির্মাতাদের দক্ষতাকে আরও শাণিত করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি দিনব্যাপী বিশেষ কর্মশালা (Workshop) আয়োজনের দারুণ এক সুখবরও দেন জেলা প্রশাসক।

ডিজিটাল দুনিয়ার এই নতুন কারিগরদের উৎসাহিত করতে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব ও এলএ) জনাব মো: সোহেল রানা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জনাব মো: শাহরিয়ার নজির এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জনাব এম. রকিবুল হাসানসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিবৃন্দ।

প্রযুক্তির এই জোয়ারে গা ভাসিয়ে না দিয়ে, বরং তাকে শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করে একটি সুন্দর সমাজ বিনির্মাণের যে বার্তা গাজীপুর জেলা প্রশাসন দিল, তা সত্যি প্রশংসনীয়। এখন দেখার অপেক্ষা, গাজীপুরের কনটেন্ট নির্মাতারা তাদের ক্যামেরার লেন্সে কীভাবে এই ইতিবাচক পরিবর্তনের গল্পগুলো বুনে চলেন।

সাভারে ট্রাফিক পুলিশের ‘পকেট ভারী’, পাকিজা মোড়ে সাধারণ মানুষের ‘গলার কাঁটা’ তীব্র যানজট

​নাজমুল হাসান নাজির সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ২:০২ পূর্বাহ্ণ
সাভারে ট্রাফিক পুলিশের ‘পকেট ভারী’, পাকিজা মোড়ে সাধারণ মানুষের ‘গলার কাঁটা’ তীব্র যানজট

সাভারের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাকিজা মোড় এবং তৎসংলগ্ন ইউ-টার্ন এলাকাটি এখন সাধারণ চালক ও পথচারীদের জন্য এক আতঙ্কের নাম। অভিযোগ উঠেছে, পাকিজা মোড় পুলিশ বক্সের কতিপয় ট্রাফিক পুলিশ ও সার্জেন্টের বেপরোয়া চাঁদাবাজি এবং অব্যবস্থাপনার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ মোড়টিতে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে কৃত্রিম ও তীব্র যানজট। বৈধ কাগজপত্র থাকার পরেও সাধারণ চালকদের মামলার ভয় দেখিয়ে পকেট কাটার এক রমরমা বাণিজ্য চলছে এখানে, যা এখন পুরো সাভারবাসীর ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

​সরেজমিনে এবং ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পাকিজা মোড়ের ইউ-টার্নটি ব্যবহার করে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন যাতায়াত করে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, কতিপয় ট্রাফিক কর্মকর্তা সুনির্দিষ্ট কিছু গাড়িকে অনৈতিক সুবিধা দিতে গিয়ে কিংবা চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গাড়ি থামিয়ে রাখেন। এর ফলে পেছনে থাকা শত শত যানবাহন সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যেই পুরো ইউ-টার্ন এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। দূরপাল্লার বাস থেকে শুরু করে লোকাল বাস, মিনিবাস ও পণ্যবাহী ট্রাক—কোনোটিই এই কৃত্রিম জটলা থেকে রেহাই পাচ্ছে না।

​সবচেয়ে ভয়ংকর অভিযোগ উঠেছে নিয়ম মেনে চলা চালকদের পক্ষ থেকে। একাধিক মোটরসাইকেল আরোহী, সিএনজি চালক এবং ব্যক্তিগত গাড়ির মালিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গাড়ির ফিটনেস, লাইসেন্সসহ সব ধরনের বৈধ কাগজপত্র ঠিক থাকার পরেও ট্রাফিক পুলিশ বক্সে নিয়ে গিয়ে নানা অজুহাতে হয়রানি করা হয়।

​এক ভুক্তভোগী চালক জানান, “কাগজপত্র সব আপডেট থাকার পরও সার্জেন্টরা এমন ভাব দেখান যেন বড় কোনো অপরাধ করেছি। শেষমেশ মোটা অঙ্কের টাকা না দিলে অযৌক্তিক মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। বাধ্য হয়েই আমাদের পকেটের টাকা খোয়াতে হচ্ছে।”

​এই চাঁদাবাজির সিন্ডিকেটের কারণে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে সাভারের সাধারণ মানুষ, চাকরিজীবী ও শিক্ষার্থীদের। বিশেষ করে অফিস বা স্কুল-কলেজের সময়ে এই ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। মহাসড়কের মতো একটি জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রকাশ্যে এমন চাঁদাবাজি এবং সাধারণ মানুষকে জিম্মি করার ঘটনায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

​সচেতন মহলের দাবি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অবিলম্বে এই পুলিশ বক্সের কতিপয় কর্মকর্তার অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর তদন্ত করা উচিত। সাভারের প্রবেশদ্বারকে যানজট ও দুর্নীতিমুক্ত করতে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ না নিলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও প্রকট আকার ধারণ করবে।