অন্ধত্ব প্রতিরোধ সহ শিশুদের পুষ্টিহীনতা দূরীকরণের লক্ষ্যে দিনাজপুরের হিলিতে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে।আজ রবিবার সকাল ১১ টার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্স চত্বরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জর্জ মিত্র চাকমা ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন। এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তানভীর হাসনাত রবিন, হাকিমপুর থানা অফিসার জাকির হোসেন ।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তানভীর হাসনাত বলেন, ৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভাসহ মোট ৯৭টি কেন্দ্রে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সের শিশুকে একটি করে নীল রঙের ক্যাপসুল ও ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সে শিশুকে একটি করে লাল রঙের ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।উপজেলায় মোট মোট ১৩ হাজার ৫১০ জন শিশুকে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
বগুড়ার ধুনট উপজেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের এলডিডিপি প্রকল্পের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ১১টায় উপজেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর অফিসে প্রধান অতিথি হিসেবে উক্ত সংবর্ধনা প্রদান করেন বগুড়া জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা: কাজী আশরাফুল ইসলাম।
ধুনট উপজেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর ও হাসপাতালের কর্মকর্তা ডা: মোছা: রেহেনা খাতুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা: নাসরিন পারভিন ও ডিটিও ডা: মামুনুর রশিদ।
সকালের চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে খবরের কাগজে চোখ বোলানো কিংবা ড্রয়িংরুমে সোফায় হেলান দিয়ে টেলিভিশনের পর্দায় নজর রাখা—খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, এটিই ছিল বাঙালির প্রাত্যহিক অভ্যাসের চিরায়ত রূপ। কিন্তু সময়ের চাকা ঘুরেছে দ্রুত। প্রযুক্তির তীব্র আলোয় আজ সেই অভ্যাসে লেগেছে পরিবর্তনের হাওয়া। এখন ভোরবেলা চোখ মেলা থেকে শুরু করে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত মানুষের নিত্যসঙ্গী হাতের স্মার্টফোনটি। ফেসবুক, ইউটিউব কিংবা টিকটকের স্ক্রল করার চাকার সাথে ঘুরছে মানুষের মনন ও মস্তিষ্ক। অজান্তেই এই ছোট ছোট ভিডিও বা কনটেন্টগুলো মানুষের চিন্তাচেতনাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করছে।
ডিজিটাল যুগের এই নতুন বাস্তবতাকে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। বরং এই বিপুল শক্তিকে কীভাবে ইতিবাচক ও সামাজিক কল্যাণে রূপান্তর করা যায়, তা নিয়েই গাজীপুরে জেলা প্রশাসন এক ব্যতিক্রমী ও দূরদর্শী উদ্যোগ নিয়েছে। জেলার তরুণ ও উদীয়মান কনটেন্ট নির্মাতাদের (Content Creators) নিয়ে আয়োজন করা হয়েছিল এক প্রাণবন্ত মতবিনিময় সভা। উদ্দেশ্য একটাই—সামাজিক দায়বদ্ধতা রক্ষা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং গুজবের ভিড়ে সত্যকে তুলে ধরা।
গাজীপুর জেলা প্রশাসনের এই আয়োজনে মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল কনটেন্ট নির্মাতাদের সামাজিক দায়িত্ব। বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে বড় ব্যাধি হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘ক্লিক বেইট’ বা বিভ্রান্তিকর শিরোনাম। ভেতরের খবরের সাথে শিরোনামের কোনো মিল না রেখে ভিউ বাড়ানোর যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা, তা রুখে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয় এই সভা থেকে। পাশাপাশি কোনো তথ্য না জেনে শেয়ার বা কনটেন্ট তৈরি না করে ‘ফ্যাক্ট চেকিং’ বা তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাসের ওপর জোর দেওয়া হয়। যেকোনো প্রাকৃতিক বা সামাজিক দুর্যোগকালীন সময়ে একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর কীভাবে বিভ্রান্তি না ছড়িয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারেন, সেই দিকনির্দেশনাও উঠে আসে আলোচনায়।
মতবিনিময় সভায় গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো: নূরুল করিম ভূঁইয়া কনটেন্ট নির্মাতাদের উদ্দেশ্যে এক অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, *”মানুষ তার কর্মের মাধ্যমেই সমাজে পরিচিতি লাভ করে।”*
তিনি সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সবসময় সঠিক তথ্য উপস্থাপনের পাশাপাশি কনটেন্টের ‘ফর্মিং অ্যান্ড ফ্রেমিং’ (Forming & Framing) বা উপস্থাপনার কৌশলের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। শুধু বিনোদনই নয়, কনটেন্ট ক্রিয়েশনকে কীভাবে মূলধারার একটি লাভজনক ও সম্মানজনক পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যায়, সেই স্বপ্নও দেখান তিনি।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বিশ্বখ্যাত কৌতুক অভিনেতা চার্লি চ্যাপলিন এবং বাংলাদেশের বিনোদন জগতের জীবন্ত কিংবদন্তি, ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র পরিকল্পনাকর্তা ও উপস্থাপক হানিফ সংকেতের উদাহরণ টেনে আনেন। তিনি দেখিয়ে দেন, কীভাবে নিছক কৌতুক বা বিনোদনের আড়ালে সমাজে অত্যন্ত শক্তিশালী ও গভীর ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। তবে এর জন্য প্রয়োজন মেধা এবং ভিডিও ও অডিওর সঠিক সামঞ্জস্য। কেবল কথার কথা নয়, গাজীপুরের এই তরুণ নির্মাতাদের দক্ষতাকে আরও শাণিত করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি দিনব্যাপী বিশেষ কর্মশালা (Workshop) আয়োজনের দারুণ এক সুখবরও দেন জেলা প্রশাসক।
ডিজিটাল দুনিয়ার এই নতুন কারিগরদের উৎসাহিত করতে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব ও এলএ) জনাব মো: সোহেল রানা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জনাব মো: শাহরিয়ার নজির এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জনাব এম. রকিবুল হাসানসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিবৃন্দ।
প্রযুক্তির এই জোয়ারে গা ভাসিয়ে না দিয়ে, বরং তাকে শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করে একটি সুন্দর সমাজ বিনির্মাণের যে বার্তা গাজীপুর জেলা প্রশাসন দিল, তা সত্যি প্রশংসনীয়। এখন দেখার অপেক্ষা, গাজীপুরের কনটেন্ট নির্মাতারা তাদের ক্যামেরার লেন্সে কীভাবে এই ইতিবাচক পরিবর্তনের গল্পগুলো বুনে চলেন।
সাভারের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাকিজা মোড় এবং তৎসংলগ্ন ইউ-টার্ন এলাকাটি এখন সাধারণ চালক ও পথচারীদের জন্য এক আতঙ্কের নাম। অভিযোগ উঠেছে, পাকিজা মোড় পুলিশ বক্সের কতিপয় ট্রাফিক পুলিশ ও সার্জেন্টের বেপরোয়া চাঁদাবাজি এবং অব্যবস্থাপনার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ মোড়টিতে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে কৃত্রিম ও তীব্র যানজট। বৈধ কাগজপত্র থাকার পরেও সাধারণ চালকদের মামলার ভয় দেখিয়ে পকেট কাটার এক রমরমা বাণিজ্য চলছে এখানে, যা এখন পুরো সাভারবাসীর ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরেজমিনে এবং ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পাকিজা মোড়ের ইউ-টার্নটি ব্যবহার করে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন যাতায়াত করে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, কতিপয় ট্রাফিক কর্মকর্তা সুনির্দিষ্ট কিছু গাড়িকে অনৈতিক সুবিধা দিতে গিয়ে কিংবা চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গাড়ি থামিয়ে রাখেন। এর ফলে পেছনে থাকা শত শত যানবাহন সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যেই পুরো ইউ-টার্ন এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। দূরপাল্লার বাস থেকে শুরু করে লোকাল বাস, মিনিবাস ও পণ্যবাহী ট্রাক—কোনোটিই এই কৃত্রিম জটলা থেকে রেহাই পাচ্ছে না।
সবচেয়ে ভয়ংকর অভিযোগ উঠেছে নিয়ম মেনে চলা চালকদের পক্ষ থেকে। একাধিক মোটরসাইকেল আরোহী, সিএনজি চালক এবং ব্যক্তিগত গাড়ির মালিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গাড়ির ফিটনেস, লাইসেন্সসহ সব ধরনের বৈধ কাগজপত্র ঠিক থাকার পরেও ট্রাফিক পুলিশ বক্সে নিয়ে গিয়ে নানা অজুহাতে হয়রানি করা হয়।
এক ভুক্তভোগী চালক জানান, “কাগজপত্র সব আপডেট থাকার পরও সার্জেন্টরা এমন ভাব দেখান যেন বড় কোনো অপরাধ করেছি। শেষমেশ মোটা অঙ্কের টাকা না দিলে অযৌক্তিক মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। বাধ্য হয়েই আমাদের পকেটের টাকা খোয়াতে হচ্ছে।”
এই চাঁদাবাজির সিন্ডিকেটের কারণে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে সাভারের সাধারণ মানুষ, চাকরিজীবী ও শিক্ষার্থীদের। বিশেষ করে অফিস বা স্কুল-কলেজের সময়ে এই ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। মহাসড়কের মতো একটি জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রকাশ্যে এমন চাঁদাবাজি এবং সাধারণ মানুষকে জিম্মি করার ঘটনায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সচেতন মহলের দাবি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অবিলম্বে এই পুলিশ বক্সের কতিপয় কর্মকর্তার অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর তদন্ত করা উচিত। সাভারের প্রবেশদ্বারকে যানজট ও দুর্নীতিমুক্ত করতে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ না নিলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও প্রকট আকার ধারণ করবে।