৩ মাস বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পাবেন উপকূলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষ
পাইকগাছায় বাদশা আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ মোবাইল ভাসমান হাসপাতালের উদ্বোধন করলেন এমপি আবুল কালাম আজাদ
খুলনার পাইকগাছায় সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় দুর্গম ও অবহেলিত জনপদের প্রান্তিক, সাধারণ ও দুস্থ মানুষের মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে চালু হলো সৌদি সরকারের বিশেষ আন্তর্জাতিক উদ্যোগ। পাইকগাছা উপজেলার গড়ইখালীর ঐতিহাসিক শিবসা নদীতে সৌদি সরকারের সহায়তায় বাংলাদেশ সরকার পরিচালিত ‘বাদশা আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ মোবাইল ভাসমান হাসপাতাল’-এর সার্বিক চিকিৎসা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর ২০২৬) সকালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফিতা কেটে, ফলক উন্মোচন এবং বেলুন উড়িয়ে ভাসমান এ আধুনিক চিকিৎসা জাহাজের শুভ সূচনা করেন খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মাওলানা আবুল কালাম আজাদ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, “আমাদের এই উপকূলীয় অঞ্চলের সাধারণ ও নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা ও দারিদ্র্যের কারণে কাঙ্ক্ষিত মানসম্মত চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছিল। এই আধুনিক মোবাইল ভাসমান হাসপাতালটি অবহেলিত জনপদের স্বাস্থ্যসেবায় এক ঐতিহাসিক ও বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে দেবে। ভৌগোলিক দূরত্ব অতিক্রম করে প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক প্রাথমিক ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা এবং বিনামূল্যে ওষুধ পৌঁছে দেওয়া আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিশেষ সুবিধাসম্পন্ন ও সুসজ্জিত এই আধুনিক ভাসমান হাসপাতালটি শিবসা নদীর স্থায়ী পয়েন্টে নোঙর করে অবস্থান করবে। এখান থেকে শুরু হয়ে আগামী টানা ৩ মাস ব্যাপি উপকূলীয় গড়ইখালী ইউনিয়নসহ আশেপাশের বিভিন্ন ইউনিয়নের সুবিধাবঞ্চিত, দুস্থ ও প্রবীণ মানুষকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ওষুধ ও ডায়াগনস্টিক সুবিধাসহ বিস্তৃত চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হবে।
হাসপাতালে প্রাপ্ত সেবা চিকিৎসাসমূহ:
মেডিসিন বিভাগ: সাধারণ ও জটিল শারীরিক অসুস্থতার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে পরামর্শ ও চিকিৎসা।
গাইনি ও স্ত্রী রোগ বিভাগ: প্রসূতি মা ও নারীদের বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা, পরমর্শ এবং যত্ন।
দন্ত (দাঁত) বিভাগ: দাঁত ও মুখের সুরক্ষায় আধুনিক সরঞ্জাম দ্বারা বিশেষজ্ঞ ডেন্টাল সেবা।
চক্ষু (চোখ) বিভাগ: চোখ পরীক্ষা, ভিশন টেস্ট এবং চোখ সংক্রান্ত পরামর্শ ও চিকিৎসা।
বিনামূল্যে ওষুধ ও টেস্ট: রোগীদের প্রয়োজনীয় মৌলিক ও অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিতরণ এবং প্রয়োজনীয় প্রাথমিক ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুবিধা।
অনুষ্ঠানে ভাসমান হাসপাতাল পরিচালনাকারী টিমের পক্ষে বিশেষ অতিথি ও কর্মকর্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. সায়েম, হাসপাতালের অ্যাডমিন শাহ আলম, প্রজেক্ট ম্যানেজার ফিরোজ আক্তার, ইঞ্জিন ড্রাইভার আব্দুল আওয়াল এবং মাস্টার আজম খান।
এছাড়াও উক্ত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আমিনুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা জিএম বুলবুল আহমেদ, সেক্রেটারি মাওলানা আলতাফ হোসেন, গড়ইখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিএম আব্দুস সালাম কেরু, ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর কামরুল ইসলাম এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমানসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা, স্থানীয় সুধীজন ও এলাকাভিত্তিক বিপুল সংখ্যক সাধারণ সেবাগ্রহীতা।
উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথি সহ আমন্ত্রিত অতিথিরা ভাসমান হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে আসা স্থানীয় মানুষের খোঁজখবর নেন। উপকূলীয় অঞ্চলে এ ধরনের আধুনিক চিকিৎসা সেবা চালু হওয়ায় স্থানীয় অধিবাসীদের মাঝে ব্যাপক আনন্দ ও স্বস্তি ছড়িয়ে পড়েছে।

