বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩
শিরোনাম:
ধুনটে প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের এলডিডিপি প্রকল্পের কর্মকর্তাদের বিদায় সংবর্ধনাগাজীপুরে স্মার্টফোনের স্ক্রিনে সমাজ বদলের স্বপ্নসাভারে ট্রাফিক পুলিশের ‘পকেট ভারী’, পাকিজা মোড়ে সাধারণ মানুষের ‘গলার কাঁটা’ তীব্র যানজটহিলিতে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনমিয়ানমারে পাচারের চেষ্টা: উখিয়ায় বিজিবির অভিযানে ৯০ বস্তা সার ও ৮০ লিটার তেল উদ্ধারউখিয়ায় ৩ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক রোহিঙ্গা আসামি আইয়ুব আলী গ্রেপ্তার!‎উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করলেন স্বাস্থ্য সচিব, মডেল হাসপাতালে রূপান্তরের প্রত্যয়আশুলিয়ায় ইউপি সচিব আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়সাভারে অবৈধভাবে ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা উৎপাদন: হুমকির মুখে জনস্বাস্থ্য ও কৃষিজমিগাজীপুরে অসহায় দুঃস্হ ও সুবিধাবঞ্চিত ৩৫০ জনকে এাণ সামগ্রী বিতরনগাজীপুরে হঠাৎ করে স্হায়ীভাবে বন্ধ ঘোষনা- ২ কারখানা দিশেহারা প্রায় ১৮ শত শ্রমিকহিলিতে বিএনপির মোটরসাইকেল শোডাউনগাজীপুরে ব্রাজিল বনাম আর্জেন্টিনা প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত‎আগামী ২৮ জুন জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন: উখিয়ায় উপজেলা এডভোকেসী ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিতনাইক্ষ্যংছড়ি থানা পরিদর্শনে অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হক, দিলেন গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা

নিউজ ফাইভ

এখনো পরিচয় করাইনি

অনলাইন ডেস্ক ।। প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৩, ৩:০৬ অপরাহ্ণ
এখনো পরিচয় করাইনি
২৪৭

আমি খুব সাধারণ মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়ে রিয়া। আজ আমার অষ্টম মঙ্গলা। মনটা আমার বেশ খুশি খুশি এটা কখনোই বলতে পারবো না। না, আপনারা যা ভাবছেন ভুল। আপনারা বলবেন বিয়েটা তো আমি নিজেই নিজের ইচ্ছেয় করেছি তাহলে আপত্তিটা কোথায়?

যেটুক খুশি আমায় দেখছেন সেটা আমি বাপের বাড়ি যাচ্ছি বলে শুধু মনটা খুশি। কিন্তু আগামী পরশু আমি আর আমার বর বাবাজীবন যাচ্ছি প্রথমবার একসাথে ঘুরতে থুড়ি মধুচন্দ্রিমা যাপনে। তাই এতো চিন্তা। আসলে অভি আমার ফোনে কথা বলছে না ঠিক মতো সেই বিয়ে দিন থেকে। অথচ ওর কথা বিয়েটা আমি করলাম।

ও হ্যাঁ ভুলেই গেছি, আপনাদের সাথে তো আমার বরের এখনো পরিচয় করাইনি। আমার বর বুবাই দা। আমাদের পরিচয় প্রায় সাত বছর হতে চলল। সেই যখন ক্লাস নাইন আমি যাচ্ছিলাম ঝড়ের বেগে সাইকেল চালিয়ে টিউশন পড়তে। তখন আমি সাইকেল চালানোতে ছেলেদেরও হার মানাই। তো সেই ঝড়ের বেগের সাইকেল এ ধাক্কা লাগলো এক শান্ত সৌম্য নিরীহ ছেলের। সেই ছেলেটিই এই আমার পতিদেব মিস্টার মানব মন্ডল। বিদেশে চাকরি করে কিছু পয়সা-করি করে আজ আমাকে বিয়ে করে জীবনে সবচেয়ে বড় কিছু পাওয়া হয়ে গেছে বলে দাবি করছে।

আজকাল বুবাই হাসতে হাসতে বলে “ধাক্কাটা সেদিন শরীরে লেগেছিল না হৃদয়ে কে জানে”। যাক গে ওর কথা বাদ দিন। তো সেই ঘটনার পর অনেক ওঠানামা আর ভুল বোঝাবুঝি ঠিক বোঝাবুঝির পর আজ আমাদের অষ্টম মঙ্গলা। সে গল্প না হয় আর এক দিন করব। ফিরে আসি আজকের দিনে। আমার অনেক দিনের স্বপ্ন ছিল যে আমি অভি সাথে হানিমুন যাবো পাহাড়ে। আমার এই ‘আপাত শান্ত মনের দুরন্ত’ বর কে নিয়ে একটু ঘুরতে যাবো।

কিন্তু অভি ফোন ধরছে না কেন? ও বলেছিলো দার্জিলিং যে হোটেলটা ও বুকিং করেছে সেটা ওর বিশেষ জানাশোনা। বুবাই এর গল্পটি ওখানে শেষ করে আমি ওর সম্পত্তিতে রাজ করবো। আমি রাজি হয়ে গিয়েছিলাম কিন্তু এখন মনটা মানছে না। একটা মানুষের জীবন শেষ করে দেবো, লোকটা তো আমাকে পাগলের মতো ভালোবাসে।

যাক বাঁচা গেলো আজ আমার জন্মদিন। সারপ্রাইজ হিসেবে একটা দলিল উপহার দিয়েছেন বুবাই আমাকে। লাটাগুড়িতে একটা কটেজ কিনেছেন উনি আমার জন্য হানিমুনে যাবো আমরা ওখানেই। সারাদিন বেশ ভালো কাটলো কিন্তু মন খারাপ হলো বিকাল বেলায়।

আমার আর উনার মামাতো বোন অয়ন্তিকার জন্মদিন এক দিনে বিকালে একটা সারপ্রাইজ পার্টি আয়োজন করা হয়েছিল। আর সেখানেই আমার জন্য ছিলো আরো একটা সারপ্রাইজ। অভি আর অয়ন্তিকার এঙ্গেজমেন্ট। অথচ আমাদের বিয়েতেই ওদের আলাপ। শিল্পপতির মেয়ে বলে বোধহয় অতো তাড়াতাড়ি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে অভি।

বাড়ি ফিরে মনটা কিছুতেই ভালো করতে পারলাম না। শুয়ে পরলাম। উনি বললেন “তোমার মোবাইলটা দেবে একটু একটা গেমস খেলবো। দিয়ে দিলাম।” কি ধরণের মানুষ এই লোকটি কে জানে! কি ধাতুর তৈরি কে জানে? আজ উনি অভি আর আমার ঝগড়াটা দেখেছেন। অভি স্পষ্ট বলেছে, আমি বুবাইকে ঠকিয়েছি তাই ও আমাকে ঠকিয়ে কোনো ভুল করেনি।

সকাল বেলায় উঠে আরো একটা সারপ্রাইজ। অভি আয়ন্তিকাও আসলো আমাদের সাথে। দিনটা ভালো কাটলো। মানে আমি চেষ্টা করলাম সব কিছু ভুলে নতুন করে শুরু করতে। অভি বোধহয় আমাকে কোনদিন ভালোবাসে নি। ও বেশ নির্লিপ্ত। অয়ন্তিকাকে খুশি করতে ব্যাস্ত। আয়ন্তিকা হঠাৎ ঠিক করলো বাইক রেসিং করবে। আমি আপত্তি করলাম ঠিকই কিন্তু বুবাই এর ওপর জোর খাটানোর অধিকার বোধহয় আমার হয়নি এখনো। তাই বেশি জোর ফলাতে চাইলাম না। তবে মনে মনে চাইলাম একটা দিনের জন্যে হিরো হোক সবার চোখে।

কিন্তু রেসিং কোন ফল এলোনা। কারণ অভি এক্সিডেন্ট করলো। সন্ধ্যায় অয়ন্তিকা এলো সাথে এলো চাকর ভাবলারাম। জানতে পারলাম ভ্যাবলারাম আসলে অয়ন্তিকার বন্ধু রাজীব সিনহা পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। অভির মোবাইল থেকে, আমার ছাড়াও আরো ছয় সাতটি মেয়ের আপত্তিকর ভিডিও , ছবি ডিলিট করা হয়েছে। যাদেরকে ও নিয়মিত ব্লাকমেইল করতো। অভি হয়তো বাঁচবে না। বেঁচে গেলেও আইনের হাত থেকে ওর রক্ষা নেই, কারণ ওর ব্লেকমেইলের ভয়ে আত্মাহত্যা করছে অয়ন্তিকার বান্ধবি সোনালী। ওর চলে যেতেই বুবাই একটা গোলাপ ফুল নিয়ে আমাকে উপহার দিলো। আর বললো গোলাপটা তুলতে গিয়ে সে নাকি অনেক গুলো কাটার আঘাত পেয়েছেন। সেটা দেখালো। আমি জিজ্ঞেস করলাম “আপনি আমাকে ঠিক কতটা ভালোবাসেন”

ও বললো ” তোমার জন্য আমি জীবন দিতে পারি ,আবার নিতেও পারি।”

আমার চোখে জল এসে গেলো।

Polls

আজকের প্রশ্ন

আপনি বাংলা নিউজ টিভির পেইজে লাইক ফলো দিয়েছেন কি?

View Results

Loading ... Loading ...

ধুনটে প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের এলডিডিপি প্রকল্পের কর্মকর্তাদের বিদায় সংবর্ধনা

নাজমুল হাসান নাজির সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ২:১০ পূর্বাহ্ণ
ধুনটে প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের এলডিডিপি প্রকল্পের কর্মকর্তাদের বিদায় সংবর্ধনা

বগুড়ার ধুনট উপজেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের এলডিডিপি প্রকল্পের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ১১টায় উপজেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর অফিসে প্রধান অতিথি হিসেবে উক্ত সংবর্ধনা প্রদান করেন বগুড়া জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা: কাজী আশরাফুল ইসলাম।

ধুনট উপজেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর ও হাসপাতালের কর্মকর্তা ডা: মোছা: রেহেনা খাতুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা: নাসরিন পারভিন ও ডিটিও ডা: মামুনুর রশিদ।

উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা: আব্দুল রাকিবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিদায়ী লাইফ ষ্টক কর্মকর্তা ডা: সরলা রানী সাহা, উপ-সহকারী প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা (কৃত্রিম প্রজনন) বিশ্বজিৎ কর্মকার, মাঠ সহকারী লিটন কুমার, এআই টেকনিশিয়ান রনজু আহম্মেদ, আব্দুল মান্নান, পার্থ সেন, আব্দুল খালেক প্রমূখ।

গাজীপুরে স্মার্টফোনের স্ক্রিনে সমাজ বদলের স্বপ্ন

রাজু হাসান : স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ২:০৮ পূর্বাহ্ণ
গাজীপুরে স্মার্টফোনের স্ক্রিনে সমাজ বদলের স্বপ্ন

সকালের চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে খবরের কাগজে চোখ বোলানো কিংবা ড্রয়িংরুমে সোফায় হেলান দিয়ে টেলিভিশনের পর্দায় নজর রাখা—খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, এটিই ছিল বাঙালির প্রাত্যহিক অভ্যাসের চিরায়ত রূপ। কিন্তু সময়ের চাকা ঘুরেছে দ্রুত। প্রযুক্তির তীব্র আলোয় আজ সেই অভ্যাসে লেগেছে পরিবর্তনের হাওয়া। এখন ভোরবেলা চোখ মেলা থেকে শুরু করে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত মানুষের নিত্যসঙ্গী হাতের স্মার্টফোনটি। ফেসবুক, ইউটিউব কিংবা টিকটকের স্ক্রল করার চাকার সাথে ঘুরছে মানুষের মনন ও মস্তিষ্ক। অজান্তেই এই ছোট ছোট ভিডিও বা কনটেন্টগুলো মানুষের চিন্তাচেতনাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করছে।

ডিজিটাল যুগের এই নতুন বাস্তবতাকে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। বরং এই বিপুল শক্তিকে কীভাবে ইতিবাচক ও সামাজিক কল্যাণে রূপান্তর করা যায়, তা নিয়েই গাজীপুরে জেলা প্রশাসন এক ব্যতিক্রমী ও দূরদর্শী উদ্যোগ নিয়েছে। জেলার তরুণ ও উদীয়মান কনটেন্ট নির্মাতাদের (Content Creators) নিয়ে আয়োজন করা হয়েছিল এক প্রাণবন্ত মতবিনিময় সভা। উদ্দেশ্য একটাই—সামাজিক দায়বদ্ধতা রক্ষা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং গুজবের ভিড়ে সত্যকে তুলে ধরা।

গাজীপুর জেলা প্রশাসনের এই আয়োজনে মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল কনটেন্ট নির্মাতাদের সামাজিক দায়িত্ব। বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে বড় ব্যাধি হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘ক্লিক বেইট’ বা বিভ্রান্তিকর শিরোনাম। ভেতরের খবরের সাথে শিরোনামের কোনো মিল না রেখে ভিউ বাড়ানোর যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা, তা রুখে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয় এই সভা থেকে। পাশাপাশি কোনো তথ্য না জেনে শেয়ার বা কনটেন্ট তৈরি না করে ‘ফ্যাক্ট চেকিং’ বা তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাসের ওপর জোর দেওয়া হয়। যেকোনো প্রাকৃতিক বা সামাজিক দুর্যোগকালীন সময়ে একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর কীভাবে বিভ্রান্তি না ছড়িয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারেন, সেই দিকনির্দেশনাও উঠে আসে আলোচনায়।

মতবিনিময় সভায় গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো: নূরুল করিম ভূঁইয়া কনটেন্ট নির্মাতাদের উদ্দেশ্যে এক অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, *”মানুষ তার কর্মের মাধ্যমেই সমাজে পরিচিতি লাভ করে।”*

তিনি সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সবসময় সঠিক তথ্য উপস্থাপনের পাশাপাশি কনটেন্টের ‘ফর্মিং অ্যান্ড ফ্রেমিং’ (Forming & Framing) বা উপস্থাপনার কৌশলের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। শুধু বিনোদনই নয়, কনটেন্ট ক্রিয়েশনকে কীভাবে মূলধারার একটি লাভজনক ও সম্মানজনক পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যায়, সেই স্বপ্নও দেখান তিনি।

বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বিশ্বখ্যাত কৌতুক অভিনেতা চার্লি চ্যাপলিন এবং বাংলাদেশের বিনোদন জগতের জীবন্ত কিংবদন্তি, ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র পরিকল্পনাকর্তা ও উপস্থাপক হানিফ সংকেতের উদাহরণ টেনে আনেন। তিনি দেখিয়ে দেন, কীভাবে নিছক কৌতুক বা বিনোদনের আড়ালে সমাজে অত্যন্ত শক্তিশালী ও গভীর ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। তবে এর জন্য প্রয়োজন মেধা এবং ভিডিও ও অডিওর সঠিক সামঞ্জস্য। কেবল কথার কথা নয়, গাজীপুরের এই তরুণ নির্মাতাদের দক্ষতাকে আরও শাণিত করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি দিনব্যাপী বিশেষ কর্মশালা (Workshop) আয়োজনের দারুণ এক সুখবরও দেন জেলা প্রশাসক।

ডিজিটাল দুনিয়ার এই নতুন কারিগরদের উৎসাহিত করতে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব ও এলএ) জনাব মো: সোহেল রানা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জনাব মো: শাহরিয়ার নজির এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জনাব এম. রকিবুল হাসানসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিবৃন্দ।

প্রযুক্তির এই জোয়ারে গা ভাসিয়ে না দিয়ে, বরং তাকে শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করে একটি সুন্দর সমাজ বিনির্মাণের যে বার্তা গাজীপুর জেলা প্রশাসন দিল, তা সত্যি প্রশংসনীয়। এখন দেখার অপেক্ষা, গাজীপুরের কনটেন্ট নির্মাতারা তাদের ক্যামেরার লেন্সে কীভাবে এই ইতিবাচক পরিবর্তনের গল্পগুলো বুনে চলেন।

সাভারে ট্রাফিক পুলিশের ‘পকেট ভারী’, পাকিজা মোড়ে সাধারণ মানুষের ‘গলার কাঁটা’ তীব্র যানজট

​নাজমুল হাসান নাজির সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ২:০২ পূর্বাহ্ণ
সাভারে ট্রাফিক পুলিশের ‘পকেট ভারী’, পাকিজা মোড়ে সাধারণ মানুষের ‘গলার কাঁটা’ তীব্র যানজট

সাভারের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাকিজা মোড় এবং তৎসংলগ্ন ইউ-টার্ন এলাকাটি এখন সাধারণ চালক ও পথচারীদের জন্য এক আতঙ্কের নাম। অভিযোগ উঠেছে, পাকিজা মোড় পুলিশ বক্সের কতিপয় ট্রাফিক পুলিশ ও সার্জেন্টের বেপরোয়া চাঁদাবাজি এবং অব্যবস্থাপনার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ মোড়টিতে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে কৃত্রিম ও তীব্র যানজট। বৈধ কাগজপত্র থাকার পরেও সাধারণ চালকদের মামলার ভয় দেখিয়ে পকেট কাটার এক রমরমা বাণিজ্য চলছে এখানে, যা এখন পুরো সাভারবাসীর ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

​সরেজমিনে এবং ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পাকিজা মোড়ের ইউ-টার্নটি ব্যবহার করে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন যাতায়াত করে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, কতিপয় ট্রাফিক কর্মকর্তা সুনির্দিষ্ট কিছু গাড়িকে অনৈতিক সুবিধা দিতে গিয়ে কিংবা চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গাড়ি থামিয়ে রাখেন। এর ফলে পেছনে থাকা শত শত যানবাহন সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যেই পুরো ইউ-টার্ন এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। দূরপাল্লার বাস থেকে শুরু করে লোকাল বাস, মিনিবাস ও পণ্যবাহী ট্রাক—কোনোটিই এই কৃত্রিম জটলা থেকে রেহাই পাচ্ছে না।

​সবচেয়ে ভয়ংকর অভিযোগ উঠেছে নিয়ম মেনে চলা চালকদের পক্ষ থেকে। একাধিক মোটরসাইকেল আরোহী, সিএনজি চালক এবং ব্যক্তিগত গাড়ির মালিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গাড়ির ফিটনেস, লাইসেন্সসহ সব ধরনের বৈধ কাগজপত্র ঠিক থাকার পরেও ট্রাফিক পুলিশ বক্সে নিয়ে গিয়ে নানা অজুহাতে হয়রানি করা হয়।

​এক ভুক্তভোগী চালক জানান, “কাগজপত্র সব আপডেট থাকার পরও সার্জেন্টরা এমন ভাব দেখান যেন বড় কোনো অপরাধ করেছি। শেষমেশ মোটা অঙ্কের টাকা না দিলে অযৌক্তিক মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। বাধ্য হয়েই আমাদের পকেটের টাকা খোয়াতে হচ্ছে।”

​এই চাঁদাবাজির সিন্ডিকেটের কারণে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে সাভারের সাধারণ মানুষ, চাকরিজীবী ও শিক্ষার্থীদের। বিশেষ করে অফিস বা স্কুল-কলেজের সময়ে এই ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। মহাসড়কের মতো একটি জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রকাশ্যে এমন চাঁদাবাজি এবং সাধারণ মানুষকে জিম্মি করার ঘটনায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

​সচেতন মহলের দাবি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অবিলম্বে এই পুলিশ বক্সের কতিপয় কর্মকর্তার অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর তদন্ত করা উচিত। সাভারের প্রবেশদ্বারকে যানজট ও দুর্নীতিমুক্ত করতে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ না নিলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও প্রকট আকার ধারণ করবে।