মশিয়ার রহমান, নীলফামারী প্রতিনিধিঃ
/ ১৬৯
বার দেখা হয়েছে
আপডেট
রবিবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৪
শেয়ার
Views: 4
নীলফামারী জেলার নীলফামারীর জলঢাকায় ভুট্টার বাম্পার ফলন এবং বাজারে দাম বেশি হওয়ায় এই ফসল চাষে ঝুঁকছেন কৃষকেরা।উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে ২ হাজার ৬শত ১০ হেক্টরে ভুট্টা আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে ৩ হাজার ৬শত ৭৮ হেক্টর জমিতে ভুট্টার ফলন খুব ভালো হয়েছে জানা গেছে। উপজেলার শৌলমারী, ডাউয়াবাড়ী ও গোলমুন্ডা ইউনিয়ানের চর এলাকা এবং অন্যান্য প্রায় সকল ইউনিয়নের উচুঁ জমিতে ভুট্টার চাষ করা হয়েছে। ভুট্টা চাষে প্রাকৃতিক দুর্যোগের তেমন একটা প্রভাব পড়ে না, এ ছাড়া, কম খরচে ভুট্টা চাষ করে লাভ বেশি পাওয়া যায়।
তাই প্রতি বছর ভুট্টার চাষ বেড়েছে। অফিস সুত্রে আরও জানা যায়, পৌরসভা সহ ১১টি ইউনিয়নে ৪৮টি ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে উপজেলার চাষিদের ভুট্টা চাষের নানা পরামর্শ দেওয়া হয়। হাইব্রিড (উচ্চ ফলনশীল) জাতের ভুট্টার চাষকে জনপ্রিয় করে তোলার জন্য রাজস্ব ক্ষাতের আওতায় চলতি অর্থ বছরে কয়েকটি প্রদর্শনীর মাধ্যমে উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্দোগে চাষিদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে। গোলনা ইউনিয়নের চিড়া ভিজা গোলনা (নদীর পাড়) গ্রামের কৃষক মমিনুর রহমান বলেন, আমি ১৪ বিঘা (৩০ শতাংশ বিঘা) জমিতে হাইব্রিডসহ বিভিন্ন জাতের ভুট্টার চাষ করেছি।
আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ফলন খুব ভাল হয়েছে। বিঘায় ৭-৮ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। প্রতি বিঘা জমিতে ৩৫-৪০ মণ ভুট্টা উৎপাদন হবে বলে আশা করছি। এতে বিঘা প্রতি ১৫-১৬ হাজার টাকা লাভ হবে। একই আশাবাদ ব্যক্ত করেন, গোলমুন্ডা ইউনিয়নের ভাবনচুর চর ভরট এলাকার কৃষক কবির হোসেন ৫ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেন। তিনি বলেন, চর এলাকায় আমরা বছরে একটি ফসল চাষ করি তা হলো ভুট্টা। এবারে ভুট্টার ফলন ভাল হয়েছে এবং বাজরে দাম মোটামুটি ভালো। উৎপাদন খরচ বাদ দিলে লাভ ভালই হবে। একই গ্রামের কৃষক আব্দুল গফুর বলেন, ৫০ শতাংশ জমিতে ভুট্টা চাষ করেছি। ভুট্টা ফলন খুই ভাল হয়েছে। আশা করছি ৬০-৬৫ মণ ভুট্টা হবে। বাজারে দাম বেশি থাকায়, খরচ বাদ দিলে লাভ ভাল হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুমন আহম্মেদ জানান, কৃষককে ভুট্টা চাষে সঠিক পরামর্শ, জমিতে সার, বীজ ও ওষুধ ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। ভুট্টা চাষে পানির খরচ কম লাগা, রোগ বালাই কম হওয়া, দাম বেশি পাওয়া এবং ফলন বেশি হওয়া, এই চারটি কারনে জলঢাকার কৃষকগণ দিন দিন ভুট্টা চাষে ঝুঁকে পড়ছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ফলন অধিক হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।