Views: 0
মধ্যপ্রাচ্যের অশান্ত রাজনীতিতে স্বস্তির সুবাতাস বইয়ে দিয়ে ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে ঘোষিত ১০ দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর এই যুদ্ধবিরতিকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করে তিনি সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে চুক্তির শর্তাবলী পূর্ণ সম্মানের সঙ্গে মেনে চলার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) বৈশ্বিক এই শান্তি প্রচেষ্টাকে ঘিরে জাতিসংঘ প্রধানের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সংবাদ সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে বিশ্ববাসীর সামনে আসে।
জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলেন, ইসরাইল ও লেবাননের সীমানায় সংঘাত নিরসনে ১০ দিনের এই বিরতি গুতেরেসের কাছে অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। বিশেষ করে এই শান্তি চুক্তি সম্পাদনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বলিষ্ঠ ও মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার উচ্চকিত প্রশংসা করেছেন তিনি। মহাসচিব মনে করেন, এই সাময়িক বিরতি কেবল অস্ত্রের গর্জনই থামাবে না, বরং এটি চলমান চরম উত্তেজনা ও সংঘাতের মাত্রা কমিয়ে আলোচনার টেবিলে একটি স্থায়ী এবং টেকসই সমাধানের পথ প্রশস্ত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
আন্তোনিও গুতেরেস তাঁর বক্তব্যে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার ওপর বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, সব পক্ষকে এই যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি ও শর্তহীনভাবে মেনে চলতে হবে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন বা ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যানিটেরিয়ান ল’ অনুসরণ করা এখন সময়ের দাবি। তাঁর এই কড়া বার্তা কেবল ইসরাইল ও লেবানন রাষ্ট্রের প্রতি নয়, বরং ওই অঞ্চলে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর ক্ষেত্রেও সমভাবে প্রযোজ্য হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুদ্ধের ভয়াবহতায় সাধারণ বেসামরিক মানুষের জানমালের যে ক্ষতি হচ্ছে, তা রোধে এই বিরতিটি একটি সুবর্ণ সুযোগ। গুতেরেস বিশ্বাস করেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো যদি রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রদর্শন করে, তবে এই ১০ দিনই হতে পারে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রথম ধাপ। জাতিসংঘ এই প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে সক্রিয় থাকবে বলেও বিবৃতিতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
ইসরাইল ও লেবাননের এই যুদ্ধবিরতি বিশ্ব শান্তির জন্য একটি বড় পরীক্ষা। আন্তোনিও গুতেরেসের এই আহ্বান যদি পক্ষগুলো গুরুত্বের সাথে নেয়, তবেই কেবল মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে শান্তির সূর্য উদিত হওয়া সম্ভব।
আরও পড়ুন: ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার সংঘাতের ইতিহাস ও বর্তমান পরিস্থিতি