শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০৩:৫৮ অপরাহ্ন

আরব আমিরাতে ইরানের বড় হামলা: ৯টি মিসাইল ও ১০৯টি ড্রোন ধ্বংসের দাবি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: / ৭ বার দেখা হয়েছে
আপডেট শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬

Views: 4

৩৪

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাতের আঁচ এবার এসে লেগেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর। আজ শুক্রবার (৬ মার্চ) ইরান থেকে ধেয়ে আসা একঝাঁক ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশপথেই ধ্বংস করার দাবি করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির বরাত দিয়ে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, শনাক্ত করা ৯টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সবকটিই নিখুঁতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার এই সাফল্যের মাধ্যমে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করছে দেশটি।

মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ইরানের পক্ষ থেকে মোট ১১২টি ড্রোন সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভূখণ্ডের দিকে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। এর মধ্যে আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী ১০৯টি ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত ও ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। তবে বাকি তিনটি ড্রোন দেশের অভ্যন্তরে আঘাত হেনেছে বা পড়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। এই হামলার ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্টভাবে জানানো না হলেও, এটি যে একটি পরিকল্পিত বড় ধরনের আক্রমণ ছিল তা স্পষ্ট। ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই এই অঞ্চলে অস্থিরতা চরম আকার ধারণ করেছে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব এখন আমিরাতের ওপর দেখা যাচ্ছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, তাদের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো ধরণের বহিরাগত হুমকি মোকাবিলায় সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত রয়েছে। দেশের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব, স্থিতিশীলতা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় তারা তাদের সামরিক প্রস্তুতি ও সক্ষমতা প্রতিনিয়ত বাড়িয়ে চলেছে। যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমিরাত যে কোনো ছাড় দেবে না, সেই বার্তাই পুনর্ব্যক্ত করেছে দেশটির সামরিক নেতৃত্ব। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই হামলা আমিরাতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাত শুরুর পর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর হওয়া বিভিন্ন হামলায় এ পর্যন্ত তিনজনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। আজকের এই ব্যাপক ড্রোন ও মিসাইল হামলা সেই উত্তেজনার পারদকে আরও উসকে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে এই পাল্টাপাল্টি হামলা বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। আমিরাত সরকার বর্তমানে মিত্র দেশগুলোর সাথে সমন্বয় রেখে তাদের আকাশসীমা সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ পরিস্থিতির বিস্তার এখন কেবল প্রধান পক্ষগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর নিরাপত্তাকেও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আজকের হামলায় কার্যকরী প্রমাণিত হলেও, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এখন বিশ্ব রাজনীতির বড় চ্যালেঞ্জ।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও
Popular Post
Last Update
PhotoCard Icon
Create PhotoCard