শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৩৫ অপরাহ্ন

ইতালির স্বপ্ন দেখিয়ে লিবিয়ায় জিম্মি: সুনামগঞ্জে মানব পাচার মামলা
সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি / ১১ বার দেখা হয়েছে
আপডেট বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
ভুক্তভোগীর পরিবার
ভুক্তভোগীর পরিবার

Views: 3

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে ইতালি পাঠানোর প্রলোভনে এক যুবককে লিবিয়ায় জিম্মি করে ২২ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এই নৃশংস জালিয়াতি ও মানব পাচারের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ভুক্তভোগী এমরান হোসেন আদিলের স্ত্রী মোছা. সজুনা আক্তার খাদিজা বাদী হয়ে সুনামগঞ্জ মানব পাচার ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় মোছা. শোবি বেগম, মনফর আলী, শামছুল ও মেসকার মিয়াসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্রকে আসামি করা হয়েছে। বর্তমানে এই ঘটনাটি জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, আসামিরা ভুক্তভোগী এমরান হোসেন আদিলকে ইতালিতে স্থায়ী বসবাসের ভিসা এবং উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ২২ লক্ষ টাকার চুক্তিতে রাজি করান। এই প্রলোভনে প্রলুব্ধ হয়ে আদিল ও তার পরিবার দালালের হাতে প্রথমে ৩ লক্ষ টাকা ও পাসপোর্ট তুলে দেন। এরপর আসামিরা তাকে বৈধ পথে ইতালিতে না পাঠিয়ে চেন্নাই ও শ্রীলঙ্কা হয়ে লিবিয়ায় পাচার করে। লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর থেকেই আদিলের জীবনে নেমে আসে চরম বিভীষিকা। সেখানে আসামিদের নিজস্ব লোকবল তাকে প্রায় দেড় মাস একটি গোপন স্থানে জিম্মি করে রাখে এবং শারীরিক নির্যাতন চালায়।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, আদিলকে লিবিয়া থেকে ইতালি পাঠানোর নাম করে চক্রটি বাদীর কাছ থেকে দফায় দফায় আরও ১৯ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। নিরুপায় হয়ে খাদিজা তার আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে এবং স্বামীর আজীবনের জমানো অর্থ মিলিয়ে ৫ লক্ষ টাকা ব্যাংকের চেকের মাধ্যমে এবং ১৪ লক্ষ টাকা নগদ প্রদান করেন। টাকা পাওয়ার পর প্রধান আসামি মোছা. শোবি বেগম স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা দিলেও আদিলকে ইতালিতে না পাঠিয়ে লিবিয়ার মাফিয়াদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

পরবর্তীতে পাচারকারী চক্রটি বাদীর মোবাইল ফোনে জানায় যে, আদিল লিবিয়ার ভয়ঙ্কর মাফিয়া চক্রের হাতে বন্দি রয়েছে এবং তাকে জীবিত উদ্ধার করতে হলে আরও ৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। মুক্তিপণ না দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় এবং আদিলকে নির্মমভাবে মারধর করার ভিডিও চিত্র বাদীর কাছে পাঠানো হয়। স্বামীর প্রাণ বাঁচাতে আত্মীয়-স্বজনদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে আরও ৫ লক্ষ টাকা জোগাড় করে তুলে দেন খাদিজা। সব মিলিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ খুইয়েও এখন পর্যন্ত স্বামীর কোনো সন্ধান পাননি তিনি।

বাদীর নিযুক্ত আইনজীবী অ্যাডভোকেট রমজান আলী জানান, মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে মাননীয় আদালত জগন্নাথপুর থানাকে বিষয়টিকে এফআইআর হিসেবে গণ্য করে নিয়মিত মামলা রুজু করার নির্দেশ দিয়েছেন। দালালের খপ্পরে পড়ে নিঃস্ব হওয়া পরিবারটি এখন এমরান হোসেন আদিলকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পেতে প্রশাসনের জরুরি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছে।

বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে সরকারি বৈধ মাধ্যম ব্যবহার না করে দালালের ওপর ভরসা করায় এমন মর্মান্তিক ঘটনা বারবার ঘটছে। এই চক্রটিকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা এখন সময়ের দাবি।

আরও পড়ুন

নবীগঞ্জে ছাত্রীর ছবি তোলা নিয়ে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৩০

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও
Popular Post
Last Update