Views: 0
“সেবার ব্রতে চাকরি” এই মহান আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করে রাজশাহী জেলায় শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নিয়োগের বিশাল কর্মযজ্ঞ। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল ২০২৬) সকাল ৭:০০ ঘটিকা থেকে রাজশাহী জেলা পুলিশ লাইনস্ মাঠে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল পরিবেশে প্রথম দিনের শারীরিক মাপ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাইকরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি ও রাজশাহীর পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান-এর সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই নিয়োগ প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হচ্ছে। স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনের এই তৎপরতা চাকরিপ্রার্থীদের মাঝে ব্যাপক আশার সঞ্চার করেছে।
নিয়োগ কার্যক্রমের শুরুতেই পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান উপস্থিত কয়েক হাজার প্রার্থীর উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন যে, বাংলাদেশ পুলিশে নিয়োগের ক্ষেত্রে একমাত্র যোগ্যতা হলো মেধা, দক্ষতা এবং শারীরিক সক্ষমতা। এখানে কোনো ধরণের অবৈধ লেনদেন বা তদবিরের সুযোগ নেই। তিনি প্রার্থীদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে বলেন, কোনো প্রকার প্রতারক বা দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে যেন কেউ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন না হন। পুলিশ সুপার মহোদয় সতর্ক করে দিয়ে বলেন, নিয়োগের নামে কেউ টাকা দাবি করলে তৎক্ষণাৎ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে অবহিত করতে হবে।
প্রথম দিনের এই কার্যক্রমে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের প্রতিনিধিগণ, রাজশাহী জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং নিয়োগ বোর্ডের সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন। অত্যন্ত নিখুঁতভাবে প্রতিটি প্রার্থীর উচ্চতা, বুকের মাপ ও ওজন পরীক্ষা করা হয় এবং তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথি যাচাই করা হয়। ডিজিটাল ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় প্রতিটি ধাপ সম্পন্ন করতে নিয়োগ কার্যক্রমে নিয়োজিত সকল পর্যায়ের পুলিশ সদস্যগণ অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত যোগ্য ও দেশপ্রেমিক তরুণরাই বাংলাদেশ পুলিশের গর্বিত সদস্য হওয়ার সুযোগ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
রাজশাহী জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিয়োগের এই প্রাথমিক ধাপগুলো সম্পন্ন হওয়ার পর প্রার্থীদের উচ্চতর শারীরিক পরীক্ষা ও লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। আধুনিক ও স্মার্ট পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রতিটি পদক্ষেপে শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখা হচ্ছে। প্রথম দিনের কার্যক্রম শেষে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের মাঝে উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। জেলা পুলিশের এই কঠোর অবস্থান এবং দালালমুক্ত নিয়োগের প্রতিশ্রুতি সাধারণ মানুষের কাছে পুলিশের ভাবমূর্তিকে আরও উজ্জ্বল করেছে।
রাজশাহীতে পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের এই স্বচ্ছ প্রক্রিয়া মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে একটি বড় উদাহরণ। যথাযথ তদারকি ও কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এই নিয়োগ কার্যক্রম আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে বলে জেলা পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: নদী ও পরিবেশ রক্ষায় ২০ দফা দাবি: রাজশাহীতে বিশাল সমাবেশ ও মানববন্ধন