Views: 3
গাজীপুরে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। জেলার প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯০ জনে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় অভিভাবক ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আক্রান্তদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক আমিনুল ইসলাম বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিশ্চিত করে জানান, শনিবার (২৫ এপ্রিল ২০২৬) পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অদ্যাবধি মোট ৩৯০ জন হাম রোগী এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে স্বস্তির বিষয় এই যে, নিবিড় চিকিৎসা শেষে ইতোমধ্যে ৩৩৬ জন রোগী সুস্থ হয়ে নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন। কিন্তু প্রতিদিন নতুন নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় হাসপাতালের ওপর চাপ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় এই হাসপাতালে নতুন করে আরও ২৮ জন হাম আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৩ জন। বর্তমানে হাসপাতালটির বিশেষায়িত ওয়ার্ডগুলোতে মোট ৫৪ জন হাম রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতাল পরিচালক আরও জানান, রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত ঔষধ ও আনুষঙ্গিক চিকিৎসা সরঞ্জামের মজুদ নিশ্চিত করা হয়েছে, তবে সংক্রমণের হার এভাবে বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ও সংক্রামক রোগ, যা মূলত শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। শিশুদের ক্ষেত্রে এই রোগটি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। চিকিৎসকরা অভিভাবকদের প্রতি বিশেষভাবে আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় হামের টিকা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি, লালচে ফুসকুড়ি বা হামের প্রাথমিক কোনো লক্ষণ দেখা দিলেই কালক্ষেপণ না করে দ্রুত নিকটস্থ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং আক্রান্ত শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখা এই রোগ প্রতিরোধের অন্যতম উপায়।
গাজীপুর জেলাজুড়ে হামের এই ক্রমবর্ধমান সংক্রমণ রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। সঠিক সময়ে চিকিৎসা এবং টিকাদান নিশ্চিত করা গেলে এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
আরও পড়ুন