শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৩৩ অপরাহ্ন

নদী ও পরিবেশ রক্ষায় ২০ দফা দাবি: রাজশাহীতে বিশাল সমাবেশ ও মানববন্ধন
রুবেল সরকার, ব্যুরো প্রধান, রাজশাহী: / ১১ বার দেখা হয়েছে
আপডেট শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬
রাজশাহীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে নদী ও পরিবেশ রক্ষায় ২০ দফা দাবিতে মানববন্ধনের দৃশ্য।
রাজশাহীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে নদী ও পরিবেশ রক্ষায় ২০ দফা দাবিতে মানববন্ধনের দৃশ্য।

Views: 2

পদ্মা বিধৌত বিভাগীয় শহর রাজশাহীতে নদী, বৃক্ষরাজি এবং সামগ্রিক পরিবেশ সুরক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে ২০ দফা দাবিতে এক বিশাল সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল ২০২৬) সকাল সাড়ে ৯টায় নগরীর প্রাণকেন্দ্র সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে ‘নদী ও পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন, বাংলাদেশ’ এর ব্যানারে এই কর্মসূচি পালিত হয়। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হোসেন আলী পিয়ারের সঞ্চালনায় এবং সভাপতি অ্যাডভোকেট এনামুল হকের সভাপতিত্বে সমাবেশে রাজশাহীর বিশিষ্ট নাগরিক, পরিবেশবাদী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা সংহতি প্রকাশ করেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, উন্নয়নের দোহাই দিয়ে নির্বিচারে বৃক্ষনিধন বন্ধ করে পরিবেশবান্ধব টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। নগরীর অবশিষ্ট সবুজ অংশ সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি পরিবেশবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। বক্তারা আগামী এক বছরের মধ্যে রাজশাহীতে নতুন করে অন্তত এক লাখ ফলজ ও ঔষধি গাছ রোপণের মহাপরিকল্পনা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এছাড়াও শব্দদূষণ রোধে নিষিদ্ধ হাইড্রোলিক হর্ন এবং উচ্চশব্দ সৃষ্টিকারী মডিফাইড মোটরসাইকেলের ব্যবহার বন্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের দাবি তোলা হয়।

পরিবেশ সুরক্ষায় বক্তারা প্লাস্টিক দূষণ বন্ধে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক নিষিদ্ধ এবং উন্মুক্ত ড্রেনের পরিবর্তে স্বাস্থ্যসম্মত আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। কৃষি জমি রক্ষায় যত্রতত্র পুকুর খনন বন্ধে ‘ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ আইন’ কার্যকর করার দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, নগরবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে অন্তত ২০০ শয্যাবিশিষ্ট একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালু করা প্রয়োজন। বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ, ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়া বন্ধ এবং নদী-খাল-বিলের অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে প্রাকৃতিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার দাবিও সমাবেশে জোরালোভাবে উঠে আসে।

রাজশাহীর অস্তিত্ব রক্ষার আন্দোলন পদ্মা নদীকে কেন্দ্র করে আবর্তিত উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, আইইউসিএন (IUCN) এর গবেষণা অনুযায়ী ২০৪১ সালের মধ্যে পদ্মা নদী বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে। আগামী ডিসেম্বর ২০২৬-এ ফারাক্কা চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে, যা বাংলাদেশের জলবায়ুতে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। এ অবস্থায় পদ্মা, মহানন্দা, বারানই ও নারদসহ সকল আঞ্চলিক নদী পুনরুদ্ধার এবং অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা জরুরি। বরেন্দ্র অঞ্চলের জন্য পৃথক পানি ব্যবস্থাপনা ও ‘বরেন্দ্র উন্নয়ন বোর্ড’ গঠনের পাশাপাশি নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দেওয়া হয়।

পরিশেষে বক্তারা বিষমুক্ত কৃষি ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার বন্ধ এবং ভূগর্ভস্থ পানির পরিবর্তে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বৃদ্ধির আহ্বান জানান। সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা ‘নদী বাঁচাও, পরিবেশ বাঁচাও, রাজশাহী বাঁচাও’ স্লোগানে মানববন্ধন করেন। তারা রাজশাহীর সকল সামাজিক সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনকে আরও বেগবান করার আহ্বান জানান।

রাজশাহীর নদী ও পরিবেশ আজ অস্তিত্ব সংকটে। ২০ দফা দাবির এই আন্দোলন কেবল একটি সংগঠনের নয়, বরং এটি নগরবাসীর প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে গ্রিন সিটি হিসেবে পরিচিত এই জনপদ আগামীতে এক মহাবিপর্যয়ের মুখে পড়বে।

আরও পড়ুন:

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও
Popular Post
Last Update